সারা দেশে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের গণছুটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জোনাল অফিস তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিদ্যুৎসেবা ও বিল পরিশোধের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রাহকরা যেমন অন্ধকারে দুর্ভোগ পোহান, তেমনি বিল পরিশোধের শেষ দিনেও অফিসে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ায় জরিমানার আশঙ্কায় পড়েন অনেকে।
চার দফা দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনেই এর প্রভাব পড়েছে ফটিকছড়িতে। রবিবার সকাল থেকে অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, সকালের দিকে অফিসের হিসাব শাখা খোলা থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্মকর্তারা বিল নেওয়া বন্ধ করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান। ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়াকুব মানিক বলেন, ‘আমার বাড়ির বিদ্যুৎ গতকাল (শনিবার) রাত থেকেই নেই। অভিযোগ জানাতে এসে দেখি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসই বন্ধ। আমার মতো আরও অনেকের বিদ্যুতের লাইন বন্ধ। কখন ঠিক হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে (রবিবার) বিল দেওয়ার শেষ তারিখ। সকালে এসে দেখি কর্মকর্তারা বিল না নিয়েই অফিস তালা দিয়ে চলে গেলেন। এখন বিল দিতে না পারলে আমাদের জরিমানা গুনতে হবে।’
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অফিসের গেটে তালা ঝুলতে দেখেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অফিসের সামনে আটকা পড়া অফিস সহকারী হাকিম জানান, তিনি দাপ্তরিক কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন অফিসে তালা দেওয়া এবং বাইরে অসংখ্য গ্রাহক ভিড় করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন গ্রাহকদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছি। কিন্তু কিছুই করার নেই।’
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে ফটিকছড়ি জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আবুল বাশার শামসুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেছেন, ‘অফিসের সকল লাইনম্যান ও কারিগরি কর্মকর্তারা তাদের কাজের সরঞ্জাম (অভিযোগ ফর্ম, অফিসের মোবাইল, সাব-স্টেশনের চাবি) জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে ৩৩ কেভি বা ১১ কেভি ফিডার ট্রিপ করলে (বন্ধ হলে) তা সচল করার মতো কোনো লোক নেই। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এ ব্যাপারে বারবার চেষ্টা করেও ফটিকছড়ি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নম্বরে ফোন করে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।