রংপুরের তারাগঞ্জে ভ্যানচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত প্রদীপ লালের ছেলে দুলাল কুমারকে চাকরি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
আজ (২৭ অক্টোবর) সোমবার নিজ দপ্তরে ডেকে গ্রামপুলিশে চাকরি দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
দুলাল কুমার দাসের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামে।
উল্লেখ্য, গত (৯ আগস্ট) শনিবার রাতে অজ্ঞান পার্টি সন্দেহে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলী এলাকায় ভ্যানসহ দুইজনকে আটকের পরে তাদের কাছ থেকে পাওয়া চোলাই মদ ও বিভিন্ন ওষুধ পান স্থানীয়রা। পরে চোলাই মদের ক্যান খুললে গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শতশত মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয় তারা। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ হাসপাতলে নেয়। সেখানে আহত কাকা শ্বশুড় রুপলাল রবিদাসকে (৪০) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরের দিন রবিবার (১০ আগস্ট) কাউকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ভাতিজি জামাই প্রদীপ লাল (৪৫)।
প্রদীপ লালের বড় ছেলে দুলাল দাস ২০২১ সালে এসএসসি পাস করেন।
ছোট ছেলে আপন দাস সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। পরে বাবা নিগতের পর সংসারের হাল ধরেন দুলাল। মেয়ে পলাশী রানী এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।
দুলাল কুমার বলেন, চাকুরি পেয়ে খুবই ভালো লাগতেছে। এখন সংসারের হাল ধরতে পারব। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তারপর সংসারের চাপে আর পড়াশোনা হয়নি। বাবা ভ্যান চালাতো আমি বিভিন্ন কাজ কাম করতাম। যেহেতু বোন এবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছে আবারো পরীক্ষা দেবে। ছোট ভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ভাই বোনদের ও সহযোগিতা করতে পারব। যারা আমাকে চাকরি দিল বিশেষ করে ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যারের কাছে কৃতজ্ঞতা।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, মিঠাপুকুরের নিহত ভ্যানচালক প্রদীপ দাসের পুত্রকে গ্রাম পুলিশের মহল্লাদার হিসাবে নিয়োগ দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আশা করি সে এখন তার হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাড়াতে পারবে এবং সততার সঙ্গে ইউনিয়নের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবে যাতে তার পিতার মত অপমৃত্যুর স্বীকার আর কেউ না হয়।
সেলিম/মাহফুজ