ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু এনড্রিককে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয় : আনচেলত্তি না ফেরার দেশে কবি আল মুজাহিদী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং

মৌলভীবাজারে বন্ধ হতে চলেছে ডায়ালাইসিস সেবা, শঙ্কায় কিডনি রোগীরা

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৫৫ পিএম
মৌলভীবাজারে বন্ধ হতে চলেছে ডায়ালাইসিস সেবা, শঙ্কায় কিডনি রোগীরা
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য চালু থাকা ডায়ালাইসিস সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বর্তমানে সীমিত পরিসরে মাত্র ১৫ জন পুরোনো রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কোনো রোগীকে গত এক মাস ধরে ডায়ালাইসিসের আওতায় নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পুরোনো রোগীদের জন্য যে সেবা এখনও সীমিতভাবে চলছে, সেটিও আগামী সেপ্টেম্বরের পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

এদিকে এই সংকটে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কিডনি রোগীরা। জীবন রক্ষাকারী এই নিয়মিত চিকিৎসার জন্য তারা এখন বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে, যেখানে প্রতি সেশনে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা। 

জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সেবাটি সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন রোগী, স্বজন ও সচেতন মহল।

মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে মোট ১৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে ১৫টি। প্রতিটি রোগীকে ২০ হাজার টাকার প্যাকেজে ৪৮টি সেশনের ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হয়। প্রতি সেশনের গড় ব্যয় প্রায় ৪০০ টাকা, এখানে বাকিটুকু সরকারিভাবে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করা হয়ে থাকে। মাসে প্রায় ৩০০ সেশন পরিচালনার জন্য প্রতি বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার প্রয়োজন।

কয়েকজন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। সরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা পাওয়ায় অনেকেই বেঁচে থাকার আশা পেয়েছিলেন। এখন তা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। 

তারা আরও জানান, সরকারি হাসপাতালে সিরিয়াল পাওয়া যায় না। আর বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি সেশনে ৩ হাজার ৫০০ টাকা লাগে। কেউ কেউ সিলেট শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এতে যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ আছে। প্রাইভেটে ডায়ালাইসিস চিকিৎসা নেওয়া অনেক ব্যয়বহুল, যা সব রোগী বহন করতে পারে না।

কিডনি রোগী লোকমান আহমেদ বলেন, সরকারি হাসপাতালে আগে ডায়ালাইসিস করতাম। মাঝে একটি ইনফেকশনের কারণে প্রাইভেট হাসপাতালে যাই। সেখানে ডায়ালাইসিস করাই। এখন সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, নতুন রোগীদের আর নেওয়া হচ্ছেনা। সপ্তাহে দু’বার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। আর প্রতি সেশনে খরচ পড়ে ৩ হাজার ৫শ টাকা। এত টাকা নিয়মিত খরচ করা অসম্ভব।

সম্প্রতি সিলেট থেকে ডায়ালাইসিস করে এসেছেন রোগীর স্বজন আখলাক হোসেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল না পেয়ে বাধ্য হয়ে প্রাইভেটে আমার রোগীকে নিয়েছি। প্রাইভেটে চিকিৎসার খরচ বেশি। কিন্তু কতদিন এভাবে চালানো সম্ভব, জানিনা।

সমাজকর্মী সোনিয়া মান্নান বলেন, জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিসের মতো সেবা চালু থাকাটা দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষদের জন্য বাঁচার সুযোগ তৈরি করে। সেবাটি বন্ধ হয়ে গেলে কেবল চিকিৎসা নয়, পুরো পরিবারগুলোর জীবন-যাপনও হুমকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠক আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, জেলা হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট এমনভাবে বন্ধ হয়ে যাবে তা খুবই দুঃখজনক। অনেক গরিব পরিবার সর্বস্ব বিক্রি করে বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাচ্ছে। সরকারি সেবা বন্ধ হয়ে গেলে এসব পরিবার দিশেহারা হয়ে যাবে। আমরা চাই জরুরিভিত্তিতে বরাদ্দ নিশ্চিত করে সেবাটি চালু রাখা হোক।

মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রণয় কান্তি দাশ বলেন, আমাদের আগের কয়েকজন কিডনি রোগী ডায়ালাইসিস চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের আরও এক থেকে দেড় মাস এই সেবা দেওয়া যাবে। তবে গত এক মাস ধরে নতুন কোনো রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবার আওতায় আনা যায়নি। আমরা আগামী এক বছর সেবা চালু রাখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ১ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি, সেবা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, ডায়ালাইসিস সেবা চালু রাখার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব বরাবর ১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেবাটি আরও অন্তত এক বছর চালানো সম্ভব হবে।

পুলক/নাঈম

পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের পূবাইল চামুড্ডা এলাকায় মোটরসাইকেল ও একটি ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ও মা।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আড়াই বছর বয়সী সাফোয়ান হোসেন শেরপুর থানার বাংড়া এলাকার মো. জুয়েল রানার ছেলে।

আহতরা হলেন, শেরপুর থানার বাংড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল রানা (৩৬) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রুপা (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রামে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন পরিবারটি। সকালে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের পূবাইল থানাধীন চামুড্ডা এলাকায় পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। 

এসময় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে আরোহী তিনজনই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই শিশু সাফোয়ান হোসেনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের চামুড্ডা এলাকায় মোটরসাইকেল ও ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হয়েছে এবং তার বাবা-মা আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পলাশ/আমান

ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত
অবকাশের আনন্দে কক্সবাজার সৈকতজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের উচ্ছ্বাস। ছবি: খবরের কাগজ

