চট্টগ্রাম বন্দরে ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া একটি স্ক্র্যাপবাহী কনটেইনারে স্ক্র্যাপের ভেতরে রেডিও অ্যাকটিভ বা তেজস্ক্রিয় কণিকা পাওয়া গেছে। এই কণিকা আলফা, রশ্মি, গামা আকারে বিকিরণ ছড়ায় যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কনটেইনারটি শনাক্তের পর বর্তমানে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
ব্রাজিলের মানাউস বন্দর ছেড়ে আসা জাহাজে কনটেইনারটি প্রথমে পানামার ক্রিস্টোবাল বন্দর, এর পর নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দর এবং সবশেষ শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ঘুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এই চার বন্দরে বিষয়টি ধরা না পড়লেও চট্টগ্রাম বন্দরে স্থাপিত তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ যন্ত্রে তা ধরা পড়ে। যন্ত্রটির নাম- ‘মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকটিভ সিস্টেম’। যন্ত্রটি ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থাপিত হয়।
স্ক্র্যাপ পণ্যগুলো সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানির (এমএসসি) কনটেইনারে (৪০ ফুট) করে এসেছে। ব্রাজিলের মানাউস শহরে কনটেইনারটিতে স্ক্র্যাপ পণ্য (পুরোনো লোহার টুকরা) বোঝাই করা হয়। এর পর গত ৩০ মার্চ ব্রাজিলের মানাউস বন্দরে এমএসসির একটি জাহাজে কনটেইনারটি তোলা হয়। গত ১৮ এপ্রিল জাহাজ থেকে কনটেইনারটি পানামার ক্রিস্টোবাল বন্দরে নামানো হয়। পরে গত ৩ মে সেখান থেকে আরেকটি জাহাজে তুলে কনটেইনারটি নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দরে নেওয়া হয়। ওই বন্দর থেকে গত ২ জুন আরেকটি জাহাজে করে কনটেইনারটি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে নেওয়া হয়। সেখানে গত ১৫ জুলাই জাহাজ থেকে কনটেইনারটি নামানো হয়। এর পর গত ২৮ জুলাই কলম্বোর সাউথ এশিয়া গেটওয়ে টার্মিনাল থেকে 'মাউন্ট ক্যামরন' নামক জাহাজে কনটেইনারটি তোলা হয়। সেদিনই চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় জাহাজটি। গত ৩ আগস্ট জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
সেদিনই চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বাথ (জিসিবি) টার্মিনালের ৯ নম্বর জেটিতে ওই জাহাজ থেকে পাঁচটি কনটেইনার নামানো হয়। গত ৬ আগস্ট বন্দরের ৪ নম্বর ফটক দিয়ে খালাস করে নেওয়ার সময় একটি কনটেইনারে 'তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ যন্ত্রে' তেজস্ক্রিয়তা থাকার সংকেত বেজে ওঠে।
ওই যন্ত্রে তিনটি রেডিওনিউক্লাইড আইসোটোপের সন্ধান পাওয়া গেছে। তা হলো- থোরিয়াম ২৩২, রেডিয়াম ২২৬ ও ইরিডিয়াম ১৯২। তখনই কনটেইনারটি সরিয়ে আলাদা করে রাখা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস জানায়, রাজধানী ঢাকার ডেমরায় আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেড নামে একটি রড তৈরির কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্রাজিল থেকে পাঁচ কনটেইনার (১৩৫ টন) স্ক্র্যাপ পণ্য আমদানি করেছিল। শুধুমাত্র একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়ে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান বলেন, বন্দরের 'তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ যন্ত্রে' তেজস্ক্রিয়তা থাকার সংকেত বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কনটেইনারটি সরিয়ে আলাদা করে রাখা হয়। আমরা এ ব্যাপারে পরমাণু শক্তি কমিশনকে চিঠি পাঠাব। বিজ্ঞানীরা সরাসরি এসে কনটেইনারে থাকা তেজস্ক্রিয়তার বিষয়ে পরীক্ষা করে দেখবেন। এর পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ কামাল বলেন, যেহেতু কনটেইনারটির বিষয়ে সতর্কসংকেত পাওয়া গেছে, তাই এটি নিরাপত্তার স্বার্থে আলাদা করে রাখতে হবে। যাতে তা মানুষের সংস্পর্শে না আসে। কারণ এতে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা কতটুকু তা পরীক্ষা করে বলতে হবে।
মেহেদী/