সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মৎস্য ভিজিএফ চাল বিতরণে জেলেদের থেকে স্লিপ প্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া ঘুষ মাইকিং করে ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে।
সোমবার (৩০ জুন) ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ধুলিয়া ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়। একইদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
২৮ জুন 'বাউফলে জেলেদের থেকে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল' শিরোনামে খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে সেনাবাহিনীর নির্দেশে সোমবার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেন। বিকেল ৩টায় ঘুষের টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য জেলেদের অনুরোধ জানিয়ে চেয়ারম্যান তার এলাকায় মাইকিং করান।
জানা গেছে, উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধিত এক হাজার জেলেদের মধ্যে সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মৎস্য ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলের নামে দুই মাসে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল দিতে জেলেদের কাছ থেকে ২০০ করে টাকা ঘুষ নেন ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মামুন। জেলেদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়।
মাইকিং করে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার আমাকে খবর দেন। আমি তার সঙ্গে দেখা করার পর জেলেদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাই মাইকিং করে টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ঘুষ নেওয়ার ভিডিও দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরবর্তীতে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আজকে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন-বাউফলে জেলেদের থেকে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
মশিউর/মেহেদী/