সাপ্তাহিক ছুটির দিন। নেই কোনো টানা সরকারি ছুটি। তবুও নগরজীবনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততা ঝেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি, সাগরের গর্জন আর মনোরম আবহাওয়ায় সৈকতজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকেরা সাগরের সঙ্গে মিতালী করে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো সমুদ্রসৈকত। কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা বিচবাইক, ঘোড়ায় চড়া কিংবা ওয়াটার বাইকে (জেটস্কি) রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন। দীর্ঘ তিন কিলোমিটার সৈকতজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য আর উচ্ছ্বাসের এক অনন্য দৃশ্য।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক শরীফুল শাহীন খবরের কাগজকে বলেন, 'ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম হয়। তাই ছুটির দিনে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আবহাওয়া চমৎকার, সমুদ্রও বেশ শান্ত। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছে।'

রাজবাড়ী থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবিনা আলতাফ খবরের কাগজকে বলেন, 'কক্সবাজারে এর আগেও এসেছি, তবে এবার আবহাওয়া অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হচ্ছে। সমুদ্রের বাতাস আর পরিবেশ মনকে ভীষণ প্রশান্ত করেছে।'

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার খবরের কাগজকে বলেন, 'বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকদের উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। বেশ কিছু হোটেলে ভালো বুকিং রয়েছে। আমরা অতিথিদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যাতে কক্সবাজার থেকে তারা সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।'

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ করতে পারছেন।

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম খবরের কাগজকে বলেন, 'আমাদের কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকে। পর্যটকদের নিরাপদ জোনে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা হয়।'

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন খবরের কাগজকে বলেন, 'পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের হয়রানি, অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি পর্যটক কক্সবাজার থেকে নিরাপদ ও সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরুন।'

সাগরের ঢেউ, মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া আর নিরাপদ পরিবেশ মিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কক্সবাজার যেন হয়ে উঠেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক বিশাল মিলনমেলা। স্বস্তি আর প্রশান্তি খুঁজে নিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার।

তারেকুর রহমান/থিওটোনিয়াস

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পুকুরের পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, রিপন চৌধুরীর ছেলে আব্দুর রহমান (১২) এবং একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ফয়সাল (৭)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯জুন) সকালে দুই শিশু সাইকেল নিয়ে নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের পাশেই পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসলের সময় তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে।

আতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক খবরের কাগজকে জানান, তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। তাদের বাড়ি নাল্লাপাড়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশেই। খেলার পর গোসলের সময় সম্ভবত সাত বছরের ফয়সাল পানিতে ডুবে যায়। এরপর সেই ফয়সালকে উদ্ধার করতে ১২ বছরের আব্দুর রহমান যায়। সেখানে উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হয়ে দুজনেই পানিতে মারা যান। এরপর পথচারীরা স্থানীয় লোকজনকে অবগত করেন এবং দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জুয়েল রানা/থিওটোনিয়াস

মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় এলাকায়  আড়ৎ ও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙ্গাসের পোনা ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না নিয়ম নীতি। বড়ো সাইজের পাঙাশ মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। আর এই ছোট সাইজের পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি হয় মাত্র ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি। মৎস্য বিভাগ বলছে, লজিস্টিক সাপোর্ট সহ লোকবল সংকটে নদী ও  আড়ৎ-তে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন চাঁদপুর শহরের ওয়ালে বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড়, বহরিয়া বাজারে এসব পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ত ও হরিণা মাছঘাটে খোলামেলা ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরিণা মাছঘাটে দেখা গেল প্রতিটি  আড়ৎ-তে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ এসব বিষয়ে কারও মধ্যে ন্যূনতম সচেতনতা নেই। পাশাপাশি সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঙ্গাশের পোনা রক্ষায় কোনো ধরনের অভিযানও নেই।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, 'ইলিশের জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা পড়ে। আগে কম ছিলো, এখন বেশি। ইলিশ আর পাঙ্গাশের পোনা আলাদা দরদামে বিক্রি হয়।'

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, 'গত বছর এই সময় নদীতে ছোট সাইজের প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে। এবার ইলিশ না পাওয়া গেলেও ওইসব জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা বেশি ধরা পড়ছে। জেলেরা নদীতে নেমে যে-সব মাছ পায়, সবই  আড়ৎ-তে এনে বিক্রি করে। তবে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা না ধরাই উত্তম। কারণ বড়ো হলে দাম বেশি।'

এই ঘাট থেকে পাঙ্গাশের পোনা কিনে শহরের বিপনীবাগ বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি বলেন, আজকে তিনি হরিণা ঘাট থেকে ৪ কেজি পাঙ্গাশের পোনা ক্রয় করেছেন ৬শ’ টাকা করে। এগুলো শহরে নিয়ে বিক্রি করবেন ৮শ’ টাকা কেজি দরে। এভাবে এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েক মণ পাঙ্গাশের পোনা কেনা-বেচা হয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙাশ মাছ ধরা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। জাটকা রক্ষায় আমরা যেমন : অভিযান করেছি, এখন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। তারপরেও সদর মৎস্য অফিসকে অভিযান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক
জব্দ চাল ও ইনসেটে আটক ব্যাবসায়ী। ছবি: খবরের আগজ

শেরপুর শহরের একটি রাইস প্রসেসিং মিল থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১২টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকার জেবিন রাইস প্রসেসিং মিলে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটক ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন (৩২) শহরের কসবা কাঠগড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ৩০ কেজির বস্তায় থাকা বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল অন্য বস্তায় স্থানান্তর করা হচ্ছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ওই মিল থেকে ৩৩ হাজার ১০০ কেজি সরকারি চাল জব্দ এবং ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। এর আগেও বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি চাল কারসাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, জব্দ চাল কীভাবে এখানে মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

শাকিল/নাঈম