ঢাকা থেকে বরিশাল নৌপথে চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী স্টিমার সার্ভিস। গত মে মাসে স্টিমার চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
আগামী ২১ নভেম্বর হুইসেল বাজিয়ে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ নিয়ে বরিশালের ফিরছে জলযাত্রার স্মৃতিঘেরা স্টিমার পিএস মাসুদ। এর আগে ২৪ অক্টোবর ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটে একদিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চলাচলে সময়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ১৫ অক্টোবার চলাচলের কথা জানিয়েছিলেন।
কিন্তু শেষ পযর্ন্ত ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী পিএস মাসুদ বরিশালের আসতে পারছে না। তাই পুনরায় নতুন এই তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে বলেন জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান।
তিনি বলেন, ঢাকা- বরিশাল রুটে পিএস মাসুদ সপ্তাহে দুইদিন দিবা সার্ভিসে চলাচল করবে। সে জন্য চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন থেকে পিএস মাহসুদ ও পিএস অস্ট্রিচ মেরাতম করে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পিএস মাসুদের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ প্রায় দিকে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে ২১ নভেম্বর সকালে পিএস মাহসুদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।
তিনি জানান, প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় ছেড়ে পিএস মাহসুদ বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে বরিশালে পৌঁছবে। আবার প্রতি শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এখন পযর্ন্ত ভাড়া নির্ধারন করা হয়নি। তবে প্রথম শ্রেণীর একজন যাত্রীপ্রতি ব্যায় ৪ হাজার টাকার বেশী ব্যায় হতে পারে। পিএস মাসুদের বাতানুকুলে প্রথম শ্রেণীর ১২টি কক্ষে ২৪টি শয্যা ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে ২৪টি শয্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, শত বছরের প্যাডেল স্টিমারগুলো আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। ঢাকার আশপাশে প্রমোদভ্রমণের জন্য স্টিমারটি ভাড়া নেওয়া যাবে। প্রয়োজনে যে কেউ নির্ধারিত ভাড়ার পরিশোধ করে রিজার্ভ নিতে পারবেন।
এস এম আশিকুজ্জামান জানান, পুরোনো স্টিমারগুলোর ইঞ্জিনের শক্তি আগের মত নেই। স্টিমারে ঢাকা থেকে বরিশালের যেতে সময় সময়সাপেক্ষ বিষয়। এছাড়া নিয়মিত সার্ভিস নিয়ে এর ব্যয় বহনও সম্ভব নয়। সব বিষয় বিবেচনা করে প্রমোদ তরী হিসেবে সপ্তাহে দুইদিন ঢাকা-বরিশাল রুটে স্টিমার চলাচলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসের ১০ তারিখ বরিশাল সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) এম, সাখাওয়াত হোসেন বরিশালের নৌপথে ঐতিহ্যবাহী স্টিমার সেবা পুনরায় চালুর কথা জানান। ওই সময়ে তিনি বলেছিলেন, চারটি স্টিমার সংস্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে থেকে দুটি স্টিমার চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গবেষক আনিচুর রহমান স্বপনর বলেন, এ অঞ্চলে স্টিমার সেবার যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৪ সালে। কয়লা চালিত প্যাডেল স্টিমার প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও পরে ঢাকা থেকে সরাসরি খুলনার নৌপথে চলাচল করত। গগনবিদারী হুইসেল বাজিয়ে স্টিমারগুলো আসা যাওয়া করতো। স্টিমারে ভ্রমণের অনেক স্মৃতি আমাদের রয়েছে। স্টিমারে প্যাডেল কাটা পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দের সেই ছন্দ আজও কানে বাজে।
তিনি আরো বলেন, প্যাডেল স্টিমার এখন একটি বিশ্ব ঐতিহ্যর একটি। ব্রিটিশ আমলের এই প্রযুক্তিগত বিস্ময় ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিচিহ্নগুলোকে জাদুঘর বা পর্যটনভিত্তিক ভাসমান সংগ্রহশালায় রূপান্তর করা প্রয়োজন। এগুলো সভ্যতার চিহ্ন। জীবন্ত ইতিহাসের অংশ করে রাখতে সেগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজন।
মঈনুল ইসলাম সবুজ/এসএন