ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল পলাশে ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন
Nagad desktop

স্ত্রীর কিডনিতে প্রাণে বেঁচে ‘পরকীয়ায় জড়ালেন’ স্বামী!

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৫, ১১:২৭ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৯ এএম
স্ত্রীর কিডনিতে প্রাণে বেঁচে ‘পরকীয়ায় জড়ালেন’ স্বামী!
ছবি: সংগৃহীত

স্বামীর দুটি কিডনি প্রায় অচল ছিল।  পরে নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীকে প্রাণে বাঁচান স্ত্রী। কিন্তু সেই স্বামী সুস্থ হয়ে জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। এর পর সেই স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন মোহাম্মদ তারেক।

ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের কলমি এলাকায়। এ ঘটনায় স্বামী মোহাম্মদ তারেকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন স্ত্রী উম্মে সাহেদীনা টুনি। পরে তারেককে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে কলেজপড়ুয়া তরুণী উম্মে সাহেদীনা টুনির সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরই তারেক ও টুনির সংসার আলো করে আসে ছেলে সন্তান। নাম রাখা হয় আজমাইন দিব্য। সব ঠিকঠাক চলছিল। তবে ২০০৮ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তারেক। চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই প্রায় অচল হয়ে গেছে। রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু করাতে হবে। তবে এ পরিস্থিতিতেও টুনি স্বামীর হাত শক্ত করে ধরেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা মতো ভারতের সিএমসি হাসপাতালে শুরু হয় তারেকের চিকিৎসা।

কয়েক বছর পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তখন স্ত্রী টুনিই এগিয়ে আসেন। নিজের একটি কিডনি দিয়ে দেন স্বামীকে বাঁচাতে।

টুনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো তার কষ্টের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করেছে তারেকের কর্মকাণ্ড। সুস্থ হয়েই তারেক জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। ডিভোর্সি এক নারীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার নেশাও পেয়ে বসে তাকে। একপর্যায়ে মারধর করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে গিয়ে ওঠেন অন্য বাড়িতে।

তারেকের চিকিৎসার খরচ যোগাতে টুনি নিজের বাড়িতেই খোলেন হোম বিউটি পার্লার। পাশাপাশি বুটিকসের কাজ শুরু করেন। মাস শেষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। আর পুরো টাকা ব্যয় করতেন তারেকের চিকিৎসায়।

এভাবে বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। নিজের জমানো টাকা, বিয়ের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যান তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শে টুনিকে বছরে তিন বার তারেককে নিয়ে ভারতে যেতে হতো। প্রতিবার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হতো। যা পুরোটাই আসতো নিজের আয় ও স্বর্ণালংকার বিক্রির টাকা থেকে।

অপরদিকে, অসুস্থ তারেক কোনো কাজকর্ম করতে পারতেন না। সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়ায় একটা সময় পরিবারও তার ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কেবল স্ত্রী টুনি ও একমাত্র সন্তানই তার পাশে ছিল। একপর্যায়ে খরচ সামলাতে না পেরে নিজের মায়ের পেনশনের টাকাও স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় করেন টুনি। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের বেশি সময় ভারতেই চলে তারেকের চিকিৎসা। ২০১৯ সালের শুরুতে চিকিৎসকরা জানান, এবার তারেককে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। নয়তো ডায়ালাইসিস করেই বাকিটা জীবন বাঁচতে হবে।

পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে টেস্টে মিললেও কেউ কিডনি দিতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে স্ত্রী টুনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের কিডনি দিয়ে হলেও স্বামীর প্রাণ বাঁচাবেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসক কৈলাস নাথ সিং (কেএন সিং)-এর তত্ত্বাবধানে টুনি ও তারেকের কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে টুনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তারেককে কিডনি দেওয়ার পর আমার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে চলে যায়। সাত দিন আইসিইউতে রাখা হয়। আইসিইউ থেকে কেবিনে নিয়ে আসার পরই যেন অন্য এক তারেককে আবিষ্কার করলাম। যেই মানুষটার জন্য আমার সবকিছু ত্যাগ করেছি, নিজের জীবন দিয়ে হলেও তাকে বাঁচাতে চেয়েছি; সেই কিনা কিডনি পেয়ে সুস্থ হয়েই হাসপাতালে আমার সঙ্গে চিৎকার করতে শুরু করল, মারতে উদ্যত হলো। আমার এক খালা কেন অপারেশনের আগে টাকা পাঠাতে দেরি করেছিল- এমনটা বলে চিল্লাচিল্লি করল।’

