ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পালকযুক্ত নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজার নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে খেলাঘর আসর বরিশাল জেলা সম্মেলন তরুণদের সবচেয়ে বড় উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ তিস্তা রক্ষায় পরিকল্পিত ড্রেজিং, নির্মিত হবে টেকসই বাঁধ: পানিসম্পদমন্ত্রী পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু এনড্রিককে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয় : আনচেলত্তি না ফেরার দেশে কবি আল মুজাহিদী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর

চর আষাড়িয়াদহের ডাকঘর এখন মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫১ এএম
আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ০২:০৫ পিএম
চর আষাড়িয়াদহের ডাকঘর এখন মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার
রাজশাহীর চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের পাশের একটি ভবনে ইউনিয়ন সাব-পোস্ট অফিসটি এখন মোবাইল ফোন সার্ভিসিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

দশক খানেক আগেও জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলে ভেসে আসত হস্তলিখিত চিঠির কালিমাখা গন্ধ। কোনো চিঠিতে থাকত প্রবাসে থাকা বাবার খবর, কোথাও ভালোবাসার নরম বার্তা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহের সাব-পোস্ট অফিসে এমনই কত শত গল্প জমা ছিল একসময়।

কিন্তু সেই ডাকঘরে এখন চলছে মোবাইল ফোন মেরামত। যেখানে একসময় ডাক বিভাগের কর্মচারী ডাক ছাঁটাই করতেন, এখন সেখানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো চার্জার, মোবাইল ফোন আর ফ্যানের খুচরা যন্ত্রাংশ। পেছনের ঘরে একজন ব্যক্তি ব্যস্ত মোবাইল ফোন সারাইয়ে।

চর আষাড়িয়াদহের এই ডাকঘর যেন ডিজিটাল যুগের এক প্রতীকী দৃষ্টান্ত- পুরোনো ব্যবস্থার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন এক বাস্তবতা। সামনের দেয়ালে আজও টাঙানো লাল রঙের চিঠির বাক্সটি মনে করিয়ে দেয়, এটি একটা পোস্ট অফিস। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে ভিন্ন চিত্র। কাঠের টেবিলজুড়ে মোবাইল ফোন যন্ত্রাংশ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্ক্রিনগার্ড আর সার্ভিসিং যন্ত্রপাতি।

জানা যায়, পোস্ট অফিসটি এখন ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করছেন স্থানীয় রুবেল নামে এক যুবক। তিনি নিজেই বললেন, ‘পোস্টমাস্টার আমাকে বসতে দিয়েছেন। আমি প্রতি মাসে ৪০০-৫০০ টাকা ভাড়া দিই। কোনো নিয়োগপত্র নেই। পোস্টমাস্টার বললে চলে যাব।

স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বলেন, ডাক বিভাগ একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল। চিঠি, মানি অর্ডার, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র- সবই চলত পোস্ট অফিস ঘিরে। এই ডাকঘরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এখনো স্মরণ করি সেই দিনগুলো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ডিজিটাল যোগাযোগের দাপটে হারিয়ে গেছে হাতে লেখা চিঠির আবেদন। সেই সঙ্গে হারিয়েছে দায়িত্বশীলতা, তদারকি আর সরকারি সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। তাই ডাকঘর এখন রূপান্তর হয়েছে পরিত্যক্ত ভবন হিসেবে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নিশান আলী ক্ষোভ নিয়ে বলেন, সরকারি অফিসকে দোকান বানিয়ে রাখা হয়েছে। চিঠি নেই, কর্মী নেই- এটা এখন পরিত্যক্ত ভবন। অথচ বাইরে পোস্ট অফিস লেখা। এটা আমাদের জন্য অপমানজনক।

শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন বলেন, ইউনিয়নে একটিই ডাকঘর। সেটাও যদি দোকান হয়ে যায়, তাহলে তো যোগাযোগের পুরোনো ব্যবস্থাও আর রইল না। সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা কোথায় রাখব?

