চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১২ দিনের ব্যবধানে আবারও গরু লুটের ঘটনা ঘটছে। এবার গভীর রাতে গরুর খামার থেকে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল খামারিকে হাত বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১২টি গরু নিয়ে গেছে। ডাকাতদের হাতে অস্ত্র ও মাংকি টুপি পরা ছিল বলে জানিয়েছেন জিম্মির শিকার হওয়া ওই খামারি।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নুরুল হক মঞ্জিলের বাড়ি এলাকায় মোহাম্মদ ইসমাইল ও নজরুল ইসলামের নামে দুই ব্যক্তির গরুর খামারে এ লুটের ঘটনা ঘটে। দুই খামারি সম্পর্কে আপন চাচা-ভাইপুত হন।
লুটকৃত খামার দুটিতে ছোট-বড় ও মাঝারি সাইজের মোট ১২টি গরু ছিল। এদের মধ্যে দুধের গাভী ছিল ৫টি, মাঝারি বিরিশ ৩টি, মাঝারি বকনা ৪টি। এগুলোর মধ্যে চারটি গাভী প্রত্যেকে ১০-১৫ লিটার দুধ দিতো। গরুগুলোর রঙ সাদা-কালো।
এদিকে, একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও নেপথ্যে থাকা ডাকাতদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি থানা পুলিশ। রাত হলেই বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়ছে আতঙ্ক। নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
একের পর এক ডাকাতি ও উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার কল করা হলেও সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম কল রিসিভ করেননি।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারের মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে খামারে রাত যাপন করছিলাম। গভীর রাতে ডাকাতরা খামারের দরজা (খিলি) খোলার সঙ্গে সঙ্গে গাভীর বাচুরগুলো ডাক (চিৎকার) দেয়। তখনই আমার ঘুম ভেঙে যায়। শোয়া থেকে উঠতেই দুজন ব্যক্তি (ডাকাত) আমার দুপাশে রাইফেল (অস্ত্র) তাক করে ধরে। এসময় দেখি একটি ট্রাক দাঁড়ানো খামারের সামনে। আর কয়েকটি গরু খামারের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিল। ডাকাতদের সবার হাতে অস্ত্র ও মাংকি টুপি পরা ছিল। এরপরই তারা আমাকে তাদের নিয়ে আসা গরুর বেল্ট দিয়ে হাত পেছন দিয়ে বেঁধে এবং অস্ত্রের মুখে ফেলে রাখে। ডাকাতরা একে-অপরের সঙ্গে কথা বলছে ইশারা-ইঙ্গিতে। এসময় একজন ডাকাত ইশারায় বলছিল গুলি করে মেরে ফেলব কিনা, অন্যজনে বলছে না ঝামেলায় পরব, মেরো না। এসময় আমার সঙ্গে থাকা বাটন মোবাইল নিয়ে ফেলে তারা। গরুগুলো বড় ট্রাকে তুলতে শুরু করে। আমাকে ওই গাড়ির সামনে নিয়ে গরুগুলো তোলা হয়। পরে রাস্তায় হাত বেঁধে রেখে চলে যায়। পরে সেখান থেকে অনেক কষ্ট করে আমার ভাইয়ের কাছে গিয়ে ঘটনা বলি। পরে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সহযোগীতা চাই। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আমার ও আমার ভাইপুতের এই দুইটি থামারে থাকা ছোট-বড় ১২টি গরু ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।। মোট ১২টি গরুর আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারী ইসমাইল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ১২টি গরু উদ্ধারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি মাসের ১৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী এলাকায় ব্যবসায়ী ও চালকসহ ৬ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে গরু লুট করে নিয়ে যায়। গরুগুলো সিরাজগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম আনোয়ার সরকার হাট বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় মুখোশারী ডাকাতদের কবলে পড়ে এই ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ট্রাকটিতে জিপিএইচ ট্র্যাকার থাকায় পরদিন বড় ২৮ গরুর মধ্যে ২৬টি গরু বাড়বকুণ্ড এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে উদ্ধার হয়নি ২টি গরু।
মুসলেহ/মাহফুজ