টুনির আরও বলেন, ‘‘সেদিন তারেকের এমন কর্মকাণ্ড দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকরাও অবাক হন। এর পর আমাদের দুজনকে সেই চিকিৎসক তার চেম্বারে ডেকে নেন, যিনি অপারেশনটা করেছিলেন। সেখানে তারেককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যদি তোমার মা হয় তোমার জন্মদাতা, এই নারী তোমার জীবনদাতা। এর কারণে তুমি পুনরায় জীবন পেয়েছ, সুস্থতা ফিরে পেয়েছ। তার সঙ্গে কীভাবে এমন দুর্ব্যবহার করতে পারলে।’ এরপর চুপ হয়ে যান তারেক। পরে আমরা দেশে ফিরে আসি।’’

টুনি জানান, তবে ঢাকায় ফেরার পরই জীবনে নেমে আসে নরক। সুস্থ হয়ে তারেক নতুন কোনো চাকরি কিংবা ব্যবসা শুরু তো দূরের কথা উল্টো তাকে চাপ দেন উপার্জনের সব টাকা তার হাতে তুলে দিতে এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও টাকা নিয়ে আসতে। একপর্যায়ে অনলাইন জুয়া ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে তারেক। যেই স্ত্রীর জন্য নিজের জীবন ফিরে পেলেন, তার গায়ে হাত তুলতে শুরু করেন।

টুনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কাজের অজুহাতে ঢাকায় গিয়ে সময় কাটাত তারেক। এক সময় জানতে পারি, তাহমিনা নামে এক ডিভোর্সী নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় লিপ্ত সে। তারেকের মোবাইল ঘেঁটে এসবের প্রমাণও পাই। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, সে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে আমাকে পুরো বাড়ি তার নামে লিখে দিয়ে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।’

নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২ ফেব্রুয়ারি সাভার থানায় গিয়ে তারেকের নামে অভিযোগ করেন টুনি। কিন্তু এর পরই আবারও নিজের খোলস পাল্টে ফেলেন তারেক। টুনিকে বুঝিয়ে এক দিন পরেই (৪ ফেব্রুয়ারি) থানায় মুচলেকা দিয়ে সেই অভিযোগ তুলে ফেলেন তিনি।

স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর নির্যাতনের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে পালিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে ওঠেন টুনি। এর পর ২২ এপ্রিল তারেকের বিরুদ্ধে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা করেন টুনি। সেই মামলায় ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন তারেক। এক মাস কারাগারে থাকার পর গত ৪ জুন জামিনে মুক্ত হন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়েই পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তারেক। সেখান থেকেই স্ত্রীকে চাপ দেন ডিভোর্স দিয়ে বাড়িটা তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য।

এ প্রসঙ্গে টুনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে আমি সবসময় ফেরেশতার মতো মনে করতাম। ভাবতাম, তিনি কখনোই মিথ্যা বলেন না। তবে আমার পরিবারের মানুষ ধাপে ধাপে সতর্ক করেছিল। কারও কথা কানে নিইনি। বরং তারেকের কথায় অনেক সময় পরিবারের মানুষদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছি। অথচ সেই মানুষটা আজ আমার সব কেড়ে নিল। তাকে কিডনি দেওয়ার পরে আমার শারীরিক অবস্থাও দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকেরাও নানাভাবে সতর্ক করেছেন।’

‘আমি জানি, সুস্থভাবে হয়তো বেশি দিন আর বাঁচতে পারব না। তবুও যেই মানুষটার কষ্ট কখনো নিজের চোখে দেখতে পারতাম না। যার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছি, সেই কিনা আমাকে এভাবে ঠকাল! আমার পেটে অপারেশনের জায়গাতে লাথি মারল...! আমি চাই না, আমার মতো পরিণতি আর কোনো মেয়ের হোক। আর কোনো মেয়ে যেন ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে নিজের জীবনকে এমন অন্ধকারে না ঠেলে দেয়।’

