দীর্ঘ ১২ বছরেও সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় খুলনার ব্যস্ততম রূপসা শিপইয়ার্ড সড়কটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতীকী প্রতিবাদ ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখা। কর্মসূচিতে খুলনার নাগরিক নেতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।
রূপসা সেতুর পশ্চিম পাশে শিপইয়ার্ড সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন। নিসচা’র খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার।
বক্তারা অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার দায় কেডিএ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স এড়াতে পারে না। এ প্রকল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার করতে হবে। প্রকল্পে এত ধীরগতি ও ব্যর্থতার পরও কেন ঠিকাদারকে প্রায় ৭০ কোটি টাকা দেওয়া হলো? কেন তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হলো না? এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অবিলম্বে সড়কের কাজ শেষ করতে হবে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ পুনরায় চালু করা না হলে কেডিএ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্সের অফিস ঘেরাও করা হবে।’
জানা গেছে, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নপ্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৩ সালের ৭ মে। ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরে ধাপে ধাপে প্রকল্পের খরচ ও মেয়াদ বাড়ানো হয়। ৯৯ কোটি টাকার প্রকল্প বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটিতে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান কেডিএ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্সের অনিয়মের কারণে সড়কের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। লুটপাটের কারণে যতটুকু কাজ হয়েছে সেটাও নিম্নমানের। সড়কের দুই পাশ খুঁড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করায় বর্তমানে সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। সড়কে যাতায়াতে স্থানীয়দের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এর বিকল্প কোনো সড়কও নেই। বাধ্য হয়েই তাদের এ সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে।