শরীয়তপুরে সালিশির কথা বলে ডেকে নিয়ে পুরো পরিবারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নে রানীশার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রানীশার এলাকার আনিস দারোগার সঙ্গে তার আপন চাচির পারিবারিক কলহের সালিশির কথা বলে ডেকে নেন একই এলাকার পুলিশ কনস্টবল মিরাজ দারোগা।
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মিরাজ দারোগার ভাই অভিযুক্ত রেজাউল দারোগা বিভিন্ন সময় আনিস দারোগার মেয়ে আফসানাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। তার কথায় রাজি না হলে, বিভিন্ন সময় তারা ওই পরিবারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। তাদের অত্যাচারে আফসানা গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। আনিস দারোগার পরিবারের ঝগড়ার সূত্র ধরে তার পরিবারের ওপর এ হামলা চালায় পুলিশ কনস্টবল মিরাজ দারোগার পরিবার। এতে মোট ৫ জন আহত হয়, গুরুতর আহত হয় আনিস দারোগার বড় ছেলে আসিফ দারোগা, বড় মেয়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আছিয়া বেগম। তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মিরাজ দারোগাকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার।
রেজাউল দারোগা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী ও মিরাজ পুলিশে চাকরি করার কারণে এলাকায় প্রভাবশালী। এ কারণে তাদের ভয়ে কেউ কোনো কথা বলতে সাহস পান না বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবার হামলার ন্যায় বিচার দাবি করছে।
ভুক্তভোগী আফসানা জানান, রেজাউল দারোগা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার কথায় রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে হয়রানি করে আসছিলেন। তার অত্যাচারে তিনি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের ওপর হামলা চালান রেজাউল ও তার ভাই পুলিশ কনস্টেবল মিরাজসহ তার পরিবার।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিরাজ দারোগা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। তবে আমার ভাই রেজাউল সালিশ ডেকেছিল। কী হয়েছে তা আমি জানি না।’
গোসাইরহাট থানার এস আই সজিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করেছে। পুলিশের সদস্য মিরাজের মারধরের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।