মানিকগঞ্জ শহরের টাউন বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বাজারের দুটি শৌচাগার ও তিনটি প্রস্রাবখানা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। প্রয়োজনের সময় শৌচাগার ব্যবহার করতে না পেরে অনেকে বাধ্য হয়ে আশপাশের এলাকায় মলমূত্র ত্যাগ করতেন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছিল। শৌচাগারগুলো থেকে উৎকট গন্ধ ছড়ানোয় আশপাশের দোকানদাররাও ছিলেন বিরক্ত ও অসহায়।
বিষয়টি তুলে ধরে গত ২৩ মার্চ খবরের কাগজের ছাপা সংস্করণে ‘পয়োনিষ্কাশনের সুযোগ নেই, বিপাকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরপরই ব্যবস্থা নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই মানিকগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে টাউন বাজার এলাকা পরিদর্শন করা হয়। অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা টাউন বাজারে দুটি শৌচাগার, দুটি প্রস্রাবখানা ও একটি টিউবওয়েল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের আওতায়। এতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৮৬ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুপ্তি দিপ্তি ট্রেডার্স।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা যায়। শ্রমিকরা জানান, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
বাজারের একাধিক দোকানি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই শৌচাগারগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে ছিল। আমরা এগুলো ব্যবহার করতে পারতাম না। এখন নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে দেখে ভালো লাগছে। এ জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ আমাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। কাজটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সেই দাবি করছি।’
ক্রেতা মেহজাবিন আক্তার বলেন, ‘বাজারে এলে জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। মেয়েদের জন্য এটা আরও বেশি সমস্যা। এখন নতুন শৌচাগার হলে অনেক উপকার হবে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সিজারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ প্রকল্পের কাজ পেয়েছি। এখানে দুটি শৌচাগার, দুটি প্রস্রাবখানা এবং একটি টিউবওয়েল নির্মাণ করা হবে। টানা বৃষ্টির কারণে জুলাইয়ের শুরুতে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন আমরা দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেছি। যত দ্রুত সম্ভব এটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।’
পৌর প্রশাসক সানজিদা জেসমীন বলেন, ‘এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পরই আমরা টাউন বাজার পরিদর্শন করি। সেখানে দুটি শৌচাগার, দুটি প্রস্রাবখানা ও একটি টিউবওয়েল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। কাজটি শেষ করার জন্য চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’