সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছেলেকে খুনিদের কাছে বিক্রি করলেন মা। দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া সেই প্রবাসী যুবক সিরাজুল ইসলামকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার তিন আসামি।
পুলিশ জানায়, সিরাজুল মাদকাসক্ত হওয়ায় তার মায়ের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় তাকে কিনে নেয় আসামিরা। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে রাস্তার পাশে লাশ ফেলে রেখে যায় তারা।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাতে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সিরাজুল ইসলাম (২৯) শাহজাদপুর উপজেলার পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামের মৃত শাহাদৎ মণ্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসে ছিলেন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন-পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামের আল আমিন মণ্ডল (৩৮), সেলিম মণ্ডল (৩২), আমিরুল ইসলাম (৩৩), ওমর ফারুক (৩৮) এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর প্রামাণিক (৫৫)।
গ্রেপ্তাররা ডিবি পুলিশকে জানায়, পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামের মুসা মণ্ডল-গফুর প্রামাণিক গোষ্ঠী ও ইউপি চেয়ারম্যান খোকন মাস্টার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ২০২১ সালে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়। পরে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মামলাটি আপস হয়। আপসের অংশ হিসেবে ৫ লাখ টাকা খোকন চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়। বাকি টাকা না দেওয়ায় এবং সেই মামলায় বাদীপক্ষকে ফাঁসাতে প্রবাসী সিরাজুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
সিরাজুল মাদকাসক্ত হওয়ায় তার মা অতিষ্ঠ ছিলেন। এ সুযোগে আসামিরা তার মায়ের কাছে গিয়ে ছেলেকে হত্যার প্রস্তাব দেয়। তারা হত্যার জন্য অন্য আসামিদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেয়, যার মধ্যে দেড় লাখ টাকা সিরাজুলের মাকে দেওয়া হয়।
এরপর ২৮ অক্টোবর রাতে সিরাজুলকে এক আসামির বাড়িতে আটকে রাখা হয়। রাতে তাকে পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বাড়ির পাশে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করে লাশ ফেলে যায় আসামিরা।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার শাহজাদপুর থানায় মামলা করে। পরে ৩ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। রিমান্ড শেষে আল আমিন মণ্ডল, সেলিম মণ্ডল ও আমিরুল ইসলাম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
শিশির/রিফাত/