এ ডাকঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার গোলাম জার্জিস বললেন, উদ্যোক্তা না থাকায় একজনকে অফিস দেখাশোনা করতে বলেছিলাম। সে এখন দোকান করছে। কয়েকবার বলেছি ছাড়তে, এখনো ছাড়েনি। ভবন ভাড়া দিয়ে মাসে কত আয় হয়, এমনটা জানতে চাইলে জার্জিস বলেন, আমি মাসে ১০০ টাকা অফিসে জমা দিই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উত্তরাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, সরকারি ভবন ভাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজ অবৈধ। কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে তার সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র থাকতে হবে। মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ের অনুমোদন নেই। আমি খোঁজ নিচ্ছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজার নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজার নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিউটিরত ট্যুরিস্ট পুলিশ। -ছবি : মামুন হোসেন

শাহজালালের মাজারে ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করার পর পর্যটকদের সুবিধার্থে এবার মাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিযুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকেই মাজারের ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তবে এই প্রথম এমন চিত্র দেখা গেছে। তার আগে (শাহজালাল রা.) মাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়ন করা হয়নি।

প্রশাসন বলছেন, পর্যটকদের  নিরাপত্তার জন্যই ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে মাজারের তিনটি ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় একটি দানবাক্সসহ ছোট-ছোট আরও কয়েকটি দানবাক্স মাজারের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়। পাশাপাশি দানবাক্সের পাহারায় আনসার সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের দানবাক্স ও আনসার পাহারা বসানোর সময় দরগাহ কমিটি ও খাদেম পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। মাজারভক্তদের অবস্থান ছিল প্রতিক্রিয়াহীন।

এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের বিষয়টি তখন গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়।

আমান/

পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের পূবাইল চামুড্ডা এলাকায় মোটরসাইকেল ও একটি ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ও মা।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আড়াই বছর বয়সী সাফোয়ান হোসেন শেরপুর থানার বাংড়া এলাকার মো. জুয়েল রানার ছেলে।

আহতরা হলেন, শেরপুর থানার বাংড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল রানা (৩৬) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রুপা (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রামে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন পরিবারটি। সকালে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের পূবাইল থানাধীন চামুড্ডা এলাকায় পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। 

এসময় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে আরোহী তিনজনই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই শিশু সাফোয়ান হোসেনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের চামুড্ডা এলাকায় মোটরসাইকেল ও ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হয়েছে এবং তার বাবা-মা আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পলাশ/আমান

ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত
অবকাশের আনন্দে কক্সবাজার সৈকতজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের উচ্ছ্বাস। ছবি: খবরের কাগজ

সাপ্তাহিক ছুটির দিন। নেই কোনো টানা সরকারি ছুটি। তবুও নগরজীবনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততা ঝেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি, সাগরের গর্জন আর মনোরম আবহাওয়ায় সৈকতজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকেরা সাগরের সঙ্গে মিতালী করে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো সমুদ্রসৈকত। কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা বিচবাইক, ঘোড়ায় চড়া কিংবা ওয়াটার বাইকে (জেটস্কি) রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন। দীর্ঘ তিন কিলোমিটার সৈকতজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য আর উচ্ছ্বাসের এক অনন্য দৃশ্য।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক শরীফুল শাহীন খবরের কাগজকে বলেন, 'ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম হয়। তাই ছুটির দিনে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আবহাওয়া চমৎকার, সমুদ্রও বেশ শান্ত। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছে।'

রাজবাড়ী থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবিনা আলতাফ খবরের কাগজকে বলেন, 'কক্সবাজারে এর আগেও এসেছি, তবে এবার আবহাওয়া অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হচ্ছে। সমুদ্রের বাতাস আর পরিবেশ মনকে ভীষণ প্রশান্ত করেছে।'

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার খবরের কাগজকে বলেন, 'বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকদের উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। বেশ কিছু হোটেলে ভালো বুকিং রয়েছে। আমরা অতিথিদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যাতে কক্সবাজার থেকে তারা সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।'

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ করতে পারছেন।

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম খবরের কাগজকে বলেন, 'আমাদের কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকে। পর্যটকদের নিরাপদ জোনে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা হয়।'

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন খবরের কাগজকে বলেন, 'পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের হয়রানি, অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি পর্যটক কক্সবাজার থেকে নিরাপদ ও সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরুন।'

সাগরের ঢেউ, মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া আর নিরাপদ পরিবেশ মিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কক্সবাজার যেন হয়ে উঠেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক বিশাল মিলনমেলা। স্বস্তি আর প্রশান্তি খুঁজে নিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার।

তারেকুর রহমান/থিওটোনিয়াস

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পুকুরের পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, রিপন চৌধুরীর ছেলে আব্দুর রহমান (১২) এবং একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ফয়সাল (৭)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯জুন) সকালে দুই শিশু সাইকেল নিয়ে নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের পাশেই পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসলের সময় তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে।

আতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক খবরের কাগজকে জানান, তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। তাদের বাড়ি নাল্লাপাড়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশেই। খেলার পর গোসলের সময় সম্ভবত সাত বছরের ফয়সাল পানিতে ডুবে যায়। এরপর সেই ফয়সালকে উদ্ধার করতে ১২ বছরের আব্দুর রহমান যায়। সেখানে উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হয়ে দুজনেই পানিতে মারা যান। এরপর পথচারীরা স্থানীয় লোকজনকে অবগত করেন এবং দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জুয়েল রানা/থিওটোনিয়াস

মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় এলাকায়  আড়ৎ ও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙ্গাসের পোনা ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না নিয়ম নীতি। বড়ো সাইজের পাঙাশ মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। আর এই ছোট সাইজের পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি হয় মাত্র ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি। মৎস্য বিভাগ বলছে, লজিস্টিক সাপোর্ট সহ লোকবল সংকটে নদী ও  আড়ৎ-তে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন চাঁদপুর শহরের ওয়ালে বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড়, বহরিয়া বাজারে এসব পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ত ও হরিণা মাছঘাটে খোলামেলা ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরিণা মাছঘাটে দেখা গেল প্রতিটি  আড়ৎ-তে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ এসব বিষয়ে কারও মধ্যে ন্যূনতম সচেতনতা নেই। পাশাপাশি সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঙ্গাশের পোনা রক্ষায় কোনো ধরনের অভিযানও নেই।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, 'ইলিশের জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা পড়ে। আগে কম ছিলো, এখন বেশি। ইলিশ আর পাঙ্গাশের পোনা আলাদা দরদামে বিক্রি হয়।'

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, 'গত বছর এই সময় নদীতে ছোট সাইজের প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে। এবার ইলিশ না পাওয়া গেলেও ওইসব জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা বেশি ধরা পড়ছে। জেলেরা নদীতে নেমে যে-সব মাছ পায়, সবই  আড়ৎ-তে এনে বিক্রি করে। তবে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা না ধরাই উত্তম। কারণ বড়ো হলে দাম বেশি।'

এই ঘাট থেকে পাঙ্গাশের পোনা কিনে শহরের বিপনীবাগ বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি বলেন, আজকে তিনি হরিণা ঘাট থেকে ৪ কেজি পাঙ্গাশের পোনা ক্রয় করেছেন ৬শ’ টাকা করে। এগুলো শহরে নিয়ে বিক্রি করবেন ৮শ’ টাকা কেজি দরে। এভাবে এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েক মণ পাঙ্গাশের পোনা কেনা-বেচা হয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙাশ মাছ ধরা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। জাটকা রক্ষায় আমরা যেমন : অভিযান করেছি, এখন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। তারপরেও সদর মৎস্য অফিসকে অভিযান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/