ফরিদপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী শান্তাকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসাদ ওরফে বাচ্চু (৪৩) রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর রাতের কোনো এক সময় যৌতুকের জন্য নিজ স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা করেন আসাদ। এর পর লাশ ফেলে পালিয়ে যান তিনি। পরে ২৮ অক্টোবর ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় নিহতের মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, মৃত্যুর তিন মাস আগে আসাদ তার মেয়েকে বিয়ে করেন। এর পর যৌতুকের জন্য চাপসহ নির্যাতন করলে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে আসাদ নিজের দোষ স্বীকার করে পুনরায় তার স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এর পর সদর উপজেলার ডিগ্রিচর ইউনিয়নের দিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের এমবিআই অ্যাগ্রো ফার্মে স্বামী-স্ত্রী মিলে চাকরি শুরু করেন। সেখানে পুনরায় যৌতুক নিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন শুরু করেন আসাদ। এর জেরে ২৫ অক্টোবর স্ত্রীকে হত্যা করেন আসাদ। পরে পুলিশ ২৬ অক্টোবর সকালে সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। মামলাটিতে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। সব আলামত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে যৌতুক লোভী মানুষের জন্য, যারা যৌতুক না পেয়ে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে।’
এদিকে আসাদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ি থানায় তার প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় আরেকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সঞ্জিব/পপি/