চট্টগ্রাম বন্দরের বেসরকারি অভ্যন্তরীণ ডিপো দিয়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশ। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, বন্যার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধের মধ্যেও এ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। রপ্তানিতে জড়িত ব্যবসায়ীরা একে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছেন। বেসরকারি ডিপোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর শেষের ১৫ দিন আগেই এ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।
এ সংগঠনের মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার খবরের কাগজকে বলেন, গত অর্থবছরে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। যদি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকতো তাহলে প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হতো।
বিকডার তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ১২ টিইইউএস কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০২৩-২০২৪) রপ্তানি হয়েছিল ৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ টিইইউএস। অর্থাৎ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ বা প্রায় ১১ শতাংশ।
বিকডার দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গত জুলাই মাসে ৫৪ হাজার ৩৫৩ (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার) টিইইউএস, আগস্ট মাসে ৬১ হাজার ২৮৬ টিইইউএস, সেপ্টেম্বর মাসে ৫২ হাজার ৮২৭ টিইইউএস, অক্টোবরে ৪৯ হাজার ২৮৮ টিইইউএস, নভেম্বরে ৫৫ হাজার ১৯৬ টিইইউএস, ডিসেম্বরে ৬০ হাজার ৭৪২ টিইইউএস, জানুয়ারিতে ২৭ হাজার ৬৩২ টিইইউএস, ফেব্রুয়ারিতে ৫৭ হাজার ৬৭ টিইইউএস, মার্চে ৫৭ হাজার ৭১৪ টিইইউএস, এপ্রিলে ৪৫ হাজার ৯৫৭ টিইইউএস, মে মাসে ৬৮ হাজার ১১০ টিইইউএস কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে মে মাসে। আর কম রপ্তানি হয়েছে জানুয়ারি মাসে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চলতি অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে থ্রি মিলিয়নিয়ারের রেকর্ড ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে থ্রি মিলিয়নিয়ারের ক্লাবে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং। ১৫ জুন পর্যন্ত বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৯ টিইইউএস। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় চট্টগ্রাম বন্দরের। সে হিসাবে এবার ৩৩ লাখ টিইইউএস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, ঈদের ছুটি, কাস্টমস কর্মকর্তাদের কলম বিরতিসহ নানা কারণে বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম প্রায় দুই মাস বাধাগ্রস্ত হয়। তবে সব বাধা কাটিয়ে গত অর্থবছরের চেয়েও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের অটোমেশন সার্ভিস সুবিধা, ই-গেট পাস চালু এবং কনটেইনার অপারেটিং সিস্টেম আধুনিকায়নসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ সাফল্য মিলেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিকডার প্রেসিডেন্ট নুরুল কাইয়ুম খান খবরের কাগজকে বলেন, রপ্তানি কনটেইনারের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাকের চালান। পর্যাপ্ত অর্ডার থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাকের চালান পাঠানো হয়েছে ডিপোর মাধ্যমে। বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলন, সাবেক সরকারের পতন, বিভিন্ন বৈরী পরিস্থিতি, কাস্টমসের কলম বিরতি, বন্দর ও ডিপোতে কনটেইনার জটসহ নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এর মধ্যে প্রবৃদ্ধি হওয়াটা অবশ্যই আনন্দের ও দেশের জন্য মঙ্গলের বিষয়।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, রপ্তানি খাতে প্রায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানির কারণে সম্ভব হয়েছে। অথচ আমাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিক শুল্কের চাপ রয়েছে। এ ছাড়া পোশাক কারখানা চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে অনেক মালিককে। দেশের গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম, পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আমাদের দাবি হচ্ছে শিল্প কারখানা চালু রাখার জন্য সরকারকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। এতে দেশের সরকারের যেমন মঙ্গল তেমনি কারখানার মালিক-শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আনন্দের। দেশের চলমান বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে এ প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে গতি ফেরাবে। নানা সংকটের মধ্যে যাচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। গত এক বছরের মধ্যে ধর্মঘট, আন্দোলন, বিক্ষোভের মধ্যে সময় পার করতে হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে। এর মধ্যে সমানতালে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।