ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল

খাগড়াছড়িতে কারাগারের দেয়াল টপকে পালালেন আসামি

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৮ পিএম
খাগড়াছড়িতে কারাগারের দেয়াল টপকে পালালেন আসামি
পলাতক আসামি শফিকুল ইসলাম

খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের দেয়াল টপকে দুই হাজতির পালানোর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একজনকে আটক করেছে কারারক্ষী ও পুলিশ।

রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে পলাতক আসামির নাম মো. শফিকুল ইসলাম (২৪)। তিনি খাগড়াছড়ি পৌর শহরের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। গত এক সপ্তাহ ধরে টমটম চুরির মামলায় কারাবন্দি ছিলেন শফিকুল। তার মামলা নম্বর ৯১/২৫।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের দেয়াল টপকে মোট তিনজন আসামি পালানোর চেষ্টা করে। এতে দুইজন আসামি উঁচু দেয়াল টপকে পালাতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসামি রাজিব হোসেনকে (২০) খাগড়াছড়ি শহরের টিএন্ডটি গেইট এলাকা থেকে আটক করে জেলা কারাগারে নিয়ে আসা হয়। তবে পলাতক অপর আসামি শফিকুল ইসলামকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ বলেন, 'পালিয়ে যাওয়া আসামি শফিকুল ইসলামকে ধরতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

তবে এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেল সুপার এবং জেলারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

কারাগারের ভেতরে এ ধরনের পলায়নের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজু/মেহেদী/

সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাস হাসপাতাল-এ চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ মোট আটজন চিকিৎসককে আসামি  করে মামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা আমাতুল মাকনুন বৃহস্পতিবার (১৮জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদ লিঙ্ক রোডে অবস্থিত সাজিনাস হাসপাতাল-এর এনআইসিইউতে ভর্তি করান। তখন শিশুটির শ্বাসকষ্ট ছাড়া অন্য কোনো জটিলতা ছিল না বলে দাবি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ মে শিশুটির বাম হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পান মা। পরে দেখা যায়, হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙুলে গ্যাংগ্রিন শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় পরবর্তীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শরীরে।

পরবর্তীতে শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুলভাবে আইভি ক্যানুলা স্থাপন এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের জটিলতার কারণে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৪ জুন শিশুটি মারা যায়।

অভিযুক্তরা হলেন—হাসান মাহমুদ চৌধুরী, ডা. আনোয়ার হোসেন, ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. আদনান ওয়ালিদ, ডা. মিনহাজুল হাসান, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. ফজলে মারুফ এবং ডা. তামিম সাফায়েত চৌধুরী। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা বলেন, "আদালত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।"

আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী মা আমাতুল মাকনুন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি আলোচনায় আসে।

আবদুস সাত্তার/তামান্না রুপা/

আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ দায়রা ও জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে, বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা রাজনৈতিক মামলার আসামি। মে মাসে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিম্ন আদালতে (ময়মনসিংহ দায়রা ও জজ আদালত) আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন, ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

কামরুজ্জামান মিন্টু/থিওটোনিয়াস

চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী
হাসপাতালের বারান্দায় আনোয়ারা থানা-পুলিশের একটি দল মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের অমতে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন কিশোরী খাদিজা আক্তার কাশফি (১৮)। কিন্তু ভালোবাসার সেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন মাত্র সাত মাসের মাথায় রূপ নিল নির্মম ট্র্যাজেডিতে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ (২১)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাশফি উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির আবদুল জলিলের মেয়ে। অভিযুক্ত মারুফ একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে কাশফিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। তবে হাসপাতালে আসার আগেই কাশফির মৃত্যু হয়েছিল।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওই নারীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন। নিহতের গলায় একটি মোটা দাগ রয়েছে। রোগীকে মৃত ঘোষণার পরপরই তার স্বামী মরদেহ ফেলে হাসপাতাল থেকে সরে পড়েন।’

কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। আদরের ছোট বোনকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় বোন ঝুমুর আক্তার।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমাদের খবর দেওয়া হয়। হাসপাতালে এসে দেখি আমার বোনের মরদেহ পড়ে আছে। মারুফ আমার বোনকে মেরে এখানে ফেলে চলে গেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

মেয়ের মা শাহীনূর আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার ছোট মেয়েটা খুব আদরের ছিল। পালিয়ে বিয়ে করলেও আমি নিজে গিয়ে ওদের রান্না করে দিয়ে আসতাম। যে স্বামী ছাড়া মেয়েটা মুখে ভাত তুলত না, সেই স্বামীই তার প্রাণ কেড়ে নিল?

নিহতের বাবা আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাউকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে সে। এরপর থেকেই মারুফ ওর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিল। গতকাল দুপুর থেকেই মারুফ আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। রাতে খবর পাই আমার মেয়ের মরদেহ হাসপাতালে।’

স্বজনদের দাবি, কাশফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে মারুফ ও তার পরিবার।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানায় পুলিশ। 

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ ফেলে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আতিক/থিওটোনিয়াস

সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনের অভিযোগে আলোচিত মোহাম্মদ ফয়জুল মিয়া (৫৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) ভোরে কুমিল্লা সদর থানা এলাকার একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ারের তত্ত্বাবধানে এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা ফয়জুল মিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সজিবকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইমরান/তামান্না রুপা/

পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি অপসারণ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ‘ভুল ধারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঢাকার প্রতিটি রুটে বাসমালিকদের সমন্বয়ে পৃথক কোম্পানি গঠন করে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে একই মান, একই রঙ ও নির্ধারিত সেবার বাস পরিচালিত হবে। বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজ ও টার্মিনাল ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না। এতে যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো, অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এবং যানজট কমবে বলে মনে করছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বাস কাউন্টার ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে। সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনালে যাত্রীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে উন্নত ওয়েটিং রুম, টয়লেট, ফ্যান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্ট্রিটলাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস কাউন্টার অপসারণের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংলাপে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের পাশে মাটি কাটার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি মূল সেতু কাঠামোর অংশ নয়। সেতু নির্মাণকালে যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে ভরাট করা আর্টিফিশিয়াল মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ শেষে ঠিকাদারের ওই মাটি সরিয়ে ফেলার কথা ছিল। তবে তা দীর্ঘদিন অপসারণ না হওয়ায় এখন স্বাভাবিক মাটির মতো দেখাচ্ছে। ফলে অনেকের মনে হয়েছে সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী ওই মাটি সরিয়ে ফেললে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও উন্নত হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডিতেও মাটি অপসারণকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পিলারের নিরাপত্তার সঙ্গে এই মাটির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মাটি বিক্রি বা কাউকে সুবিধা দেওয়ার প্রকল্পও নয়; বরং মূল নির্মাণকাজের অসমাপ্ত অংশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া। প্রকল্পে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।