সুনামগঞ্জে পেয়াজ, রসুন ও আলু ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ র্যাব ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-৯ এর সুনামগঞ্জ কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কপিল দেব গাইন।
র্যাব জানায়, প্রায় তিন মাস আগে সুনামগঞ্জের রাধানগর পয়েন্টে ‘মেসার্স আব্দুল্লাহ বাণিজ্যালয়’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করে প্রতারক চক্রটি। তারা বাজারদরের চেয়ে কম দামে পেয়াজ, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাইকারি বিক্রি শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করে।
কিছুদিনের মধ্যেই তারা স্থানীয় পাইকার ও দোকানদারদের বিশ্বাসে ফেলে জানায়, বড় একটি পণ্যের চালান অন্য জেলা থেকে এনে আরও কম দামে বিক্রি করবে। অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তারা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্ডার নিশ্চিত করার জন্য নগদ প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করে।
অর্থ সংগ্রহের পর তারা হঠাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরদিন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
ঘটনার পর এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুনামগঞ্জ সদর থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে র্যাব-৯ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১১ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার শ্রীবর্দীপুর ঘোষপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাদের সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মো. রফিকুল ইসলাম সোহেল (৩৯), মোছা. শাহানা পারভীন (৪৩), মো. মশিউর রহমান ওরফে মাসুক (৩০), মো. শফিউর রহমান (২৬), রিনা আক্তার (২০), নারগিস আক্তার (৩৪)।
এরা সবাই কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ ও নিকলী উপজেলার বাসিন্দা।
র্যাব কর্মকর্তা কপিল দেব গাইন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা পূর্বেও দেশের বিভিন্ন জেলায় একই কৌশলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা গাইবান্ধা জেলাকে টার্গেট করে নতুন প্রতারণার পরিকল্পনা করছিল।
র্যাব জানায়, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দেওয়ান গিয়াস/মাহফুজ