চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে পাঁচ পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে প্রতি ডজন ডিমে ৫ টাকা, প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ও চায়না আদার কেজিতে ২০ টাকা এবং চায়না রসুনের কেজিতে ৪০ টাকা কমেছে। পাশাপাশি নতুন আলুর কেজিতে ১৫ টাকা কমেছে। তবে প্রতি কেজি ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে সবজি, মাছ, গরু ও খাসির মাংসের দাম।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও হালিশহর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা কমে প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অন্যদিকে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৮৫০ টাকা ও হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের ডিম ও মুরগি বিক্রেতা মো. ছলিম বলেন, ‘শীতকালে সবজির সরবরাহ বেশি ও দাম কম থাকায় ডিমের চাহিদা কমে যায়। তাই দামটাও কমতির দিকে রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে পিকনিক, বিয়েসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। তাই দামটাও বেড়ে গেছে।’
নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, ‘মুরগির বাজারে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। এক সপ্তাহে কমলে, অন্য সপ্তাহে বেড়ে যায়। খুচরা বাজারে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা দূর হবে।’
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা কমে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও চায়না আদা ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি চায়না রসুনের কেজিতে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হয় ১৪০ টাকায়।
সবজির বাজারে গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া নতুন আলু বর্তমানে বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকায়। ফুলকপি, বাঁধাকপি বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, শসা, বেগুন, কাঁচা টমেটো বিক্রি হয় ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, মুলা ও কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা এবং প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি শালগম, মিষ্টি কুমড়া ও লাউ ৫০ টাকা, নতুন শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা, কচুর লতি, কচুরমুখী ও চালকুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি লইট্যা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, রূপচাঁদা ৮৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প ২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, নাইলোটিকা ২২০ টাকা ও পাঙাশ ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া মুদি দোকানে প্রতি কেজি মসুর ডাল (মোটা) ৯০ টাকা, খেসারি ডাল ৯০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, মুগ ডাল (বড়) ১২০ টাকা, মুগ ডাল (ছোট) ১৪৫ টাকা ও মাষকলাই ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি খোলা চিনি ৯৫ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। তা ছাড়া প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১০ টাকা ও প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকায় বিক্রি হয়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কারসাজি করতে না পারে, অন্যায়ভাবে দাম বাড়াতে না পারে সে জন্য বাজারে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। মূল্য তালিকা, ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে হবে। অনেক সময় মূল্য তালিকা রেখেও বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি হয়। তাই আমাদের ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’