বিশ্বের অন্তত ১৩টি দেশ থেকে বাংলাদেশে এলাচ আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ভারত ও গুয়াতেমালা থেকে আমদানি হয় সবচেয়ে বেশি।
গুণগতমানের বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় গুয়াতেমালার এলাচের চাহিদা বাংলাদেশে বেশি। কিন্তু দেশটিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সেখানে দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নতুন করে আর সেখান থেকে মসলাটি আমদানি করছেন না। এই সুযোগে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বাজারে গুয়াতেমালার এলাচের দাম বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ৩০০ টাকা। বর্তমানে এটি ৪ হাজার ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতীয় এলাচ আকারে ছোট, দাগ থাকে এবং গুণেমানেও গুয়াতেমালার এলাচের চেয়ে কিছুটা নিম্নমানের। তাই ভারতীয় এলাচের প্রতি ক্রেতার আগ্রহ কম। বর্তমানে গুয়াতেমালা থেকে আমদানি করতে গেলে প্রতি কেজি এলাচ ৫ হাজার ১০০ টাকা দাম পড়বে। সে দেশে উৎপাদন কম হওয়ায় সেখানে দাম বেড়ে গেছে। তাই আমদানিকারকরা কয়েকমাস ধরে আমদানি করছেন না। খাতুনগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন।
জানা গেছে, খাদ্যপণ্য ছাড়াও ওষুধ, কনজ্যুমার পণ্য উৎপাদনে এলাচের ব্যবহার হয়। গুয়াতেমালা, ভারত, তানজানিয়া, শ্রীলঙ্কা, লাওস, ভিয়েতনাম, পাপুয়া নিউগিনি, নেপাল, থাইল্যান্ড, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া ও ভুটানে এলাচ উৎপাদন হয়। তবে গুয়াতেমালা ও ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি এলাচ বাংলাদেশে আমদানি হয়। তাই এই দুই দেশের ওপর এলাচের বাজার দর ওঠানামা নির্ভর করে।
খাতুনগঞ্জে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এলাচের দরে কারসাজি শুরু হয়। ওই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পাইকারি বাজারটিতে প্রতি কেজি ভারতীয় এলাচ ১৬০০ টাকা ও গুয়াতেমালার এলাচ ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এরপর থেকে দফায় দফায় মসলাটির দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত বছরের (২০২৪ সাল) জুন মাসে দাম বেড়ে ভারতীয় এলাচ হয় ৪ হাজার ১০০ টাকা ও গুয়াতেমালার এলাচের দাম ঠেকে ৪ হাজার ৪৫০ টাকায়। এবারও একই কারসাজিতে মেতেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বছর ঘুরতেই এলাচের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে অতীতকেও ছাড়িয়ে গেছেন তারা।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে লোকসানের ভয়ে আমদানিকারকরা আমদানি কমিয়েছেন। তার ওপর বন্দরকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি, কাস্টমসের কলমবিরতির কারণে খাতুনগঞ্জে একটা প্রভাব পড়েছে। ঠিকভাবে কনটেইনার ডেলিভারি না হওয়ায় অনেক ভোগ্যপণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে গেছে। এ কারণে পণ্যগুলো যথাসময়ে খাতুনগঞ্জে সরবরাহ হয়নি। তাই কিছু কিছু পণ্যের দামে প্রভাব পড়েছে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেছেন, ‘আমরা অতীতেও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের এলাচ, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যে কারসাজির প্রমাণ পেয়েছি। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে এ বিষয় নজর দিতে হবে। যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেছেন, ‘আমাদের জনবল সীমিত। তবুও আমরা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বা হয়রানি দূর করতে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো ভোগ্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালাচ্ছি।
মূল্যতালিকা না রাখা, বেশি দামে পণ্য বিক্রি করার মতো অপরাধের প্রমাণ পাচ্ছি। বিধি মোতাবেক জরিমানা করে আমরা দায়িত্ব শেষ করি না। বাজার কমিটির সঙ্গে বৈঠক করছি। সব ব্যবসায়ীকে যথাযথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পরামর্শ ও সতর্ক করছি।’