চট্টগ্রামের চন্দনাইশে নৈশপ্রহরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বাণিজ্যিক গুদামে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই গুদাম এবং তার পার্শ্ববর্তী একটি ফার্নিচারের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার বরকল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইমাদারী গ্রামের নিদাগের পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত প্রথমে বাজারে এসে নৈশপ্রহরী আবুল মনজুর (৩৫) ও মো. নাছিরকে (৩৬) বেধড়ক মারধর করেন এবং তাদেরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। এরপর তারা মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের গুদামে আগুন লাগিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে খবর পেয়ে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে টানা দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই গুদামের অধিকাংশ পণ্য অর্থাৎ জিরা, এলাচ, সয়াবিন তেল, চিনি ও তেজপাতাসহ বিভিন্ন মশলা সামগ্রী পুড়ে ছাই যায়।
নৈশপ্রহরী আবুল মনজুর ও মো. নাছির স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরেছেন। সেখানে গিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, ১২ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী দল প্রথমে বাজারে আসেন। এরপর তারা কিছু জিজ্ঞেস না করেই আমাদেরকে বেধড়ক মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজন গুদামে আগুন লাগিয়ে দেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আমরা চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন।
মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার ফয়েজ আহমদ বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে মশলা সামগ্রী, সয়াবিন তৈল ও চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করে এখানে গুদামজাত করতাম। পরবর্তীতে সে মালামালগুলো এখান থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। আমরা মূলত এখানে জায়গা ভাড়া নিয়ে গুদামটি স্থাপন করেছি। আমাদের সঙ্গে কারো কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা আগুন দিয়ে আমাদের গুদামটি সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দিয়েছে। এতে আমাদের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. কামরুল হাছান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি নাশকতা নাকি পূর্ব শত্রুতার জের, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনাটি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফুল/মেহেদী/