ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা ঢাকার পরিবেশ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি তিন মাসে অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ ভোলায় যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট মেসির চোট নিয়ে যা বললেন স্কালোনি হিলি সীমান্তে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি যে কারণে মুভি দেখব মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী সময়ের সঙ্গে বদলান লিডারশিপ স্টাইল পঞ্চগড়ে পুশইনের শিকার ১০ জন, নিচ্ছে না কোনো দেশ শিবালয়ে ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরে চেইন ছিনতাই জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেট সীমান্তে জনগণকে সাথে নিয়ে বিজিবির মাইকিং ও টহল বৃদ্ধি গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি শ্রেয়াসের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উত্থান, আর ১৫ বছরের বিস্ময় সূর্যবংশী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ কাশিয়ানীতে ট্রেনের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু পুশইনের আড়ালে সীমান্তে মানবপাচারের অপচেষ্টা, সতর্ক বিজিবি-জনতা হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আনোয়ারায় দুই পরিবারের কাঁটায় বন্ধ শতাধিক পরিবারের চলার পথ হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী? চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান হলিউড অভিনেতা খুন, প্রেমিকার ছেলে গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ১ স্বর্ণ ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা এআই এজেন্টের নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রজেক্ট সোলারা
Nagad desktop

সীতাকুণ্ডে একের পর এক ডাকাতি, এবার মালিককে বেঁধে রেখে ১২টি গরু লুট

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৮ এএম
আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৯ এএম
সীতাকুণ্ডে একের পর এক ডাকাতি, এবার মালিককে বেঁধে রেখে ১২টি গরু লুট
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি মোহাম্মদ ইসমাইল। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১২ দিনের ব্যবধানে আবারও গরু লুটের ঘটনা ঘটছে। এবার গভীর রাতে গরুর খামার থেকে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল খামারিকে হাত বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১২টি গরু নিয়ে গেছে। ডাকাতদের হাতে অস্ত্র ও মাংকি টুপি পরা ছিল বলে জানিয়েছেন জিম্মির শিকার হওয়া ওই খামারি। 

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নুরুল হক মঞ্জিলের বাড়ি এলাকায় মোহাম্মদ ইসমাইল ও নজরুল ইসলামের নামে দুই ব্যক্তির গরুর খামারে এ লুটের ঘটনা ঘটে। দুই খামারি সম্পর্কে আপন চাচা-ভাইপুত হন। 

লুটকৃত খামার দুটিতে ছোট-বড় ও মাঝারি সাইজের মোট ১২টি গরু ছিল। এদের মধ্যে দুধের গাভী ছিল ৫টি, মাঝারি বিরিশ ৩টি, মাঝারি বকনা ৪টি। এগুলোর মধ্যে চারটি গাভী প্রত্যেকে ১০-১৫ লিটার দুধ দিতো। গরুগুলোর রঙ সাদা-কালো। 

এদিকে, একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও নেপথ্যে থাকা ডাকাতদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি থানা পুলিশ। রাত হলেই বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়ছে আতঙ্ক। নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। 

একের পর এক ডাকাতি ও উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার কল করা হলেও সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম কল রিসিভ করেননি।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারের মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে খামারে রাত যাপন করছিলাম। গভীর রাতে ডাকাতরা খামারের দরজা (খিলি) খোলার সঙ্গে সঙ্গে গাভীর বাচুরগুলো ডাক (চিৎকার) দেয়। তখনই আমার ঘুম ভেঙে যায়। শোয়া থেকে উঠতেই দুজন ব্যক্তি (ডাকাত) আমার দুপাশে রাইফেল (অস্ত্র) তাক করে ধরে। এসময় দেখি একটি ট্রাক দাঁড়ানো খামারের সামনে। আর কয়েকটি গরু খামারের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিল। ডাকাতদের সবার হাতে অস্ত্র ও মাংকি টুপি পরা ছিল। এরপরই তারা আমাকে তাদের নিয়ে আসা গরুর বেল্ট দিয়ে হাত পেছন দিয়ে বেঁধে এবং অস্ত্রের মুখে ফেলে রাখে। ডাকাতরা একে-অপরের সঙ্গে কথা বলছে ইশারা-ইঙ্গিতে। এসময় একজন ডাকাত ইশারায় বলছিল গুলি করে মেরে ফেলব কিনা, অন্যজনে বলছে না ঝামেলায় পরব, মেরো না। এসময় আমার সঙ্গে থাকা বাটন মোবাইল নিয়ে ফেলে তারা। গরুগুলো বড় ট্রাকে তুলতে শুরু করে। আমাকে ওই গাড়ির সামনে নিয়ে গরুগুলো তোলা হয়। পরে রাস্তায় হাত বেঁধে রেখে চলে যায়। পরে সেখান থেকে অনেক কষ্ট করে আমার ভাইয়ের কাছে গিয়ে ঘটনা বলি। পরে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সহযোগীতা চাই। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আমার ও আমার ভাইপুতের এই দুইটি থামারে থাকা ছোট-বড় ১২টি গরু ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।। মোট ১২টি গরুর আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারী ইসমাইল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ১২টি গরু উদ্ধারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি মাসের ১৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী এলাকায় ব্যবসায়ী ও চালকসহ ৬ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে গরু লুট করে নিয়ে যায়। গরুগুলো  সিরাজগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম আনোয়ার সরকার হাট বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় মুখোশারী ডাকাতদের কবলে পড়ে এই ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ট্রাকটিতে জিপিএইচ ট্র্যাকার থাকায় পরদিন বড় ২৮ গরুর মধ্যে ২৬টি গরু বাড়বকুণ্ড এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে উদ্ধার হয়নি ২টি গরু।

