খুলনা নগরীর শিশুদের অধিকাংশ পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রে খেলার পরিবেশ নেই। অধিকাংশ পার্কে নেই পর্যাপ্ত দোলনা, রাইড কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোথাও পার্ক আছে কেবল কাগজে-কলমে। ফলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ছে খুলনা নগরীর প্রায় তিন লাখ শিশু।
এদিকে খেলার মাঠ ও বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় শিশুরা স্কুল ও বাড়ির চার দেয়ালের মাঝে আটকা পড়ছে। বাসায় থাকলে বেশির ভাগ শিশুর সময় কাটানোর জন্য সঙ্গী হয়ে উঠছে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে মোবাইল ও টিভি। অনেক অভিভাবকই তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিষ্কাশনের অভাবে খুলনা নগরীর পল্লীমঙ্গল স্কুলের খেলার মাঠে বৃষ্টির পানি জমে আছে। এখানে গোরবচাকা, বসুপাড়া, পল্লীমঙ্গল, শেখপাড়া, নবীনগর এলাকার শিশুরা খেলাধুলা করে। মাঠের চারপাশের রাস্তার ড্রেন অপরিকল্পিতভাবে উঁচু করায় বৃষ্টির সময় আশপাশে এলাকার ড্রেনের নোংরা পানিতে মাঠটি ভরে যায়।
একইভাবে নগরীর গোলকমনি পার্কে শিশুবান্ধব বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। দোলনাগুলোর লোহা চুরি হয়ে গেছে। এ ছাড়া বসার বেঞ্চ ও চারপাশের দেওয়ালও ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘ পার্কে ছয়টি দোলনার দুটি নষ্ট। আরও দুটির লোহার শিকল ছিঁড়ে যাওয়ায় জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। ওপর থেকে নিচে নামার স্লিপারের প্রায় সবই নষ্ট। এ ছাড়া হাদিস পার্কে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির কারণে শিশুদের খেলার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় সোলার পার্কে শিশুদের জন্য রাইড নেই। নিরালা পার্কের অবস্থাও বেহাল। পুরো পার্কজুড়ে মাত্র চারটি দোলনা। এর মধ্যে একটি ভাঙা। শান্তিধাম এলাকায় বসবাসরত শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম জানায়, গোলকমনি শিশু পার্কে কোনো রাইড নেই। ফলে কেউ সেখানে সে যায় না। আবার জাতিসংঘ পার্কে দুই-একটি রাইড থাকলেও সেখানে পরিবেশ ভালো না। ফলে বিকেলে বাড়িতে বসে মোবাইল ও টেলিভিশনে সময় কাটাতে হয়।
খুলনায় শিশু রোগবিশেষজ্ঞ ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশের বিকল্প নেই। এ জন্য পার্কগুলোতে দোলনা, রাইড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।’
জানা যায়, নগরবাসীর দাবির মুখে গত ৪ জুলাই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ফিরোজ সরকার নগরীর গোলকমনি পার্কের বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখেন। তিনি পার্কটিকে শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে নির্দেশ দেন। এদিকে নাগরিক নেতাদের দাবি, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ-সবল গড়ে তুলতে শিশু পার্কগুলো শিশুদের উপযোগী করে দ্রুত গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নিতে হবে।