ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
Nagad desktop

চৈত্র-বৈশাখে নদী মরুভূমি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
চৈত্র-বৈশাখে নদী মরুভূমি
পানি না থাকায় নদী শুকিয়ে গেছে। নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শীমুলতলী এলাকা থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

আত্রাই নদীতে একসময় ঢেউয়ের তালে তালে পাল তোলা নৌকা চলত। এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল শহর-হাটবাজার। কিন্তু এখন সবই অতীত। নদীর অনেক অংশ মরা খালে পরিণত হয়েছে। চৈত্র-বৈশাখে এক ফোঁটা পানিও থাকছে না। ভূ-গর্ভের পানি দিয়ে নদীতীরের ফসলি খেতে সেচ দিতে হয়। কিন্তু কেন এমন হলো? যেখানে মাছ ধরে আগে জেলেরা সংসার চালাতেন- সেখানে কেন চৌচির হওয়া মাটি দেখা যায়?

কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানের পানি আটকে দেওয়া, নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া ও দখল দূষণের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের নদ-নদীগুলো প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে। এই চাপের কারণে নদীর পানি ও ভূগর্ভের পানির মধ্যে থাকা আন্তসম্পর্ক বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব কারণে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। ভরা বর্ষাতেও পানির প্রবাহ থাকে না। কোনো কারণে ঢলের পানি নেমে এলে কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে কয়েকদিন পানি থাকলেও তা আবার হারিয়ে যায়। এতে পুরো বরেন্দ্র অঞ্চল মরুকরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি দেশে প্রথমবারের মতো তিনটি অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে (৪ হাজার ৯১১টি মৌজা) ৪৭টি ইউনিয়নকে (১ হাজার ৫০৩টি মৌজা) অতিউচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলের সবচেয়ে বড় জেলা নওগাঁ। এই জেলার মধ্যদিয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট সাতটি নদী বয়ে গেছে। সবগুলোর অবস্থাই এখন করুণ। জেলার প্রধান নদীগুলো হলো আত্রাই, ছোট যমুনা ও পুনর্ভবা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরস্রোতা ছিল আত্রাই। সর্পিলাকার এই নদীর উৎপত্তি ভারতের হিমালয় পাদদেশে। দেশটির পশ্চিম দিনাজপুর হয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 

জেলার ধামইরহাট, পত্নীতলা, মহাদেবপুর, মান্দা, আত্রাই ও রানীনগর উপজেলাজুড়ে নদীটি বিস্তৃত। কিন্তু পানির প্রবাহ না থাকায় নদীর তলদেশ ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যায়। এ কারণে প্রতিবছর খরা মৌসুমের আগেই নদীটি শুকিয়ে যায়। আরেক খরস্রোতা নদী ছিল ‘ছোট যমুনা’। বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে এর উৎপত্তি। নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী, সদর, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলাজুড়ে এটি বিস্তৃত। উজানের পানি প্রত্যাহার (আটকে দেওয়া) ও দখলের কবলে পরে এটি এখন ধুকছে। নদীটিতে বছরের দুই মাসও পানি থাকে না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাম পুনর্ভবা। এটি আন্তসীমান্ত নদী। এর উৎপত্তি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। সেখান থেকে নেমে এসে বাংলাদেশের দিনাজপুর, নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলা হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর মোহনায় মিলিত হয়ে পরে পদ্মা নদীতে মিশেছে। এই নদীটিরও করুণ পরিণতি। উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে বছরের তিন মাসও নদীটিতে পানি থাকে না। সবচেয়ে বেশি দখল ও দূষণের শিকার ছোট যমুনা নদী। দেখভালের অভাবে নদীর পার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি পানিপ্রবাহ থেমে গেছে। নদীগুলো দেখতে আর নদীর মতো লাগে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য বলছে, বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত অধিকাংশ নদীর উৎস হলো ভারত। উৎসের অববাহিকায় বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার, বৃষ্টিপাত কম হওয়া, পলি জমে তলদেশ ভরাট, ইরিগেশনের সময় ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারসহ জলবায়ুর পরিবর্তন নদীগুলোর অস্তিত্ব সংকটের প্রধান কারণ।

জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিমিটার। ১০ বছর আগে বছরে গড় বৃষ্টি হতো ১ হাজার ৫০০ মিলিমিটার। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমার পাশাপাশি কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বছরে এখানে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে প্রায় পৌনে ১ ফুট।


সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এক কেজি ধান উৎপাদন করতে বরেন্দ্র অঞ্চলে ৬৫০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। এক কেজি ধান থেকে মোটামুটি ৬৬০ গ্রাম চাল পাওয়া যায়। যেখানে একজন বাঙালি ৪০০ গ্রামের মতো ভাত খায়। অর্থ্যাৎ দেড় দিনের ভাতের চাল উৎপাদন করতে স্বাদু বা মিঠা পানির দরকার হয় ৬৫০ লিটার।

ধামইরহাট উপজেলার শীমুলতলী গ্রামের আত্রাই নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘মাত্র ২৫ থেকে ৩০ বছর আগেও আত্রাই নদী ছিল খরস্রোতা। ৯০-এর দশক থেকে নদীটি যৌবন হারাতে থাকে। এখন সরু মরা খালে পরিণত হয়েছে। নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পানিপ্রবাহ না থাকায় নদীতে মাছ নেই। চৈত্র বৈশাখ-মাসে নদীতে এক ফোঁটা পানিও থাকে না। ভূ-গর্ভের পানি তুলে সেচ দিতে হয়।’

সাপাহার উপজেলার পাতারী গ্রামের চাষি সাইফুদ্দিন সরদার বলেন, ‘সেচের জন্য পোরশা ও সাপাহার এলাকার মানুষ পুনর্ভবা নদী ও জবই বিলের ওপর ৮০ শতাংশ নির্ভর ছিল। এখন নির্ভরতা কমে গেছে। ভূ-গর্ভেও ঠিকমতো পানি পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ করে চৈত্র-বৈশাখ মাসে বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয়।’

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার আংশিক এলাকা। সাপাহার উপজেলার কিছু এলাকায় ১৯০ ফুট থেকে ২৫০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যায়। শুষ্ক মৌসুমে পানি মেলে আরও কয়েক ফুট নিচে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্র এলাকায় পানি সংকট তীব্র হচ্ছে। এতে ফসল চাষ কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। উজানে প্রতিবেশী দেশ ভারত নিয়ম না মেনে পানি প্রত্যাহার করছে। মূলত এ কারণেই বরেন্দ্র অঞ্চলের নদীগুলো মরে গেছে। এ ছাড়া অবৈধ দখলের কারণে সেগুলোতে অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নদীগুলো উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসছে না। ফলে শুধু নদী নয়; গোটা বরেন্দ্র অঞ্চল অর্থাৎ রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে।’

নওগাঁ সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘কৃষিকাজে ব্যবহৃত পানির ৯০ শতাংশই ভূগর্ভস্থ। কৃষিতে অতিরিক্ত যে পানি ব্যবহার হচ্ছে তা কমিয়ে আনতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভের নিচে পাইরেক্স শিলার অবস্থান। সেখানে ভূগর্ভস্থ পানি থাকে। শুষ্ক মৌসুম এটি নিচের দিকে নেমে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে ওপরের দিকে আসে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করলে এই শিলাটির পানি শুকিয়ে যাবে। এতে আর্সেনিক নির্গত হবে। ওই পানি ব্যবহার করলে ক্ষতি হবে। তাই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমাতে হবে।’

সাপাহার উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকা ভেদে ভূগর্ভস্থ পানির গভীরতা ১৯০ থেকে ২৫০ ফুট। বেশ কিছু বছর ধরে পানির স্তর নিচে নামছে। ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে নদীর স্তরের একটা সংযোগ রয়েছে। কোনো কোনো সময় ভূগর্ভস্থ পানি নদীতে আবার নদী থেকে পানি ভূগর্ভস্থ স্তরে রিচার্জ হয়ে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অনাবৃষ্টির কারণে প্রকৃতির এসব স্বাভাবিক কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ
খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ১৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯ শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন আছে জেলা হাসপাতালে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৪২ নম্বর সালিম ডোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ‘গাক’ নামক একটি এনজিওর পক্ষ থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম ও পাউরুটি বিতরণ করা হয়। তবে সরবরাহকৃত খাবার থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা ওই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সালিম ডোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছন। তবে ভিন্ন কথা বলছেন খাবার বিতরণকারী ‘গাক’ এনজিওর কর্মকর্তা কবির উদ্দিন।

তিনি বলেন, আজকে ২১৩টি স্কুলে ৪১ হাজার ৭শ ৩৯টি ফিডিংয়ের খাবার (ডিম ও পাউরুটি) বিতরণ করা হয়েছে। তবে সকাল থেকে ওই স্কুলে বিদ্যুৎ ছিল না। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ৯ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। খাবার খেয়ে পেটব্যথা হয়েছিল, তার ওপর আবার আবহাওয়া খারাপ। বর্তমানে তাদের স্যালাইন দিয়ে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণে রাখছি।

