হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে আর কয়েক দিন পর। পূজারি-ভক্তরা পূজার সময় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করে থাকেন। কিন্তু যেসব প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ-খড়-মাটির তৈরি প্রতিমা জীবন্ত হয়ে ওঠে, সেই সব প্রতিমা শিল্পীরা কেমন আছেন? এক কথায় বলতে গেলে, না ভালো নেই প্রতিমা শিল্পীরা।
জানা গেছে, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। বাঁশ, খড় আর কাঁদা মাটি দিয়ে চলছে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ। বিচিত্র শৈল্পিক নকশা ও কারুকার্যে ফুটিয়ে তুলতে কাজ করছেন শিল্পীরা। এদিকে প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের মূল্য বৃদ্ধিতে ন্যায্য পরিশ্রমিক না পাওয়ায় হতাশ কারিগররা। প্রতিমা তৈরিতে আকার ও সৌন্দর্য ভেদে দাম নির্ধারণ হয়। ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকাও তারা নিচ্ছেন প্রতিমা তৈরি করতে।
পুলিশ লাইন্স এলাকার অঞ্জন কবিরাজ বলেন, ‘১৫-১৬ বছর ধরে আমি প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। আমাদের তেমন একটা লাভ হয় না বললেই চলে।’
খুলনার পাইকগাছা থানার শিবসা নদীর পাশের নিশিকান্ত কুমার নিতিশ বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। আমরা ৩ জনের একটি দল চলতি বছর ৩টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে প্রতিমা তৈরিতে।’
কুড়িগ্রামের উজ্জ্বল কুমার সাহা বলেন, ‘বাবার কাছ থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শিখেছি। আমি প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এ কাজ করতে ভালো লাগে। ভালো লাগার জায়গা থেকে এ কাজ করি।’ সহকারী কারিগর দুর্জয় বলেন, ‘সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে মজুরি পাই মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ রাজমিস্ত্রির কাজ করলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৭০০ টাকা আয় করা সম্ভব।’
নড়াইল জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের সদস্যসচিব স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘জেলায় চলতি বছরে ৫২৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষে জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা কাজ করছি।’
জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক মো. সোলায়মান হোসেন জানান, নড়াইলের মৃৎশিল্পীদের কাজের অনেক সুনাম রয়েছে। তারা সব সময় এসব কাজ করে থাকেন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। শিল্পের অভিভাবক হিসেবে বিসিকের পক্ষ থেকে মাটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।