তারেক-টুনির এক প্রতিবেশী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই দেখেছি টুনি আপা তার স্বামীর জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন। তার যখন বিয়ে হয়, তখন বয়স ছিল ১৬-১৭ বছর। দুই বছরের মাথায় জানতে পারেন স্বামীর দুটি কিডনি অচল। তবুও স্বামীকে ফেলে যাননি। নিজের বাড়িতেই বিউটি পার্লার দিয়েছেন, বুটিকসের কাজ করেছেন। যা আয় করেছেন, তা দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা চালিয়েছেন। পরে যখন চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে, তখন নিজের কিডনি দিয়ে তারেকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। অথচ, সুস্থ হওয়ার পর প্রায়ই দেখতাম, টুনি আপাকে নির্যাতন করত। পরে জানতে পারলাম তিনি পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। টুনি আপাকে মারধর করত টাকা ও বাড়িটা লিখে দেওয়ার জন্য।’

টুনির মা বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমাদের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল ছিল। তারেকের চিকিৎসায় প্রতি বছর গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হতো। সেই টাকা টুনি কখনো আমাদের থেকেও নিয়ে যেত। আমার পেনশনের পুরো অর্থ তারেকের চিকিৎসায় খরচ করেছি। একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে টুনিদের থাকার জন্য বিল্ডিং তুলে দিয়েছিলাম। সেই বাড়ির অর্ধেক মেয়ের নামে আর বাকি অর্ধেক তারেকের নামে। অথচ আজ সেই বাড়ি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করছে, পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে থাকছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তারেকের প্রতারণার কঠিন শাস্তি চাই। যেন আমার মেয়ের মতো কোনো মেয়ের জীবন এভাবে ধ্বংস না হয়।’

এদিকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই খোঁজ নেই তারেকের। পরিবর্তন করে ফেলেছেন নিজের ফোন নম্বরও। অন্যদিকে, তারেকের পরিবারের কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

মেহেদী/

নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে বাবুল বিশ্বাস (৪০) ও মো. টিটুল খান (৪০) নামে দুইজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শালনগর ও মতিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাবুল বিশ্বাস মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি উপজেলার মতিনগর এলাকার বিল্লাল বিশ্বাসের ছেলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাবুল বিশ্বাস বিকেলে ইছামতি বিলে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাসান ফেরদৌস শরীফ বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে।’

অপরদিকে একই উপজেলার শালনগর এলাকায় মো. টিটুল খান (৪০) নামে আরও একজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তিনি শালনগর গ্রামের মতি খানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে টিটুল খান বাড়ির অদূরে মাঠে থাকা নিজের গরু আনতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাবু খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিকেলে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে টিটুল খানের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।’

শফিকুল/রিফাত/

সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্তে মানবিক সংকটে সৃষ্টি হয়েছে। ভারত থেকে পুশইন হওয়ার অভিযোগে তিন শিশুসহ ১০ নারী পুরুষ গত ৩৮ ঘন্টা ধরে  ভারতের সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকা পড়ে রয়েছেন। তাদের গ্রহণ করছে না ভারত আবার বাংলাদেশেও তারা প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে, চারপাশে পানি ঘেরা কৃষিজমির সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারায় ভারতের শূন্য রেখায় আটকে আছেন৷ ফলে ওই পারে ভারতীয় বিএসএফ, মাঝে সেই ভুক্তভোগী ১০ জন, আর বাংলাদেশ অংশে দিকে বিজিবি অবস্থান করছে। তাদের কেউ না টানায় মাঝখানে তারা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। 

শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  ভারতীয় অংশে  মাত্র এক হাত প্রস্থের একটি আইলের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। চারদিকে পানি জমে থাকা কৃষিজমিতে। শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে আইলের পাশের পানির উচ্চতা আরও বেড়েছে। তারা বসলে পা ডুবে যাচ্ছে পানিতে, আর শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে কাপড়ের ব্যাগ। তাও আবার লম্বালম্বি হয়ে কষ্ট করে শুতে হচ্ছে। দিনভর প্রখর রোদ্রের মধ্যে অতিবাহিত করার পর ওই ১০ শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সবাইকে কাটাতে হচ্ছে আরেকটি অনিশ্চিত রাত। বৃষ্টি হলে হয়তো তাদের আশ্রয়স্থলের আইলটিও পানিতে ডুবে যাবে৷ এছাড়া তাদের সেই স্থান থেকে নড়তে দেয়া হচ্ছে না।।

