পাবনার বেড়া উপজেলায় গ্রন্থাগারিকসহ এক বিদ্যালয়ের ৪৫ শিক্ষার্থীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১৯ মে) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে কাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। তাদের বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে ম্যাস হিস্টেরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বলে ধারণা করছি। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, গতকাল হঠাৎ গ্রন্থাগারিকসহ ৪৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এভাবে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাটি প্রথম দেখা যায় গত রবিবারে। সেই দিন বেলা ২টার দিকে সাত ছাত্রী হঠাৎ করেই অসুস্থ বোধ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যায়। রবিবারের বিষয়টিকে শিক্ষক-অভিভাবকেরা অনেকটা স্বাভাবিক হিসেবেই নিয়েছিলেন।
তবেশিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ঢোকার পর থেকে আগের দিনের মতো অসুস্থ বোধ করতে থাকে। একপর্যায়ে অ্যাসেম্বলি চলাকালে অসুস্থ হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়ে যায়। এ সময় ভয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা দৌড়ে শ্রেণিকক্ষে চলে যায় এবং সেখানে তারা অসুস্থ হতে থাকে। তাদের বেশির ভাগই চেতনা হারিয়ে ফেলে। এভাবে এক গ্রন্থাগারিকসহ ৪৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অসুস্থদের মাথায় পানি ঢালতে থাকে। খবর পেয়ে অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। এরপর শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কাশিনাথপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। তাদের অধিকাংশ বাড়ি ফিরে গেছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলে, ‘ক্লাসে ঢোকার পর মাথা ঘুরতে থাকে ও বমি বমি ভাব হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তবে এখন কিছুটা ভালো লাগতেছে।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আজ (সোমবার) ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে পেলে। এতে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে, তা বলতে পারছি না।’
এদিকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল থেকে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় ও তিনজনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া তিন শিক্ষার্থী এখন অনেকটাই সুস্থ।’