ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম

দাউদকান্দিতে চামড়ার দামে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
দাউদকান্দিতে চামড়ার দামে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় পশু কোরবানির পর গ্রাম, পাড়া-মহল্লা থেকে গরু ও খাসির চামড়া কেনেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। গেল বছরের চেয়ে এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ১০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৭ টাকা বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

সরকারিভাবে প্রতিটি গরুর চামড়ার দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকায় চামড়া কেনাবেচা হয়েছে ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

সরকার নির্ধারিত লবণযুক্ত চামড়ার দামের অর্ধেক দামেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে লোকসানে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। 

গত কয়েক বছরের মতো এই উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া ‘সস্তা দামে’ বেচাকেনা হয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য দাম পাননি কেউ। হাতেগোনা কিছু স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ী সামান্য লাভের মুখ দেখলেও মোটা অংশই চলে যাচ্ছে বড় ব্যবসায়ীদের পকেটে। 

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী লোকমান মিয়া বলেন, ‘চামড়া কেনাবেচায় সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম ছিল কাগজে-কলমে। দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়ার দাম ৫৫০ টাকা। এটা হলো বাস্তবতা।’

চামড়া ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এবারও ভাঙতে পারেননি সিন্ডিকেট। ঈদের দিন উপজেলার গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ,  দাউদকান্দি বাজারে চামড়া কেনাবেচার সবচেয়ে বড় এলাকা। কিন্তু সরকারের নজরদারি ছিল না।’

সাধারণ মানুষ আর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগের শেষ নেই। একেকজনের একেক রকম অভিযোগ হলেও সবাই শঙ্কিত চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এ রকম সিন্ডিকেটের ফাঁদে এই শিল্প দিন দিন মুখ থুবড়ে পড়ছে। যার কারণে প্রতিবছর ‘গরীবের হক’ ঢুকে যাচ্ছে বড় ব্যবসায়ীদের পকেটে।

লিটন সরকার/অমিয়/

ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান
জব্দ করা মদ তৈরির সরঞ্জাম। ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাংলা মদ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বাংলা মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। 

সোমবার (২২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী ঝাঁউকুটি এলাকায় হবিবর রহমানের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদে জানতে পেরে আমরা এখানে অভিযান চালাই। অভিযানে মদ তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ও প্রস্তুত বাংলা মদ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারখানার সঙ্গে জড়িত গনাই চন্দ্র (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

তবে কারখানার মূল হোতা আব্দুল কাদের পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। বাড়ির মালিক হবিবর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। ফুলবাড়ীতে এই প্রথম বাংলা মদ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, আমি নিজে থেকে অভিযান চালিয়ে বাংলা মদ ও মদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে যাকে মূল হিসেবে জানি সে পালিয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিককেও আনা হয়েছে। তিনি বৃদ্ধ মানুষ, তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। 

গোলাম মাওলা/নাঈম

রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু
অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুর করিম। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে মো. রেজাউল করিম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে নগরের চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডি কলাইতলা পশ্চিমপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুর করিম পলাতক রয়েছেন।

নিহত রেজাউল করিম একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। অভিযুক্ত রাকিবুর করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সোমবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রাকিবুর তার মায়ের পক্ষ নেন। এ সময় উত্তেজিত হয়ে তিনি একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে রেজাউল গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। ঘটনার পর রাকিবুর মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা আহত রেজাউলকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। তবে ছেলের লাঠির আঘাতেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাকিবুর করিম পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহতের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রিফাত/

নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার আব্দুল মাবুদ, ইনসেটে চীনা নাগরিক। ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে হেনস্তা, ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল মাবুদ (৪২) নামের এক যুবককে আটক করেছে টুরিস্ট পুলিশ।

সোমবার ( ২২ জুন) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আটক আব্দুল মাবুদ জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

টুরিস্ট পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মেসবাহুল হক জানান, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক চীনা নাগরিক ঘুরতে আসেন। পাহাড়পুরে অবস্থানকালে অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদ ওই বিদেশি পর্যটককে নানাভাবে হেনস্তা করেন এবং তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি টুরিস্ট পুলিশ পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ইউনিটের নজরে আসলে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে মূল অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদকে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বদলগাছি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হারুন/নাঈম

কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী!

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী!
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৮টি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না কেউ। এসব কলেজের চারটি কলেজ থেকে রেজিষ্ট্রেশনই করে নি কেউ। এর মধ্যে বাকি ৪ কলেজ থেকে রেজিস্ট্রেশন করেও ৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ফাইনালের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এই ৮ কলেজের মধ্যে চারটি কলেজ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলায় ও একটি ফেনী জেলায়। 

এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠানের ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। এ বছরও ছেলে পরীক্ষার তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি। গত ১৪ই জুন সরকারি সময়ে রেজিষ্ট্রেশনের সময় শেষ হয়। 

সে সময় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) এর দায়িত্বে থাকা মো. সালাহউদ্দিন জানান, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ জেলায় মোট ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। আমরা আটটি প্রতিষ্ঠানকে পেয়েছি যাদের কলেজের স্বীকৃতি ছিল কিন্তু তাদের কোনো পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এছাড়া গতবছর শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ পাশের হারে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকেও কলেজ স্বীকৃতি বাতিল করা হয় তারা ২০২৭ সালে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। 

উপ- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন জানান, এবছরও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার বেশি। মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া যেমনি নারী শিক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক, তেমনি ছেলেদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলার নোবেল কলেজ, কুমিল্লা জেলার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ। 

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু আছে। এ বছরই প্রথম এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। বিগত কিছু বছর যাবতই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। এ বছর যে ১০ জন এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছিল তারাও পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়েও তো তোড়জোড় করা যায়নি। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর জামাল নাসের মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে সেগুলোকে কলেজে উত্তীর্ণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে পরিচালনা না করা গেলে কলেজ ছাতা চালাতে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা ও আর্থিক সংকট এবং সুনামের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। এতে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসে। তার চেয়ে বরং যারাই মহৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা যদি আলাদা করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটি দায়িত্বশীল ভাবে পরিচালনা করেন তাহলে এই দুর্ভাগা পরিণতিতে কাউকে পড়তে হবে না। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কোন কোন কলেজগুলো থেকে শূন্য পরীক্ষার্থী এবং কেন সেসব কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো না এই বিষয়গুলো আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি আছে কি না আমরা পর্যালোচনা করবো। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার পারভেজ বলেন, কোন কলেজগুলোতে একেবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নেই, আবার কোন কোন কলেজে দিন দিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে- এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা আমরা ভেবে দেখছি। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানেরই বাৎসরিক ফলাফল খারাপ হবে কিংবা তাদের শিক্ষার্থী থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে কোনো নীতিমালা তৈরি করে সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিব। এতে করে মানহীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমবে। শিক্ষার্থীরাও কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতারণার শিকার হবে না।

রিফাত/

ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট বা ‘মুগুর পা’ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকেলে তেমুহনী এলাকায় ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাসের বাস্তবায়নে, মিরাকেলফিটের আর্থিক সহযোগিতায় এবং আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সার্বিক সহায়তায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল ৫টার পর স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং ক্লাবফুটে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র‌্যালিটি তেমুহনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সভাকক্ষে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে ক্লাবফুট কোনো অভিশাপ নয়; বরং সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

সভায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা ক্লাবফুট নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে রেফারালের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘ফেনীর মতো এলাকাগুলোতে এখনো অনেক পরিবার ক্লাবফুটকে জন্মগত অভিশাপ বা অচিকিৎসাযোগ্য সমস্যা মনে করে। অথচ এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য একটি অবস্থা। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো রেফারাল নিশ্চিত করা গেলে কোনো শিশুকেই প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হবে না।’

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ক্লাবফুট কোনো অভিশাপ বা স্থায়ী অক্ষমতা নয়। জন্মের পর যত দ্রুত এটি শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত ‘পনসেটি পদ্ধতি’র মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও রেফারাল নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।’

ইউনাইটেড পারপাসের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এবং অনুষ্ঠানের মূল আলোচক সুমিত বণিক অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে এখনো ক্লাবফুট নিয়ে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। পরিবার, সমাজ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে এসব ভুল ধারণা দূর করাই আমাদের লক্ষ্য। জন্মের পরপরই সঠিক স্ক্রিনিং ও রেফারাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিটি শিশু সময়মতো চিকিৎসা পাবে।’

আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. সাইফুদ্দীন জুলফিকার বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কারণে জটিলতা বাড়ে। অথচ পনসেটি পদ্ধতির মাধ্যমে ক্লাবফুট সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

সভা শেষে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্লাবফুট সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভের কথা জানান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের এ উদ্যোগ ফেনী অঞ্চলে ক্লাবফুট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অমিয়/