রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে নিহত আবুল কালাম আজাদের দাফন গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোক্তারচর পূর্ব পোড়াগাছা দাখিল মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
জানাজায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।
এমন মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান স্বজন ও স্থানীয়রা।
নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলীতে পরিবার নিয়ে থাকতেন আবুল কালাম। ঢাকার মতিঝিলে একটি ট্রাভেল অ্যাজেন্সিতে কাজ করতেন এবং প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা যাতায়াত করতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা আইরিন আক্তার প্রিয়া বলেন, “আমার হাজবেন্ড ছাড়া আমাদের এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। আমাদের সংসার এখন কীভাবে চলবে? ছোট ছোট বাচ্চাগুলো নিয়ে সামনে কী করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি- আমার স্বামীর মতো আর যেন কারও মৃত্যু না হয়।”
নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি বলেন, “সরকারিভাবে পাঁচ লাখ টাকা অনুদানের কথা বলা হলেও এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি। পুরো পরিবার তার আয়েই চলত। অন্তত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক- শিশু দুটির ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ হয়।”
আরেক স্বজন কাওসার আহমেদ বলেন, “মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এমন দুর্ঘটনা। এভাবে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাবে ভাবিনি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া ও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।”
মেট্রোরেলের সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তিনি উপস্থিত হয়েছেন এবং তাদের দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমরুল হাসান জানাজায় অংশ নিয়ে নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
রাাজন/মেহেদী/