ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি শ্রেয়াসের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উত্থান, আর ১৫ বছরের বিস্ময় সূর্যবংশী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ পুশইনের আড়ালে সীমান্তে মানবপাচারের অপচেষ্টা, সতর্ক বিজিবি-জনতা হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আনোয়ারায় দুই পরিবারের কাঁটায় বন্ধ শতাধিক পরিবারের চলার পথ হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী? চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান হলিউড অভিনেতা খুন, প্রেমিকার ছেলে গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ১ স্বর্ণ ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা এআই এজেন্টের নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রজেক্ট সোলারা কেএফটির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তের বিশ্বজয়, রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক অর্জন সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায়  হামে এক শিশুর মৃত্যু নড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি মুকুসদপুরে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি জামালপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সাঘাটায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ চ্যাটজিপিটির মেমোরি ফিচারে বড় পরিবর্তন বিমানবাহিনী জাদুঘরে রেনেসন্স হোটেলের বাহার রেস্টুরেন্টে শুরু হচ্ছে ‘ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ’ বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঘুঘুর বাচ্চা নামাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা পরও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে তরুণীর হুমকি, ‘আমার স্বামী পুলিশ’ দেওয়ানগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে যুবক নিহত সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী
Nagad desktop

খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশ মানিকগঞ্জের টাউন বাজারে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক শৌচাগার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:১৩ পিএম
মানিকগঞ্জের টাউন বাজারে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক শৌচাগার
প্রতীকী ছবি

মানিকগঞ্জ শহরের টাউন বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বাজারের দুটি শৌচাগার ও তিনটি প্রস্রাবখানা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। প্রয়োজনের সময় শৌচাগার ব্যবহার করতে না পেরে অনেকে বাধ্য হয়ে আশপাশের এলাকায় মলমূত্র ত্যাগ করতেন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছিল। শৌচাগারগুলো থেকে উৎকট গন্ধ ছড়ানোয় আশপাশের দোকানদাররাও ছিলেন বিরক্ত ও অসহায়।

বিষয়টি তুলে ধরে গত ২৩ মার্চ খবরের কাগজের ছাপা সংস্করণে ‘পয়োনিষ্কাশনের সুযোগ নেই, বিপাকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরপরই ব্যবস্থা নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই মানিকগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে টাউন বাজার এলাকা পরিদর্শন করা হয়। অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা টাউন বাজারে দুটি শৌচাগার, দুটি প্রস্রাবখানা ও একটি টিউবওয়েল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। 

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের আওতায়। এতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৮৬ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুপ্তি দিপ্তি ট্রেডার্স।

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা যায়। শ্রমিকরা জানান, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

বাজারের একাধিক দোকানি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই শৌচাগারগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে ছিল। আমরা এগুলো ব্যবহার করতে পারতাম না। এখন নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে দেখে ভালো লাগছে। এ জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ আমাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। কাজটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সেই দাবি করছি।’
 
ক্রেতা মেহজাবিন আক্তার বলেন, ‘বাজারে এলে জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। মেয়েদের জন্য এটা আরও বেশি সমস্যা। এখন নতুন শৌচাগার হলে অনেক উপকার হবে।’
 
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সিজারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ প্রকল্পের কাজ পেয়েছি। এখানে দুটি শৌচাগার, দুটি প্রস্রাবখানা এবং একটি টিউবওয়েল নির্মাণ করা হবে। টানা বৃষ্টির কারণে জুলাইয়ের শুরুতে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন আমরা দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেছি। যত দ্রুত সম্ভব এটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।’

পৌর প্রশাসক সানজিদা জেসমীন বলেন, ‘এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পরই আমরা টাউন বাজার পরিদর্শন করি। সেখানে দুটি শৌচাগার, দুটি প্রস্রাবখানা ও একটি টিউবওয়েল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। কাজটি শেষ করার জন্য চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’

পুশইনের আড়ালে সীমান্তে মানবপাচারের অপচেষ্টা, সতর্ক বিজিবি-জনতা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
পুশইনের আড়ালে সীমান্তে মানবপাচারের অপচেষ্টা, সতর্ক বিজিবি-জনতা
ছবি: খবরের কাগজ

একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশইনের চেষ্টা, অন্যদিকে সীমান্তকেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তা-এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে দিন-রাত কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার চক্র অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। জনপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে এসব চক্র বাংলাদেশে প্রবেশের প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে প্রতিদিনই একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) রাতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা প্রতিহত করে। ওই ছয়জন বর্তমানে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়রাও নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি খবরের কাগজকে বলেন, 'সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না। মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কয়েকজনকে ইতমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে'।

স্থানীয়দের মতে, বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে সীমান্তঘেঁষা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় থাকা হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক বা জড়ো করা ব্যক্তিদের রাখা হচ্ছে এবং পরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মিলন/থিও/

হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
ময়মনসিংহের সীমান্তবাসীকে সচেতন করতে মাইকিং করছে বিজিবি। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় তাদেরকে পুশইন করার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিজিবি জানায়, ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধীনস্থ হালুয়াঘাটের রামচন্দ্রকুড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর নিটকবর্তী এবং সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ২২ বিএসএফের বাবুরাম বিল ক্যাম্পের আওতাধীন চেরাংপাড়া নামক স্থানে ৫ থেকে ৬ জনকে ভারতের মেঘালয় থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়।

এরপর শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদেরকে মানবপাচারকারী চক্রের সহায়তায় বাংলাদেশে পুশইনের জন্য চেষ্টা চলছিল বলে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে বিজিবি। এ সময় বিজিবি এবং স্থানীয় জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অপপ্রয়াস প্রতিরোধ করা হয়।

বিজিবি আরও জানায়, পুশইন ঠেকাতে সব বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পুশইন সম্ভাব্য এলাকায় ২৪ ঘণ্টা বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীকে এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশি দালালদের পরিচয় নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

আনোয়ারায় দুই পরিবারের কাঁটায় বন্ধ শতাধিক পরিবারের চলার পথ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আনোয়ারায় দুই পরিবারের কাঁটায় বন্ধ শতাধিক পরিবারের চলার পথ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুই পরিবারের স্বেচ্ছাচারিতায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে একটি পুরো সমাজ। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা গ্রামের রাজা তালুকদার বাড়ির প্রধান রাস্তায় কাঁটা বিছিয়ে ও ডালপালা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার অন্তত ১০০টি পরিবার।

স্থানীয় সামাজিক বৈঠক কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সিদ্ধান্ত, কোনো কিছুই মানছেন না অভিযুক্ত ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের পরিবার। ফলে দীর্ঘ এক বছর ধরে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ শত শত মানুষকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে সরেজমিনে রাজা তালুকদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র চলাচলের সড়কটিতে কাঁটা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সেই কাঁটার উপর দিয়েই অত্যন্ত ঝুঁকি ও কষ্টে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় সেখানে জড়ো হওয়া শতাধিক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের পরিবারের সদস্যরা ধর্ষণ ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গত বছর চলন্ত বাসে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় ছৈয়দুল হকের ছেলে শাহেদ গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর জেল খাটেন। এ ছাড়া তার ভাই কালা মিয়া ও নজরুল মাদক মামলার তালিকাভুক্ত আসামি।

এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কড়া হুঁশিয়ারি দিলে ক্ষিপ্ত হয় অভিযুক্ত পরিবার দুটি। এরপরই তারা সড়কটি নিজেদের জায়গা দাবি করে প্রধান ফটক আটকে কাঁটা বিছিয়ে দেয়। এতে দেলোয়ার হোসেন, আবদুস সবুর, শাহাদাত, কালু মিয়াসহ প্রায় ১০০টি পরিবার কার্যত বন্দী হয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী ৬৫ বছর বয়সী মো. মোজাহের বলেন, জন্মের পর থেকেই এই রাস্তা দিয়ে আমরা যাতায়াত করছি। গত বছর সমাজের এক সালিশি বৈঠকে ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের ছেলেদের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় তারা রাস্তার মুখে কাঁটা দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।

বাড়ির ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা লায়লা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কতভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তারা রাস্তা থেকে কাঁটা সরায়নি। আমরা মেম্বারকেও জানিয়েছি, কোনো লাভ হয়নি।

রাস্তাটি বন্ধ থাকায় এলাকার সামাজিক ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আইনজীবী মো. আবদুর রহিম বলেন, বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে। এমনকি কোনো বিয়েশাদির আয়োজন হলে আমরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি, কারণ বাড়িতে ঢোকার কোনো রাস্তা নেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমি নিজে কয়েকবার সামাজিক বৈঠক ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছৈয়দুল হকের পরিবার ওই জায়গা নিজেদের দাবি করে কোনো সালিশ-বিচার মানছে না।

যোগাযোগ করা হলে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা খবরের কাগজকে বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে বা বাধা সৃষ্টি করে কাউকে দুর্ভোগে ফেলার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আতিকুল হা-মীম/খাদিজা রুমি/ 

হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপি সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির এমন অবৈধ পুশইন রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।

শুক্রবার (৫ জুন) সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি প্রবেশে বাধা দেয়। পরে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘মশালগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের একটি চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সীমান্তে আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ও তৎপর রয়েছে। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

নবীন হাসান/আমান

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে টহল জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। দর্শনা, জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামের সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিজিবির উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রামে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে, রাতে অপরিচিত বা সন্দেহভাজন কাউকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখলে যেন দ্রুত বিজিবি ক্যাম্প বা নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, 'সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে রাতে টহল ও ভিজিল্যান্স কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা পুশইনের কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না'।

মিজানুর রহমান/থিও/