১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন–উদ্যোক্তা উন্নয়ন (প্রভাষক) পদে উত্তীর্ণ হয়ে জাতীয় মেরিট লিস্টে ৬৫তম হওয়ার পরও সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় চাকরি হয়নি নোয়াখালীর হাতিয়ার আবুল কালাম সুমনের। উচ্চশিক্ষিত এ যুবক এখন দিনে কৃষিকাজ আর রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে ৮ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। তবুও নেই কোনো হীনম্মন্যতা কিংবা আক্ষেপ। বরং দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, বেকার বসে না থেকে কাজের মধ্যেই সময় যাচ্ছে। তৌফিক হলে সামনে খাবারের হোটেল ব্যাবসা শুরু করব।’
নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ২০১১ সালে অনার্স (ব্যবস্থাপনা) এবং ২০১২ সালে মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) সম্পন্ন করেন সুমন। স্বপ্ন ছিল শিক্ষকতা কিংবা একটি ভালো চাকরি করবেন। এনটিআরসিএর উদ্যোক্তা উন্নয়ন ‘প্রভাষক’ পদের সনদ পেয়েও সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
সুমন অভিযোগ করে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমার চাকরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাদের প্রথমবার চাকরি স্থায়ী হয়নি, তারা আবার আবেদন করে সুযোগ পায়। এতে আমার আর যোগদান হয়নি। ফলে সনদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে সিডিএসপি–৪ প্রকল্পে ফিশারিজ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করলেও প্রকল্প শেষ হওয়ায় আবার বেকার হয়ে পড়েন তিনি।’
বেকার অবস্থায় বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়েন সুমন। নিজের ও বর্গা মিলে প্রায় দুই একর জমি চাষ করেন। কৃষিকাজে তার আগ্রহ দেখে হাতিয়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সার-বীজ প্রণোদনাও দেওয়া হয়।
সুমনের ভাষায়, পরিবারে বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানসহ আমরা ৮ জন। সংসারের বড় ছেলে হওয়ায় দায়িত্বও বেশি। তাই দিনের বেলা কৃষিকাজ করি আর সন্ধ্যার পর ঝালমুড়ি বিক্রি করি।
হাতিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড চরলটিয়ার আবুল হাসেমের ছেলে সুমন এখন প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাতিয়া কোর্টের উত্তর কোণে ঝালমুড়ির স্টল বসান। কয়েক মাস ধরেই চলছে তার এ ব্যাবসা।
সাংবাদিক গিয়ে দেখেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সুমনের ঝালমুড়ির দোকানে ভিড় করছেন।
মাইজদী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাহানাজ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আবুল কালাম সুমন উদ্যমী তরুণদের জন্য দৃষ্টান্ত। এত উচ্চশিক্ষা থাকা সত্ত্বেও তিনি হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি। সরকারের উচিত এমন যুবকদের কর্মসংস্থানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া।’
একজন স্থানীয় কলেজছাত্র মো. মেহেদী হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা প্রায়ই তার দোকানে যাই। মানুষটা ভীষণ ভদ্র ও পরিশ্রমী। তার সাফল্য দেখতে ইচ্ছে করে।’
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঝালমুড়ি বিক্রি করে প্রায় এক হাজার টাকার মতো আয় হয় বলে জানান সুমন। খরচ বাদ দিয়ে অল্প কিছু সঞ্চয় হলেও তিনি হতাশ নন।‘পুঁজি হলে একটা খাবারের হোটেল ব্যাবসা করতে চাই। সৎ পথে উপার্জনই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ’ বলেন, তিনি।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অপূর্ব খবরের কাগজকে বলেন, ‘সুমনের মতো শিক্ষিত তরুণেরা চেষ্টা করলে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবেন। তবে সরকারি সহায়তা পেলে তারা আরও সামনে এগোতে পারবে।’
হাতিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খোরশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের কিছু নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া আছে। তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে যেভাবে সম্ভব সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
হানিফ/মেহেদী/