মুসলেহ/মাহফুজ

রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা
কথা বলছেন আছিয়ার মা। ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায় আজ ঘোষণা হবে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই আবারও সামনে এসেছে মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলা। মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো কার্যকর হয়নি সেই সাজা। আর এ নিয়েই ক্ষোভ, হতাশা ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন।

২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আছিয়া। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

ঘটনার পর করা মামলায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন এবং আপিল শুনানি সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক তাই মামলাটি এখনও উচ্চ আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।

আছিয়ার পরিবারের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, মামলাটির আপিল শুনানি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের থেকে দ্রুত শুনানি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সোহেল আহমেদ জানান, সর্বশেষ শুনানি হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। বর্তমানে মামলার কার্যক্রম ঢাকায় উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে এসব আইনি ব্যাখ্যার মধ্যেও সন্তুষ্ট নন আছিয়ার মা। তার ভাষায়, আছিয়ার ঘটনায় পুরো দেশ আন্দোলন করেছে, বিচার চেয়েছে। আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায়ও দিয়েছেন। কিন্তু সেই রায় এখনো কার্যকর হয়নি।

আয়েশা খাতুন বলেন, এক বছর দুই মাস ধরে আমি বিচার চেয়ে আসতেছি। আদালত রায় দিল, কিন্তু সেই বিচার তো আমি চোখে দেখলাম না। যদি তখনই বিচারটা কার্যকর হইত, তাহলে হয়ত রামিসার মতো আরও অনেক শিশু বাঁচত। অনেক মায়ের বুক খালি হইত না।

তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনা সংবাদে আসে, আবার কিছু ঘটনা অজানাই থেকে যায়। কিন্তু অপরাধীরা যখন শাস্তি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগে দেখে, তখন সমাজে ভুল বার্তা যায় বলেও মনে করেন তিনি।

রামিসার ঘটনার কথা উঠতেই আবেগাপ্লুত হয়ে আছিয়ার মা বলেন, আমার মেয়ের জন্য যতটুকু কাঁদছি, ওই মেয়েটার জন্যও ততটুকুই কাঁদছি। এতটুকু একটা বাচ্চার সঙ্গে মানুষ কেমন করে এমন করতে পারে? ছোট শিশুদের যদি সম্মান না দিতে পারে, তাহলে বড়দের সঙ্গে তারা কী করতে পারে?

বিচার না পাওয়ার হতাশার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার দাবি, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এ কারণে তিনি নিজে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

তিনি বলেন, একটা সন্তান হারাইছি, আরেকটা সন্তান আছে। ওদের নিয়েই ভয় লাগে। স্বামী অসুস্থ, সবসময় তো পাহারা দিতে পারি না। কখন কে কী করে, সেই ভয় সবসময় কাজ করে।

বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আয়েশা খাতুন বলেন, এতদিনেও বিচার কার্যকর না হওয়ায় আস্থা অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে। মনে হয়, বিচার হলে এতদিনে হয়ে যেত।

রামিসার বাবা যেমন আল্লাহর বিচারের কথা বলেছেন, সেই প্রসঙ্গ টেনে আছিয়ার মাও বলেন, এখন মানুষ বলে, আল্লাহ ছাড়া বিচার করার কেউ নেই। কারণ এতদিন অপেক্ষা করেও আমরা বিচার দেখতে পেলাম না।

আজ যখন রামিসা হত্যা মামলার রায়ের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে, তখন একইসঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে আছিয়ার পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্পও। একটি মামলায় রায় ঘোষণার দিনেই আরেকটি মামলার রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি, শাস্তি কার্যকর এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমতের আলোচনা।

কাসেমুর রহমান/নাঈম

ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে  ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা
ছবি: খবরের কাগজ

সীমান্ত দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৬ জুন) দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান নিশ্চিত করেছেন। 

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধীন মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস-এর নিকটে বিএসএফের বহরগাঁও ক্যাম্পের সদস্যরা ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে  ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে।

