সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীপুর পাথরমহালের রাংপানির দৃশ্যপট এক দিনেই বদলে গেছে। খবরের কাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের দিনই রাংপানির পাথর লুটেরাদের হটিয়ে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
এ বিষয় সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাংপানি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মূলত রাংপানি বাংলাদেশ সীমান্তে এখন কোনো পাথর নেই। যখন এখানে কোয়ারি ছিল তখনই সে জায়গার সব পাথর তুলে ফেলা হয়েছিল। বর্তমানে রাংপানি বাংলাদেশ সাইডে শুধুই পানি।’
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরই দৃশ্যপট বদলেছে জানিয়ে অধিনায়ক আরও বলেন, ‘যে শ্রমিকরা পাথর তুলছিলেন সেটা ইন্ডিয়ার অংশ। এবং রাংপানিতে যে ঝরনা আছে সেটাও ইন্ডিয়াতে পড়েছে। সেখানে যাওয়া যায় না। কিন্তু মিডিয়াতে দেখে অনেক পর্যটক সেখানে চলে যান। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে যাওয়া যায় না। তাই পর্যটকদের অনুরোধ করব রাংপানি ঝরনা শুধু বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে। সেখানে কোনোভাবেই যাওয়া যাবে না।’
রাংপানি জিরো পয়েন্ট কঠোর নিরাপত্তায় থাকবে জানিয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, ‘শূন্য রেখার যে জায়গা থেকে গতকাল পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল, সে জায়গায় আজ কেউ ছিল না। শূন্য রেখায় প্রবেশের রাস্তায় বিজিবির একটি টহল দল ছিল। জিরো পয়েন্টে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।’
স্থানীয়রা জানান রাংপানিতে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। তবে সাদা পাথর লুটেরাদের বিরুদ্ধে যেদিন থেকে অভিযান শুরু হয়, সেদিন থেকে রাংপানিতে লুটের পরিমাণ বেড়ে যায়। গত রবিবার রাংপানির যেখানে পাথর লুট করা হচ্ছে সেখানে সাংবাদিকরা গেলে শ্রমিকরা পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর ভাঙা ও উত্তোলনের সরঞ্জাম দিয়েও হামলা করা হয়। রাংপানি থেকে লুট করা পাথরগুলো স্পট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরেই স্তূপ করে রাখতেও দেখা গেছে।
খবরের কাগজের প্রথম পাতায় গতকাল সোমবার ‘এবার রাংপানির রাঙা পাথর লুট’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর আগের দিন রবিবার রাংপানি থেকে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার হয় খবরের কাগজের ফেসবুক পেজে। একই সঙ্গে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও একযোগে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাংপানির আশপাশের বাসিন্দারা।
সাদা পাথর লুটের তদন্তকালে ইউএনও বদলি
সাদা পাথর লুটের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পেরে আরও তিন দিন সময় চেয়েছিল। সময় দেওয়ার পর দিনই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে। সাদা পাথর এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অধীন।
গতকাল সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আজিজুন্নাহারকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও করা হয়েছে। তদন্তকালে ইউএনও প্রত্যাহার করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীকেও বদলি করে তিন দিন পর আবার পুনর্বহাল করেছিলেন বিভাগীয় কমিশনার।
> সাদা পাথর লুটের তদন্তকালে ইউএনও বদলি
> এবার জৈন্তাপুরে রাংপানির ‘রাঙা’ পাথর লুট!
> ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে-সাদা পাথর: আ.লীগে শুরু, বিএনপিতে বিনাশ
> দুই দিনে দেড় লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার, ভোল পাল্টাল স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত
> সাদা পাথর লুটের মামলার একমাত্র সাক্ষী গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ!