সংসার করার আশায় তিন সন্তানের জননী নানী ও নাতির মধ্যে হৃদয়ের টানে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা হয়ে ওঠেন প্রেমিক প্রেমিকা। সংসারের আশায় বাড়ি থেকে দু’জন পালিয়েছিলেন। কিন্তু সমাজ তাদেরকে অসম্ভব, অসামাজিক বা অবৈধ বলে তিরস্কার করেছে। তাদের দু’জনের বিশুদ্ধ ভালোবাসা হলেও সংসার করা হলোনা এ জুটির।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রাম থেকে ১৭ বছরের কিশোর নাতিকে নিয়ে পালিয়ে যায় ৪০ বছর বয়সী গৃহবধূ নানী। নানী-নাতির দুই প্রেমিক জুটির স্বপ্ন ভঙ্গ হলো সমাজ আর বাস্তবতার নির্মমতায়।
তারা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন কুষ্টিয়ায়। ভালোবেসে সংসার গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন দু’জনেই। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রুপ নিতে পারল না। পালিয়ে যাওয়ার ১৩ দিন পর ২২ বছরের সংসার ত্যাগ করা আলোচিত প্রেমের সেই নানী ও নাতিকে শুক্রবার (২৫ জুলাই) কালীগঞ্জ থানা পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার করে। কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসার পর দৃশ্যটি ছিল হৃদয় বিদারক। থানা চত্বরে দু’জনেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কেউ কাউকে ছাড়তে নারাজ। আঁকড়ে ধরে ছিলেন একে অপরকে। গৃহবধূ বলছিলেন, ‘‘ও ছাড়া আমি বাঁচবো না, ওকে কেড়ে নিওনা আমার কাছ থেকে।’’
কিশোর মেহেদীর কণ্ঠে করুণ আর্তি, ওর হাতটা ধরেই তো জীবনটা শুরু করতে চেয়েছিলাম, এতো তাড়াতাড়ি শেষ করে দিল সবাই। কিন্তু কান্না, আকুতি, ভালোবাসা সবই ব্যর্থ হলো পারিবারিক সম্মান, সামাজিক রীতিনীতি আর আইনের ব্যাখ্যার কাছে। পরিবারের চাপে পুলিশ জোর করেই শুক্রবার রাতে তাদের আলাদা করে গাড়িতে তুলে দেয়। যখন দু’জনকে আলাদা গাড়িতে তোলা হয় তখন তাদের চোখের পানি থামেনি। দৃষ্টির শেষ বিন্দু পর্যন্ত তারা তাকিয়ে ছিলেন একে অপরের দিকে। যাওয়ার সময় তারা দু’জন বলছিলেন, প্রেম যদি সত্যি হয়, একদিন আবার দেখা হবে।
গত ১২ জুলাই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রাম থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর নাতিকে নিয়ে পালিয়ে যায় ৪০ বছর বয়সী গৃহবধূ নানী। গৃহবধু ওই গ্রামের মান্নান মিস্ত্রীর স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী।
ওই কিশোর বাবরা গ্রামের বাসিন্দা এবং বয়সে গৃহবধূর সন্তানের মতো। ছোটবেলা থেকে নানাবাড়িতে বড় হলেও তার স্থায়ী ঠিকানা বাবরা গ্রামেই। দীর্ঘদিনের পারিবারিক পরিচয় থেকে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যা একপর্যায়ে পরকীয়ায় রূপ নেয়। পরে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
গৃহবধূর স্বামী মান্নান মিস্ত্রী বলেন, ১১ জুলাই রাতে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখি। তখন চুপ ছিলাম, ভাবছিলাম সংসার করার আশায় হয়তো বিষয়টি সামলে নিতে পারব। কিন্তু সকালে দেখি, স্ত্রীকে নিয়ে ওই কিশোর পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ২২ বছরের সংসার জীবনের পর নানী-নাতির এমন ঘটনায় অনেকেই হতবাক হয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের দু’জনকে দুই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাহফুজুর রহমান/মাহফুজ