বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্বজনদের মারধর এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় মাগুরার জাঙ্গালিয়া গ্রাম এলাকায় রহমত মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম ও তার মা আফরোজা বেগমকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২২ সালে রহমত মিয়ার সঙ্গে রাজশাহীর তকিপুর গ্রামের সাদিয়া ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সাদিয়ার দাবি, তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় রহমত মিয়া বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ২০২৫ সালে তার অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সংসার থেকে আলাদা ছিলেন।
সাদিয়া ইসলামের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে কন্যাসন্তানকে স্বর্ণালংকার দেওয়ার কথা বলে রহমত মিয়া তাকে মহম্মদপুরের মধুমতী সেতু এলাকায় ডাকেন। সেখানে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি সাদিয়ার কোল থেকে সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যান। পরে সন্তানকে ফেরত নিতে সাদিয়া তার মা, মামী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রহমতের বাড়িতে যান।
সাদিয়ার ভাষ্য, বাড়িতে প্রবেশের পর রহমত মিয়া, তার বাবা ও ভাই বাড়ির দুই পাশের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর তাকে লাঠি ও বুট দিয়ে মারধর করা হয়, দেয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়া হয় এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও করা হয়। বাধা দিতে গেলে তার মা ও মামীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগম বলেন, বাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে তিনি গোপনে তাঁর স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত আফরোজা বেগম অভিযোগ করেন, রহমত মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক আবু আহসান জানান, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে শুক্রবার রাতে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে সাদিয়া ইসলামের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক জটিল ছিল এবং তিনি আতঙ্কজনিত শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তার আঘাতের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এদিকে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। বিষয়টি মূলত প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে রহমত মিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এটা নিয়ে সামনে আসেন, তখন কথা বলব।
পরে বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
মোঃ কাসেমুর রহমান শ্রাবণ/এসএন