আসাদুল্লাহ/আমান 

চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
ছবি: খবরের কাগজ

মায়ানমার থেকে আসা কিছু রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভাষাগত মিলের কারণে তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সহজে মিশে যাচ্ছে, যা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা একথা বলেন।

বুধবার (১৭ জুন) চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।

কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি জানান, ২০২৫ সালে অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদেরকে কক্সবাজারের উখিয়া
এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এরকম রোগী বাইরে কতজন ঘুরাফেরা করছে তা আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

অপরদিকে, ২০২৫ সালে সারাদেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১৮৯১ জন। যার মধ্যে ২১৭ জন রোহিঙ্গা।

আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ আর টি সেন্টারে ৩৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে পজিটিভ ৮১ জন, নেগেটিভ ৩৮৬১জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন মহিলা। যার মধ্যে ১৫ জন মারা যায়।

আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর। এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হচ্ছে তার শরীরে এইডসের প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজেটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘর সংসার করতে পারেন। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছেন।

সন্তানদের শরীরে এইচআইভি’র জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ফসল। এই ইতিবাচক দিকের একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে।অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করছেন। কারণ তারা জানে এইচআইভি আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একইসঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম।

দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।

আমান/

মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংযোগ সভা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংযোগ সভা
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত ও তা গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) মুক্তাগাছার হোটেল ড্রিম ট্রিম মিলনায়তনে ‘প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার’-এর ইআরইডিএমসিএম প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। 

সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের মূলধারায় তাদের কার্যকর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

মুক্তাগাছা উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সায়েম তানভীর সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবক, যুবদলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা, অভিভাবক ও যুবদলের নেতারা প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক বাধাগুলো চিহ্নিত করেন। এসব বাধা দূরীকরণে তৃণমূল পর্যায়ে সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন বক্তারা।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. সায়েম তানভীর বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে এই প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনকল্যাণমুখী, অধিকারভিত্তিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ
ছবি: খবরের কাগজ

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জে একটি অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা মিলনায়তনে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের রিজিওনাল ম্যানেজার ফারজানা আক্তার একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক জরিপের ফলাফল, সরকারি সেবাসমূহের পরিচিতি এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি নাসরিন বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও একটি বড় উদাহরণ। সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে দ্রুত ও সহজে সেবা পায়, সেজন্য বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজেরও দায়িত্ব। সহিংসতার কোনো ঘটনা গোপন না রেখে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার বলেন, “তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। যুবসমাজকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার পারভীন বেগম বলেন, “নারী ও শিশুদের জন্য সরকার বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সেবার বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানাশোনা বাড়ানো গেলে ভুক্তভোগীরা আরও সহজে সহায়তা পাবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম, ব্র্যাকের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ, কিশোরী ক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভায় সমাপনী বক্তব্যে পাশা এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ফরিদ খান নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে সবার অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।”

আসাদ জামান/এসএন

সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ
সিলেটে ১৯ বিজিবির অভিযানে জব্দ ভারতীয় চোরাই পণ্যের একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশে বাজেট ঘোষণার পর সিগারেটের দাম বাড়ায় ভারতীয় চোরাইপণ্যে ভারতীয় সিগারেট আসছে। বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীনস্থ জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) পৃথক অভিযানে ভারতীয় সিগারেটসহ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার চোরাচালান জব্দ করেছে।

বুধবার (১৭ জুন) ১৯ বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় লক্ষীবাজার বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শেওলা জিরো পয়েন্ট নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিজিবির টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় পাঁচ হাজার ৯০০ প্যাকেট ভারতীয় সিগারেট ও একটি বাংলাদেশি পিকআপ জব্দ করে। জব্দকৃত মালামালের সিজারমূল্য ৪৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এর আগে ১৬ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর, লালাখাল ও সুরাইঘাট পৃথক পৃথক আভিযানিক টহল দল অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬টি গরু,  ২৬টি কম্বল, কিটক্যাট চকলেট ৫৫০ পিস, চিনি ২৮৭ কেজি, চা পাতা ৬৮ কেজি জব্দ করে। এসব মালামালের মূল্য ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার পিএসসি বলেছেন, সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে গোয়েন্দা তৎপরতাসহ চোরাচালান বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং এরই অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল কাস্টমস্ এ জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি'র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।  

এসএন/