‘তপ্ত রোদ। সূর্যের তেজে ঘেমে, নেয়ে একাকার অবস্থা। এর মধ্যে সড়কের ওপর গোড়ালি সমান পানি। বৃষ্টি হয়েছে গত সোমবার। মঙ্গলবারও সড়কের পানি নামেনি। চিন্তা করুন আমরা কেমন দুর্দশার মধ্যে আছি।’ কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম শহরের মোহরা বাহির সিগন্যাল এলাকার বাসিন্দা ফজল বারী। পেশায় দিন মজুর ফজল বারীর মতো প্রতিনিয়ত এই সমস্যায় ভোগেন নগরের বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত চার লেনের সড়কটির বালুর টাল এলাকা থেকে বাহির সিগন্যাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফুট পানিতে ডুবে আছে। এই সড়ক দিয়ে মোহরার বাসিন্দারা ছাড়াও হাটহাজারীর একাংশের মানুষ, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের বাসিন্দারা চট্টগ্রাম শহরে আসা-যাওয়া করেন।
অন্যদিকে, কালুরঘাট হয়ে বোয়ালখালী উপজেলা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাংশের মানুষ চট্টগ্রাম শহরে আসা-যাওয়া করেন। তা ছাড়া বাহির সিগন্যালের আশপাশে এ এল খান উচ্চ বিদ্যালয়, সিডিএ পাবলিক স্কুল, ইস্পাহানী স্কুল, আল আমিন বারীয়া সিনিয়র ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। তাদের সবাইকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই পথ ব্যবহারকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তবে অধিকারকর্মীর ভাষ্য, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও চট্টগ্রামবাসী জলাবদ্ধতার সংকট থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। সরকারের উচিত এর কারণ খুঁজে বের করা। যদিও সিটি করপোরেশনের মেয়রের দাবি, তিনি ওই এলাকা সম্প্রতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। আরাকান সড়কের বাহির সিগন্যাল এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়ে কেউ তাকে আগে জানাননি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
কথা হয় অমিত নামের একজন মোটরসাইকেল আরোহীর সঙ্গে। তিনি এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন। বলেন, ‘রাস্তা থেকে নালায় পানি নামার পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নামতে পারেনি। তাই এই রোদের মধ্যেও জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সারাক্ষণ পানি জমে থাকার কারণে এই এলাকার সড়ক অল্পতেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ এল খান উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র বলে, ‘একবার বৃষ্টি হলে আমাদের কয়েকদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পানিতে পড়ে বই-ইউনিফর্ম ভিজিয়ে ফেলে। বড় গাড়ির চাকার ঝাপটায় অনেক সময় ময়লা পানি এসে গায়ে পড়ে। তখন স্কুলে না গিয়ে বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হই।’
চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ‘মোহরাবাসী আসলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছে। হালদার জোয়ারের পানি মোহরা ওয়ার্ডের বড় একটি অংশকে প্রতিনিয়ত ডোবাচ্ছে। এখন প্রধান সড়কের ওপর এভাবে বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারি চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। আরও টাকা খরচ করা হচ্ছে। কিন্তু এর পরিপূর্ণ সুফল মিলছে না। এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করার পরও কেন জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ মিলছে না তা সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘মোহরা এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি আমি সেখানকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। মহসিন রোড নামে একটি সড়কের উন্নয়ন কাজও করছি। তবে আরাকান সড়কের বাহির সিগন্যাল এলাকায় প্রায় ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে পানি জমে থাকার বিষয়টি কেউ আমাকে জানাননি। আমি খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।