খাল পারাপারের জন্য ৩০ বছর আগে দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেতুগুলোর কাজ আর শেষ হয়নি। অজানা কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখেই সেতুগুলো ফেলে রাখে। এমনকি কোনো সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত পাঁচ গ্রামের মানুষ। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নজরে আনা হলে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। উপজেলা প্রকৌশলী অবশ্য সরেজমিনে পরিদর্শনসাপেক্ষে ঊর্ধ্বতনদের বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন। সেতুগুলো অবস্থান ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটির বুক চিড়ে বয়ে গেছে বাপাইল নামের একটি বিল। বিলের বেড়িবাঁধের মাঝখানে কাছাকাছি দূরত্বে দুটি খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে দুটি অর্ধসমাপ্ত সেতু। ফুতারপুরী খালের ওপর সেতু কিছুটা বড়, খয়রা খালের ওপর সেতুটি কিছুটা ছোট হলেও বাঁধ থেকে সেটি অনেকটা উঁচুতে। সেতু দুটিতে এবং বেড়িবাঁধের মধ্যে কোনো সংযোগ সড়ক নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যার সময় বিলের পানি যাতে উত্তর পাশে থাকা উঁচু জমিতে ঢুকতে না পারে সেজন্য বিলের পূর্বপাশ থেকে উত্তর দিক হয়ে আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রশস্ত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৫ সালে নির্মিত বেড়িবাঁধটি সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর বাড়ির পেছন থেকে শুরু হয়ে কাদিরপুর ফরিদখালী সেতুতে গিয়ে মিলেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে নির্মিত হলেও এটির আরও দুটি উদ্দেশ্য ছিল। একটি হলো, উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করা এবং অন্যটি হলো, বিলে উৎপাদিত ধান যানবাহনে করে দূরবর্তী বাড়িতে নিয়ে যাওয়া। বাঁধ নির্মাণের পরপরই বাঁধের মাঝখানে থাকা খয়রা খাল এবং ফুতারপুরী খালের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বৃহৎ বিলগুলোর মধ্যে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বাপাইল বিলটি অন্যতম। এখানে থাকা দুটি সেতুরই পিলারসহ পাটাতন নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। কয়েক হাজার একর জমির বিলটি ঘিরে রয়েছে মোয়াজ্জেমপুর, কাদিরপুর, কালিয়াপাড়া, কানারামপুরসহ পাঁচটি গ্রাম। স্থানীয়দের গ্রামগুলো ঘুরে পৌর শহরে যাতায়াত করতে হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।
মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন দশক পড়ে থেকে সেতু দুটির বর্তমানে ভগ্নদশা। পিলার এবং পাটাতনের ঢালাই ক্ষয়ে রড বের হয়ে গেছে। বর্ষাকালে নৌকাই ভরসা। পানি কম থাকলে কাদাপানি ভেঙে সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে হয়।’
কাদিরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘সেতুর অভাবে বিলপাড়ের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ধানসহ সবধরনের ফসল বাড়িতে নিতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর শহরে ঘুরপথে যেতে হয়।’
মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘সেতুর অভাবে দীর্ঘ বছর যাবত মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয়রা। এক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’
সামাজিক সংগঠন ‘অধিকার সমাজকল্যাণ সমিতি’র সভাপতি ব্যবসায়ী আব্দুল গনি বলেন, ‘সেতু দুটির নির্মাণকাজ হঠাৎ বন্ধ হওয়ার পর দেখতে দেখতে ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এগুলো কারা নির্মাণ করছিল, কেনইবা কাজ বন্ধ হয়ে গেল তা জানা নেই।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আহসান উল্লাহ বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি আমাদের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানেই নির্মিত হওয়ার কথা। সেতুগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভালো বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস বলেন, ‘উঁচু সেতুর পিলার ভালো থাকলে পাটাতন কেটে ফেলে দিয়ে নতুন করে পাটাতনসহ রেলিং নির্মাণ করা যাবে। ওই সেতুগুলোর ক্ষেত্রে কী করতে হবে তা সরেজমিনে গিয়ে না দেখে বলা যাচ্ছে না। তাই সেতু পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে বিষয়টি আনা হবে।’