সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর লুটকাণ্ডে জড়িত থাকার তালিকায় নাম থাকা পশ্চিম ইসলামপুর ইউপি সদস্য (মেম্বার) দেলোয়ার হোসেন জীবন ওরফে জীবন মেম্বারকে ইউপি সদস্য থেকে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগের (ইউপি-১) শাখা থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন সিলেটে পৌঁছায়।
এর আগে ১০ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. নুরে আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নম্বর ১৯-৯৬৮) বলা হয়, ‘পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দেলোয়ার হোসেন জীবনের বিরুদ্ধে মামলাসমুহ আদালত কর্তৃক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন জীবন কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ (১) ধারা অনুযায়ী স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা হলো।’
উল্লেখ্য, দেলোয়ার হোসেন জীবন পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। সাদাপাথর লুটকাণ্ডে দুদকের তালিকায় নাম থাকায় তিনি রাতারাতি দল ত্যাগের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। ফেসবুকে ধানের শীষের প্রচারণার একটি পোস্ট দিয়ে বিএনপির প্রার্থিতার প্রচারণায় নামেন।
ফেসবুকে ধানের শীষের প্রচারণার কয়েকটি ছবি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘ইনশাআল্লাহ নিশ্চয় ধানের শীষের হবে জয়!’ এ নিয়ে ৬ অক্টোবর খবরের কাগজের অনলাইনসংস্করণে ‘সাদাপাথর লুটে দুদকের তালিকায় নাম/ আওয়ামী লীগের জীবন মেম্বার এখন ‘ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ’! শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে এ নিয়ে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এ কারণে তার দলবদলও থেমে গিয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে জীবন অবশ্য খবরের কাগজকে বলেছিলেন, ‘আমি কোনো সময় কোনো দল করিনি। যারা আমার বিরোধী তারা আওয়ামী লীগের প্যাডের মাঝে আমার নাম দিয়ে এটা ছড়াইছে। এই পুরো জিনিসটা ভুয়া। আমি কোনো সময় আওয়ামী লীগের কোনো পোস্টে ছিলাম না।
জীবন মেম্বার অস্বীকার করলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এলাকাবাসী সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন। কমিটি প্রকাশকালীন দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে তার নাম রয়েছে। ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত কমিটির সভাপতি শামীম আহমদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ পরিচয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আড়াল করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের এক বছরের মাথায় গত আগস্ট মাসে যখন তার ইউনিয়ন পার্শ্ববর্তী সাদাপাথর পর্যটন এলাকার পাথর লুটপাট হয়, সেখানে জীবন মেম্বার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ নিয়ে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুদকের তালিকা প্রকাশ হলে তাতে ৩৫ নম্বরে রয়েছে তার নাম। এ বিষয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে জন প্রতিনিধির জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তার ইউপি সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করার একটি লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। তখন তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা চলমান থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
দেলোয়ার হোসেন/সুমন/