পুইশনের শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন শিশু, দুই নারী, একজন বৃদ্ধ ও চারজন পুরুষ রয়েছে । তাদের বলছেন, শুক্রবার ভোর থেকে তারা কার্যত অনাহারে রয়েছেন। মাঝে মধ্যে আশপাশের জমির পানি পান করেই তৃষ্ণা মেটাতে হচ্ছে। বিজিবি থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।

জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ তাদের সীমান্তের গেট থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করলে   বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকা পড়ে। পরে পর পর তিন দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, বিজিবি  তাদের ভারত থেকে ঠেলে দিয়ে কাজটি ঠিক করেনি। ভারতের শূন্য রেখায় যেহেতু তারা এখনও অবস্থান করছে তাই তাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেয়ার উচিত বলে জানান। 

এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু  বিএসএফ পুশইন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং তাদের ফেরত নিতেও অস্বীকার করেন। তবে ভিকটিমও স্বীকার করছে তাদের ভারত থেকে সীমান্ত পার করে দেয়া হয়েছে। 


মো: রনি মিয়াজী/এসএন

পলাশে ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
পলাশে ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি
১২০০ ফুট লম্বা ব্রাজিলের পতাকা। ছবি: খবরের কাগজ

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় দল ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করতে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ব্রাজিল সমর্থকরা তৈরি করেছেন ১২০০ ফুট লম্বা এক বিশালাকার পতাকা।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে হলুদ জার্সি পরে শত শত ব্রাজিল সমর্থক ওই বিশাল পতাকা নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি বের করেন। র‍্যালিটি ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পলাশ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওয়াপদা গেইট প্রদক্ষিণ করে পলাশ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া সমর্থকদের হাতে ছিল ব্রাজিলের পতাকা। সেই সঙ্গে প্লাস্টিক বাঁশির শব্দ ও রঙিন আতশবাজির ঝলকে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ।

ব্রাজিল সমর্থকরা জানান, বিশ্বকাপ এলেই পলাশ বাজার এলাকায় ব্রাজিল ভক্তরা ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ১২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে এই র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শিরোপা জিতবে।

এ সময় প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের বিভিন্ন সমালোচনা ও কটাক্ষের প্রতীকী জবাব দিতে অনেক ব্রাজিল সমর্থকরা সেভেনআপ পান করার মাধ্যমে নিজেদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং সমালোচনার প্রতিবাদ জানান।

র‍্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীরা ব্রাজিল দলের সাফল্য কামনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিশ্বকাপে প্রিয় দলের বিজয় প্রত্যাশা করেন।

শাওন/নাঈম

কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের রতনপুর এলাকায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩ জন। আহত ও নিহত সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। 

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় রতনপুর এলাকায় শাহ আলী সুপার বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

লাকসাম হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গণি জানান, নিহত এবং আহতদের উদ্ধার ও পরিচয় জানতে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের টীম কাজ করছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে অটোরিকশাটি উল্টোপথে চলছিল।  বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এর আগে সকালে মোটর সাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছুপুয়ায় দুই মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। এনিয়ে পৃথক দুই দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।


জহির শান্ত/এসএন

অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

অধস্তন কর্মকর্তাকে চপেটাঘাত করার ঘটনায় সিলেটের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামে এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে তিরস্কার ও এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন।

শনিবার (৬ জুন) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসির সচিব আখতার আহমেদের সই করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে গত ২০ জানুয়ারি অফিসের টোনার ক্রয়ের বকেয়া বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে’র সঙ্গে নজরুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি পার্থ প্রতীম দেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ক্রোধান্বিত হয়ে তাকে চড় মারেন। এছাড়া তাদের মধ্যে মতবিরোধ, স্বার্থের সংঘাত, অসম আচরণ, সমন্বয়হীনতা এবং অকর্মকর্তাসুলভ আচরণের বিষয়ও তদন্তে উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে গত ২১ মে তাকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তবে অভিযোগনামা, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন, লিখিত জবাব এবং শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন অভিযোগের সত্যতা পায়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম একজন সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন এবং অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার এ আচরণ স্পষ্টতই ‘অসদাচরণ’ এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(২)(ক) অনুযায়ী তাকে ‘তিরস্কার’ এবং বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘু দণ্ড প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন।

এলিস/রিফাত/