তিনি এক বছর ছিল বাজারের আপনজন, শেষ বিদায়ে রইল না কোনো স্বজন। ছবি: খবরের কাগজ
নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া বাজার এলাকায় প্রায় এক বছর আগে আসেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।
ওইদিন তার সরব উপস্থিতি মুহুর্তেই জানাজানি হয়। কেউ কেউ পাগলী বলে বিরক্ত করেন। কয়েকজন হৃদয়বান মানুষের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। কিছু মানুষ দয়া করে তাকে খেতে দেন। সে খুশি হয়।
মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও মানুষের দয়া আর সহানুভূতি তাকে সন্তুষ্ট করে।
এরপর থেকে সেই বাজারেই অবস্থান করছিলেন সেই মধ্য বয়সি নারী। এভাবে দিনযাপন চলছে।
এক বছর পর হঠাৎ নীরবেই পরপারে চলে গেলেন তিনি। কেউ জানতেই পারলেন না তার পরিচয়।
কোথায় থেকে এলেন। নেই কোন ঠিকানা। পরিচয় অজানা থেকে গেলো।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কয়েকদিন থেকেই ওই নারী কিছুটা অসুস্থ ছিলেন।
রবিবার (২১ জুন) সকালে ওয়ালিয়া বাজারে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহতর পরিচয় জানতে পিবিআই অনেক চেষ্টা করলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ওসি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেন, গত এক বছরে বাজারের দোকানি থেকে শুরু করে আশপাশের প্রায় সবাই ওই নারীকে চিনতেন। ধীরে ধীরে তিনি যেন এই জনপদেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন। তাই তার আকস্মিক মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুসংবাদ নয়, নীরবে অনেকের মনেই শোকের রেখা এঁকে দিয়েছে।
জাহিদের ভাষ্য, তার কথাবার্তা, আচার-আচরণে কখনোই মনে হয়নি তিনি পথের মানুষ। বরং মনে হয়েছে, তিনি কোনো সম্মানিত পরিবারেরই সন্তান—যার জন্য কোথাও না কোথাও কেউ অপেক্ষা করে, কেউ দোয়া করে, কেউ হয়তো এখনও খোঁজ করে।
কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! হয়তো তারও আপনজন ছিল, ছিল তাকে ভালোবাসার মানুষ। অথচ তারা জানতেই পারলেন না—তাদের প্রিয় মানুষটি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। তারা তার জানাজায় দাঁড়াতে পারলেন না, শেষবারের মতো মুখটিও দেখতে পারলেন না, বিদায়ের অশ্রুটুকুও ঝরাতে পারলেন না। কিছু বিদায় এমনই নীরব হয়, যেখানে কান্নার শব্দও স্বজনদের কাছে পৌঁছায় না।
কামাল মৃধা/এসএন