ওসির ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে চাঁদাবাজির মামলা। অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আরেক সাংবাদিক। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় এক বছর ধরে ঘরছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি। এছাড়াও পেশাদার অনেক সাংবাদিককে ফ্যাসিস্টের দোসর ট্যাগ দিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে চরিত্র হনন করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব আয়োজিত সাংবাদিক সমাবেশে মামলা ও গ্রেপ্তার ছাড়াও নানাভাবে সাংবাদিক হয়রানি ও নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে।
সমাবেশে সাংবাদিকদের হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো ও গ্রেপ্তার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানান সাংবাদিকরা।
এছাড়া সমাবেশে সাংবাদিক পরিচয়ধারী নানা অপরাধে জড়িত দুর্বৃত্তদের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চরিত্র হনন এবং চাঁদাবাজিতে জড়িত মোছাব্বির হাসান (সজিব হাসান), ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক আরিফ, সোহেল আহাদ ও তৌহিদুর রহমান খান নিটলসহ জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক নামধারী এসব অপরাধীদের আনুকুল্য প্রদানের মাধ্যমে বর্তমান জেলা পুলিশ প্রশাসন পেশাদার সাংবাদিকদের আরও নিরাপত্তাহীন করে তুলেছেন বলেও অভিযোগ উত্থাপিত হয় সমাবেশে।
সমাবেশে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়েছে বাঞ্ছারামপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন থানায়। ওই উপজেলার তেজখালীর একটি ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া মামলার আসামি হিসেবে গত এক বছর ধরে ঘরছাড়া দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি সজল আহমেদ। দৈনিক প্রথম আলোর সরাইল উপজেলা প্রতিনিধি বদর উদ্দিনকে জড়ানো হয়েছে ঢাকার একটি হত্যা মামলায়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের অন্তত ৫ জন সাংবাদিককে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি সরাইল থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় গাজী টিভির জেলা প্রতিনিধি জহির রায়হানকে। যদিও ওই মামলা দায়েরের পর তৎকালীন পুলিশ সুপার মো. জাবেদুর রহমান সাংবাদিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরাইল থানার ওসির কাছে ঘটনায় জহিরের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা জানতে চান। ওসি ‘না’ বলার পর তদন্তে তাকে অব্যাহতি দিতে বলেন তিনি। কিন্তু কোনোরকম তদন্ত ছাড়াই হঠাৎ তাকে গ্রেপ্তার করা হয় সাংবাদিক জহিরকে।
গত ৬ জুলাই দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু ও যমুনা টিভির আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মিশুর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়।
সর্বশেষ আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের ওসির ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ফজলে রাব্বি ও আরটিভির আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হয়। এছাড়াও ইতোপূর্বে জেলার বিজয়নগরে ফসলি জমির মাটি কাটা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলা দেয়া হয় দৈনিক দেশ রূপান্তরের জেলা প্রতিনিধি মাঈনুদ্দিন রুবেলের বিরুদ্ধে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে সাংবাদিক সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ইব্রাহীম খান সাদাত, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আরজু ও খ. আ. ম. রশিদুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি মনজুরুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান, আ. ফ. ম. কাউসার এমরান ও দীপক চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটু, পীযূষ কান্তি আচার্য, আল আমীন শাহীন, শেখ মো. শহিদুল ইসলাম ও মফিজুর রহমান লিমন, কোষাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বেলাল এবং দপ্তর সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ প্রমুখ।
আজিজুল সঞ্চয়/মাহফুজ