নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ভাতা থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কর্মকর্তা জহুরা খাতুনের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) খবরের কাগজের অনুসন্ধানে টাকা নেওয়ার প্রমাণ হিসেবে বেশ কিছু অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। যাতে জহুরা খাতুনের টাকা দাবি ও পরিশোধের নানা বিষয় উঠে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ, উপজেলা নির্বাচন ও দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের ভাতা থেকে মাথাপিছু ৫০০ থেকে হাজার টাকা করে আদায় করেন ওই কর্মকর্তা।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট ওই কার্যালয়ের সহকারী মহিলা কোম্পানি কমান্ডার ও মাস্টার রোল ঝাড়ুদার বিবি ফাতেমা মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে জহুরা খাতুনের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের আরেকটি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বিবি ফাতেমা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি ঝাড়ুদার পদে দুই হাজার ২৮৭ টাকা মাসিক বেতন পাই। সেখান থেকে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে দাবি করেন জহুরা খাতুন। এছাড়া বিগত নির্বাচনে ডিউটি করা সদস্যদের ভাতা থেকে টাকা তুলে দিতে বলেছিলেন। না দেওয়ায় আমাকে চাকুরিচ্যুত করার হুমকিসহ গালিগালাজ করেন। পরে চাকরি বাঁচাতে ঋণ করে জহুরা খাতুনকে ঘুষের ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।’
কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে শোনা যায়, রামপুর ইউনিয়নের দলনেতা মহিউদ্দিনকে উপজেলা নির্বাচনে পাঁচটি গ্রুপে কর্মীর নাম দেওয়ার বিপরীতে তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন জহুরা খাতুন। এ বিষয়টি মহিউদ্দিন যেন তদন্ত কমিটির কাছে স্বাক্ষী না দেয়, সেজন্য বার বার তাকে অনুরোধ করেন জহুরা খাতুন।
এ সময় মহিউদ্দিনকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গ্রুপ বাড়িয়ে দিয়ে আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলেন জহুরা খাতুন। তদন্ত কমিটিকে অফিসের অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিতেও শিখিয়ে দেন এই কর্মকর্তা।
প্রতিউত্তরে মহিউদ্দিন বলেন, ‘গতবার আমার গ্রুপ থেকে আপনাকে (ঘুষের) ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। আমি ওই টাকা কারো কাছ থেকে পাইনি। পরে আমার ভেড়া বিক্রি করে আপনাকে ওই টাকা পরিশোধ করেছি। কোম্পানীগঞ্জে সাতটি খুন হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ, বুঝে-শুনে কাজ করতে হয়। এখন আমার গ্রুপও লাগবে না, আমি চাকুরিও করব না।’
অন্য একটি রেকর্ডে শোনা যায়, কর্মকর্তা জহুরা খাতুন দলনেতাদের বৈঠকে নির্বাচনী ডিউটিতে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের ভাতা থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা এবং দলনেতাদের থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে দাবি করেন। এ সময় দলনেতারা কর্মীপ্রতি ৪০০ টাকা করে নেওয়ার অনুরোধ করলে জহুরা খাতুন তা মানেননি।
আনসার-ভিডিপি সূত্র জানায়, গত ৭ জুলাই লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের পরিচালক শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি জহুরা খাতুনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সরেজমিনে তদন্ত করেন। বিস্তারিত জানার পর ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা জহুরা খাতুন প্রথমে খবরের কাগজের হাতে আসা অডিওগুলো এডিট করে বানানো বলে দাবি করেন। পরে একে একে সবগুলো বলার পর অডিওতে কথোপকথন তার নিজের বলে স্বীকার করেন।
তবে তিনি দাবি করেন, আমি আসার আগে এখানে ব্যাপক অনিয়ম হতো। আমি কম্পিউটারও জানি না, লিস্টও আমি করি না। শুধু স্বাক্ষর করি। আমি আসার পর এখানকার অনিয়ম বন্ধ করেছি। এখন আমাকে এখান থেকে সরানোর জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে।
এ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, জহুরা খাতুনের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ফাতেমার অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইকবাল হোসেন মজনু/নাঈম/অমিয়/