ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা

সাদাপাথর এলাকায় পর্যটকবাহী ছাড়া সব নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৪০ পিএম
সাদাপাথর এলাকায় পর্যটকবাহী ছাড়া সব নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
সাদাপাথর যেতে ধলাই নদের উৎসমুখ এলাকা। ইনসেটে নিষেধাজ্ঞা প্রচারে চলছে মাইকিং। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের আলোচিত পর্যটনকেন্দ্রে সাদাপাথর এলাকায় পর্যটকবাহী ছাড়া সব ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। ধলাই নদীর নির্দিষ্ট এলাকা উল্লেখ করে মাইকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
  
নির্দেশনায় বলা হয়, ধলাই সেতুর ৫০০ মিটার নিচ থেকে সাদাপাথর পর্যটন স্পট পর্যন্ত শুধুমাত্র পর্যটকবাহী নৌকা চলাচল করতে পারবে। এই এলাকায় অন্য কোনো নৌকা চলাচল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

জানা গেছে, ধলাই নদ একটি সীমান্ত নদী। উৎসমুখ হচ্ছে সাদাপাথর এলাকা। ধলাই উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটো বালুমহাল রয়েছে। এছাড়া ধলাই নদ অববাহিক এলাকা পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের রোপওয়ের (রজ্জুপথ) সংরক্ষিত এলাকা ও ভোলাগঞ্জ পাথরমহাল। বালু ও পাথরের তিনটি মহালের মধ্যে কেবল একটি বালুমহাল ইজারা বন্দোবস্ত রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, একটি বালুমহাল চালু থাকার সুযোগে পুরো ধলাই নদী জুড়ে বালু আহরণ চলছে। এ জন্য সাদাপাথর, রোপওয়ে ও ধলাই সেতুর আশপাশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি সাদা পাথর লুটের প্রতিক্রিয়ায় পুরো এলাকা প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও ইজারাধীন মহালের বালু আহরণের সুযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় হওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। 

শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধলাই সেতুর আশেপাশ থেকে বালু আহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে বারকি নাওসহ ২০টি নৌকা জব্দ করা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন দ্রুত মাইকিং করে নতুন নির্দেশনা প্রচার করেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ তার ফেসবুক পেজে এই নির্দেশনার ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, নির্দেশনা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। যারা এই আদেশ অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অমিয়/

পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি অপসারণ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ‘ভুল ধারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঢাকার প্রতিটি রুটে বাসমালিকদের সমন্বয়ে পৃথক কোম্পানি গঠন করে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে একই মান, একই রঙ ও নির্ধারিত সেবার বাস পরিচালিত হবে। বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজ ও টার্মিনাল ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না। এতে যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো, অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এবং যানজট কমবে বলে মনে করছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বাস কাউন্টার ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে। সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনালে যাত্রীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে উন্নত ওয়েটিং রুম, টয়লেট, ফ্যান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্ট্রিটলাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস কাউন্টার অপসারণের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংলাপে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের পাশে মাটি কাটার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি মূল সেতু কাঠামোর অংশ নয়। সেতু নির্মাণকালে যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে ভরাট করা আর্টিফিশিয়াল মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ শেষে ঠিকাদারের ওই মাটি সরিয়ে ফেলার কথা ছিল। তবে তা দীর্ঘদিন অপসারণ না হওয়ায় এখন স্বাভাবিক মাটির মতো দেখাচ্ছে। ফলে অনেকের মনে হয়েছে সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী ওই মাটি সরিয়ে ফেললে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও উন্নত হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডিতেও মাটি অপসারণকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পিলারের নিরাপত্তার সঙ্গে এই মাটির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মাটি বিক্রি বা কাউকে সুবিধা দেওয়ার প্রকল্পও নয়; বরং মূল নির্মাণকাজের অসমাপ্ত অংশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া। প্রকল্পে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, ওই তিনজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। তবে পুলিশের দাবি, তাঁরা একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের চার সদস্যের একটি দল রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় আসামিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তিন সদস্যকে মারধর করে একটি পিকআপে তুলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন, এএসআই আমান ও কনস্টেবল কবির। তারা কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় কর্মরত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবির আরেক সদস্য কনস্টেবল আকাশ আহমেদ হামলার সময় পাশের একটি ওয়াশরুমে থাকায় রক্ষা পান। পরে তিনি তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে আড়াইহাজার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে অনেকে তাদের ভুয়া ডিবি সদস্য সন্দেহে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কাউকে আটক করে চোখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা কেন ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ডিবি সদস্যরা কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং পুরো ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১২ পিএম
কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার জিসান মিয়ার মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে নিয়োগ বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠির অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, নির্দেশিত হয়ে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।

একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোচিত ও ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে ছিলেন ওই দুই আইনজীবি। ওই বক্তব্যের কারণেই তাদেরকে এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়।  

এ বিষয়ে এপিপি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারি বিকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অধিকাংশ এপিপি নিজ আদালতের বাইরে আসামি পক্ষে সব ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন, এর প্রমানও আছে। আমরা দুই এপিপি আসামির পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর দিতে হয়নি। জিসানের পক্ষে তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ওকালত নামায় স্বাক্ষর করেছেন। আমরা শুধু আসামির পক্ষে আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছিলাম। তবে এ কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা করা হয়েছে কিনা চিঠিতে  তেমন কিছু উল্লেখ নেই।

এদিকে আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে ‘সরকার নিযুক্ত একজন এপিপি কোন মামলার বিষয়ে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে (মিডিয়া) এভাবে বক্তব্য রাখতে পারেন না। তাই কেউ হয়তো আইন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করার পরই দুই জনের নিয়োগ বাতিলের  সিদ্ধান্ত আসে।

কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুলহ হক রিংকু বলেন, আমরা পিপি এবং এপিপিরা কি করতে পারবো আর কি পারবো না, তা বিধিতে বলা আছে। সরকারের নিযুক্ত হয়ে এপিপিরা সরকারের বিরুদ্ধে কোন মামলায় বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। আমাদের এপিপি দুই সহকর্মীকে পদ থেকে প্রত্যাহারের চিঠি পেয়ে দুপুরে তাদের নিকট পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমলী আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে আসামি পক্ষে এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশ মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মামলার শুনানী করতে আইনজীবীদের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নেয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আদালতে জিসানের সুচিকিৎসার আবেদন করেছি। অপর এপিপি সাইদুল ইসলামও অনুরুপ বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় দাউদকান্দি মডেল থানায়। ডায়েরি করার দিন রাত ৮টা-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

জহির শান্ত/এসএন

টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১
ছবি: খবরের কাগজ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. এরশাদ আকন্দ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা বাজার এলাকায় শাহবাগ থানা ও ভূঞাপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

তিনি উপজেলার অর্জুনা বাজার এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার খাষ ঘুনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজা মন্ডল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আব্দুল গাফফার হিমেল জানান, এরশাদ আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাজা মন্ডলের ছেলেকে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচয় ব্যবহার করে অভিযুক্তরা।

চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে গত ৪ মে রাজধানীর শাহবাগ এলাকার একটি হোটেলের রেস্টুরেন্টে রাজা মন্ডলের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অর্থ চাকরি হওয়ার পরে দেওয়ার কথা ছিল।

তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরির ব্যবস্থা করতে না পারায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। তাই ভুক্তভোগী বুধবার (১৭ জুন) রাতে থানায় মামলা করেন।

শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এরশাদ আকন্দ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুয়েল/আমান

টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন
ছবি: সংগৃহীত

দারিদ্র্য কখনো কখনো মানুষের স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তেমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী উখ্যাইংওয়ং মারমা। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম চান্দা হেডম্যান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা উখ্যাইংওয়ং মারমা। সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি সরকারি শিশু সদনে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তিনি কখনো শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।

উখ্যাইংওয়ং জানান, ২০২৩ সালে ফরহাদাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৪.৬১ অর্জন করেন। পরে ২০২৫ সালে হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফল হিসেবে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় ৩৫৩৯তম স্থান অর্জন করেন এবং বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ভর্তি ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ প্রাথমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় এখনো ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।

কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে উখ্যাইংওয়ং বলেন, "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের মেধা আর পরিশ্রমের ওপর ভর করে এতদূর এসেছি। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে শুধু আমার নয়, আমার বাবা-মায়েরও বহুদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আমি চাই পড়াশোনা করে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে।"

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উখ্যাইংওয়ং মারমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সামান্য আর্থিক সহায়তা একটি মেধাবী তরুণের জীবন বদলে দিতে পারে এবং তাকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে উখ্যাইংওয়ং মারমা তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।

মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও যেন অর্থের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হারিয়ে না যায়— এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

রিজভী রাহাত/নাঈম