ছবি: খবরের কাগজ
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্তে মানবিক সংকটে সৃষ্টি হয়েছে। ভারত থেকে পুশইন হওয়ার অভিযোগে তিন শিশুসহ ১০ নারী পুরুষ গত ৩৮ ঘন্টা ধরে ভারতের সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকা পড়ে রয়েছেন। তাদের গ্রহণ করছে না ভারত আবার বাংলাদেশেও তারা প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে, চারপাশে পানি ঘেরা কৃষিজমির সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারায় ভারতের শূন্য রেখায় আটকে আছেন৷ ফলে ওই পারে ভারতীয় বিএসএফ, মাঝে সেই ভুক্তভোগী ১০ জন, আর বাংলাদেশ অংশে দিকে বিজিবি অবস্থান করছে। তাদের কেউ না টানায় মাঝখানে তারা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় অংশে মাত্র এক হাত প্রস্থের একটি আইলের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। চারদিকে পানি জমে থাকা কৃষিজমিতে। শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে আইলের পাশের পানির উচ্চতা আরও বেড়েছে। তারা বসলে পা ডুবে যাচ্ছে পানিতে, আর শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে কাপড়ের ব্যাগ। তাও আবার লম্বালম্বি হয়ে কষ্ট করে শুতে হচ্ছে। দিনভর প্রখর রোদ্রের মধ্যে অতিবাহিত করার পর ওই ১০ শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সবাইকে কাটাতে হচ্ছে আরেকটি অনিশ্চিত রাত। বৃষ্টি হলে হয়তো তাদের আশ্রয়স্থলের আইলটিও পানিতে ডুবে যাবে৷ এছাড়া তাদের সেই স্থান থেকে নড়তে দেয়া হচ্ছে না।।
পুইশনের শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন শিশু, দুই নারী, একজন বৃদ্ধ ও চারজন পুরুষ রয়েছে । তাদের বলছেন, শুক্রবার ভোর থেকে তারা কার্যত অনাহারে রয়েছেন। মাঝে মধ্যে আশপাশের জমির পানি পান করেই তৃষ্ণা মেটাতে হচ্ছে। বিজিবি থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।
জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ তাদের সীমান্তের গেট থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকা পড়ে। পরে পর পর তিন দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, বিজিবি তাদের ভারত থেকে ঠেলে দিয়ে কাজটি ঠিক করেনি। ভারতের শূন্য রেখায় যেহেতু তারা এখনও অবস্থান করছে তাই তাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেয়ার উচিত বলে জানান।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু বিএসএফ পুশইন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং তাদের ফেরত নিতেও অস্বীকার করেন। তবে ভিকটিমও স্বীকার করছে তাদের ভারত থেকে সীমান্ত পার করে দেয়া হয়েছে।
মো: রনি মিয়াজী/এসএন