শীতপ্রধান জেলা পঞ্চগড় হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় নিদিষ্ট সময়ের আগেই শীত শুরু হয়। তবে এবার বর্ষা যেতে না যেতেই এ জেলায় শীতের আগমন ঘটেছে। দিন যত যাচ্ছে শীতের তীব্রতাও বাড়ছে। গত কয়েক দিন ধরে এ জেলা তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১১ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা নির্ণয় করা ৮৭ শতাংশ।
গতকাল মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় এবং এদিন সকাল ৯টায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়ে ছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রার এই তারতম্যে জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়তে শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা বাড়লেও বাড়ছে না শীতবস্ত্র বিতরণ। কিছু এলাকায় স্বল্প সামান্য কিছু বিতরণ করা হলেও বড় পরিসরে বিতরণ চোখে পড়েনি। শীতার্তরা বলছেন, যেহেতু শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে তাই এখন থেকেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলে অনেকে উপকৃত হবেন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর শীতবস্ত্র বিতরণ হ অনেকে দেরিতে। অনেক সময় তা প্রকৃতদের কাছে পৌঁছায় না।
তেঁতুলিয়া উপজেলা বাংলাবান্ধা এলাকার নাছিমা বেগম বলেন, প্রতিবছর শীত আসে কিন্তু শীতবস্ত্র প্রকৃতরা পায় না। আর আমাদের জেলায় যে শীত, তা থেকে বাঁচতে রাতে লেপ ও দিনে গরম কাপড়ের অভাব হয়। কিন্তু এগুলোর পরিবর্তে দেওয়া হয় কম্বল, যেটা দিয়ে শীত নিবারণ পুরোপুরি নিশ্চিত হয় না।
একই কথা বলেন সদর উপজেলার সাতমেড়া এ এলাকার বাসিন্দা বশিরুল আলম। তিনি বলেন, যেহেতু শীত এখন পড়তে শুরু করেছে তাই এখন থেকে যদি শীতবস্ত্র সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যােগে দেওয়া হয় তাহলে অনেক উপকার হবে। শীতের শেষের দিকে বিতরণ হলে তা আমাদের কাজে আসে না, সবাই পাইও না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আজ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর দিক থেকে হিমালয়ের হিম বাতাস এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার কারনে এখানে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
রনি মিয়াজী/অমিয়/