গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় উত্তর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের চিথলিয়া বিলের ১ হাজার একর জমি দখল করে মাছ চাষের পাঁয়তারা করছেন প্রভাবশালীরা। এ বিল ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করে চার গ্রামের অন্তত ৪০০ পরিবার। কিন্তু দখল প্রচেষ্টায় বিপাকে পড়েছেন জমির মালিক ও স্থানীয়রা। তবে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলায় রয়েছে ছোট-বড় অন্তত ২২৯টি বিল। এর মধ্যে একটি চিথলিয়া বিল। এ বিলে বছরে একবার ধান চাষ করতে পারেন জমির মালিকরা। এপ্রিলের শেষে বিল থেকে ধান কাটা হয়। তারপর বিলে পানি চলে আসে। প্রাকৃতিকভাবে এখানে মাছ, শাপলা ও ঘাস জন্মে। বিলের পাশে উত্তর বাঁশবাড়িয়া পাকুরতিয়া, চিথলিয়া ও লেবুতলা গ্রামের ৪০০ পরিবারের সদস্যরা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শাপলা, ঘাস ও মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সেই বিলে নজর পড়েছে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির। তারা সেখানে মাছের ঘের করতে চান।
প্রভাবশালী আনসার তালুকদার, দবির তালুকদার, কামাল মোল্যা, মেরাজ তালুকদার ও আকরাম শেখ বিলে জোরপূর্বক বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সরকারি খালের এক প্রান্ত বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় উত্তর পাকুরতিয়া গ্রামের কাইয়ূম তালুকদার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা প্রশাসন গত ২৪ জুলাই খাল থেকে বেড়া উচ্ছেদ করে। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে দখলকারীরা অভিযোগকারীকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে জমির মালিক ও স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দিয়ে ফের বিল ঘেরার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কাইয়ূম তালুকদার বলেন, ‘এ ব্যাপারে অভিযোগ দিই। তাই প্রভাবশালীরা আমাকে মারধর করেছেন। ঘটনার তদন্ত করে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমরা পরিত্রাণ পাব।’
উত্তর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শিপন শেখ বলেন, ‘প্রভাবশালী ওই ব্যক্তিদের বিলে মাত্র দেড় একর জমি আছে। বাকি জমি চার গ্রামের মানুষের। তারা জোর করে বিল ঘিরে মাছ চাষ করতে চাইছেন। গত বছরও একইভাবে মাছ চাষ করেছিলেন। তখন জমির মালিকদের লাভের টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও দেননি। এ ছাড়া মাছ চাষের সময় তারা বিলের মাছ, শাপলা সংগ্রহ ও ঘাস কাটতে দিতেন না। এতে বিলের ওপর নির্ভরশীল ৪০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
অভিযুক্ত দবির তালুকদার বলেন, ‘আমরা জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছি। এ ব্যাপারে স্ট্যাম্পে জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। আমরা সরকারি খাল আটকাইনি। নিয়ম মেনেই মাছ চাষ করছি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’ গত বছর জমির মালিকের টাকা না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই বছর মাছ চাষে লোকসান হয়েছে। এ কারণে জমির মালিকদের টাকা দিতে পারিনি। এ বছর চাষ করতে পারলে আশা করি লাভ হবে। জমির মালিকরা চুক্তি অনুসারে টাকা পাবেন।’
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড় বলেন, ‘চিথলিয়া বিল দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে সরকারি খাল থেকে বেড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি খালে বেড়া দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে কাউকে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না।’