ঘুষ বাণিজ্য ও অপরাধীদেরকে গ্রেপ্তার না করার অভিযোগে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকারের অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।
সোমবার (১৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে বোচাগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন শেষে ঝাড়ু মিছিল করে তারা।
ঝাড়ু মিছিলে ওসি হাসান জাহিদকে অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
এ সময় তারা গত ৯ জুন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শিশিরের ওপর হামলা করা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে বিলম্ব করা, হুকুমদাতা সন্ত্রাসী ফয়সাল মোস্তাকের নামে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বোচাগঞ্জ থানার দুর্নীতিবাজ ওসি হাসান জাহিদের অপসারণের জন্য শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধন শেষে ঝাড়ু মিছিল নিয়ে বোচাগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।
তাদের দাবি, ঘুষ বাণিজ্যকারী ওসি হাসান জাহিদ সরকার ও তার বিশ্বস্ত ক্যাডার ফয়সাল মুস্তাকের মাধ্যমে এলাকায় ঘুষ গ্রহণ আর গ্রেপ্তার বাণিজ্য করে আসছে। যে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা এবং রাতের অন্ধকারে ঘুষ নেওয়া ওসি হাসান জাহিদের নেশা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ওসিকে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি দেওয়া হোক।
এ সময় বক্তারা বলেন, বোচাগঞ্জের মাটিতে একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে কিন্তু বোচাগঞ্জ থানার ওসি মো. হাসান জাহিদ সরকার সেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে না। কারণ ঐ সন্ত্রাসীরা হলেন তথাকথিত সমন্বয়ক ফয়লাল মোস্তাকের ক্যাডার বাহিনী। তিনি মামলার বাদীকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীর নাম বাদ দিয়ে মামলা করতে বাধ্য করেন। তার পরও এজাহার ভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন না।
বক্তারা আরও বলেন, বোচাগঞ্জের মাটিতে আর কোনো সন্ত্রাসী বা ঘুষখোর ওসিকে জায়গা দেওয়া হবে না।
তারা অবিলম্বে ওসি হাসান জাহিদের অপসারণ ও কিশোর গ্যাংয়ের সব সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাসী ঘটনায় গুরুতর আহত শাহরিয়ার শিশিরের বাবা সাবেক কাউন্সিলর মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি নওশাদ আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মোজাহারুল ইসরাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. রেদওয়ানুল কারীম রাবিদ, পৌর বিএনপির উপদেষ্টা এমওয়ালী ফ্লাড, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াদ হাসান চৌধুরী, এমরুল রেজা, মাসুদ খাঁন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রিতী আক্তার নিশি, সাবেক কাউন্সিলর মো. মামুন প্রমুখ।
এ বিষয়ে ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, 'গত ৯ জুন সেতাবগঞ্জ চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শাহরিয়ার শিশির নামে এক ছেলেকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়েছে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও করা হয়েছে। যারা আমার কাছে অবৈধভাবে সুবিধা নিতে পারেনি। তাদের একটি অংশ আমার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছে, আমার পদত্যাগ দাবি করেছে। আর যে মামলায় আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে, ওই মামলার মামলার আসামিরা আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়েছে বলে আমি আদালত মারফত জানতে পেরেছি।'
সুলতান/মেহেদী/