পটুয়াখালীর বাউফলে গত ২৩ আগস্ট নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর উর্মি আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিক তার হত্যার রহস্য জানা না গেলেও এবার সামনে এসেছে এক ভয়ংকর সত্য। জানা গেছে পছন্দের ছেলেকে বিয়ের জেদ ধরায় তাকে নিজ হাতে হত্যা করছেন তারই আপন মা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম।
গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে নিহত উর্মীর বাবা, মা ও দুলাভাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।
এর আগে দৈনিক খবরের কাগজে "বাউফলে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
পড়ুন এখানে > বাউফলে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার
নিহত উর্মি আক্তার উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোসিংগা গ্রামের নজরুল বয়াতির মেয়ে।
বাউফল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে নিখোঁজ নাটক করে উর্মীর পরিবার। পরে ৩০ ঘন্টা পর ২৩ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে কুম্ভখালী খালে উর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিখোঁজ নাটক করে বাবা নজরুল ইসলাম বয়াতি বাদী হয়ে একই দিন রাতে বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশি নজরে থাকেন নিহতের মা আমেনা বেগম, বাবা নজরুল ইসলাম বয়াতি ও দুলাভাই কামাল হোসেন। অবশেষে হত্যাকাণ্ডের ৭দিন পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় বাউফল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাদের তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন তারা।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার রাতে উর্মীর পরিবার তাকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন একপর্যায়ে উর্মীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময়ে উর্মীর মা রাগান্বিত হয়ে উর্মীর গলা চেপে ধরেন এবং দুলাভাই কামাল হোসেন উর্মীর হাত চেপে ধরে রাখেন। এতে ঘটনাস্থলেই উর্মীর মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যরা উর্মীর মরদেহ পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেন।
বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই তিনজনই আমাদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
মশিউর/মেহেদী/