খবর পেয়ে মশালগাঁও বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখার অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দিনাজপুরের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায় এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে। সেখানে আগে থেকেই আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।

তাদের দাবি, প্রায় সাত দিন পর বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হয়। পরে পুলিশের একটি গাড়িতে করে তাদের ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে আনা হয়। সেখানে একদিন রাখার পর শুক্রবার ভোরে সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস এলাকায় নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।


সুলতান মাহমুদ/এসএন

হিলি সীমান্তে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
হিলি সীমান্তে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার সময় ঘাসুড়িয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে রুখে দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট-২০ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল লতিফুল বারী।

তিনি জানান, ভারত থেকে অবৈধ পথে কোন প্রকার মানুষ যেন হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষে বিজিবি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও অরক্ষিত সীমান্তে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বিজিবির নজড়দারি করছে। এখন পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুদ্দুস আলী খান/এসএন

পঞ্চগড়ে পুশইনের শিকার ১০ জন, নিচ্ছে না কোনো দেশ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
পঞ্চগড়ে পুশইনের শিকার ১০ জন, নিচ্ছে না কোনো দেশ
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন ভারত থেকে পুশইন হওয়া শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষ। তবে তাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা কিংবা সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারেনি বিজিবি ও বিএসএফ।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোর ৬টায় তাদের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ায় তারা ভারতীয় সীমান্তরেখায় আটকা পড়েন। তবে ভুক্তভোগী ১০ জন ভারত থেকে আসার কথা বললেও বিষয়টি অস্বীকার করছে বিএসএফ। পাশাপাশি তিন দফা পতাকা বৈঠক হওয়ার পরও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিজিবি ও বিএসএফ। বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে বিজিবি সদস্যরাও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে ভারতীয় কোনো অনুপ্রবেশ বা পুশইন মেনে নেওয়া হবে না বলে তারা জানিয়েছে। এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদও জানিয়েছে বিজিবি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুশইন হওয়া শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষ ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখার একটি কৃষিজমির আইলের ওপর অবস্থান নিয়েছেন। চারপাশে পানি, নেই খাবারের ব্যবস্থা। না খেয়ে তারা দিন-রাত পার করছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে সামান্য পানিসহ শুকনো খাবার দেওয়া হলেও বিএসএফ কোনো সহযোগিতা করছে না। এছাড়া শুক্রবার ঝড়বৃষ্টিতে ভিজে তারা রাত কাটিয়েছেন। ১০ জনের মধ্যে ৩ শিশু, ২ নারী, ১ জন বৃদ্ধ ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন।

পুশইন হওয়া নারী-পুরুষরা জানান, তারা অনাহারে রয়েছেন। শুক্রবার থেকে ঝড়-বৃষ্টি ও রৌদ্রের মধ্যে পানিবেষ্টিত এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, যেহেতু তারা ভারত থেকে এসেছে, তাই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। ভারত থেকে আসায় তাদের ভারতেই ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। তবে বিএসএফ যে কাজ করেছে, তা অমানবিক। গত দুই দিন ধরে পুশইন হওয়া মানুষগুলো চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। না খেয়ে, পানির মধ্যে খেতের আইলে বসে অবস্থান করছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং তাদের ফেরত নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা স্বীকার করেছেন যে, তাদের ভারত থেকে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবির টহল ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে পুশইন বা অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে জন্য আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’

রনি মিয়াজী/রিফাত/

সিলেট সীমান্তে জনগণকে সাথে নিয়ে বিজিবির মাইকিং ও টহল বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
সিলেট সীমান্তে জনগণকে সাথে নিয়ে বিজিবির মাইকিং ও টহল বৃদ্ধি
সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সতর্কতামূলক মাইকিং। ছবি: খবরের কাগজ

সারা দেশের ন্যায় সিলেট সীমান্ত দিয়েও ভারত থেকে ২জন ব্যক্তিকে পুশইন করার চেষ্টা করে।

শুক্রবার (৫ জুন) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে পুশব্যাক করে বিজিবি। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সিলেটের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে সতর্কতামূলক মাইকিং, টহল বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) গভীর রাতে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় এ সচেতনতামূলক সতর্কতামূলক মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।

মাইকিংয়ের সীমান্তবর্তী এলাকারবাসীকে সতর্ক করে বিজিবি জানায়, বিশেষ সতর্ক বার্তা। অনুগ্রহ পূর্বক কেউ সীমান্ত অতিক্রম করবেন না। ভারত সরকার বা প্রশাসন কর্তৃক ভারতীয় অবৈধ নাগরিক বাংলাদেশের বিভিন্ন পয়েন্টে অনুপ্রবেশ বা পুশইন করার চেষ্টা করতেছে। তাই বিজিবি সীমান্তের জনসাধারণ ও বিজিবির সমন্বয়ে পুশইন প্রতিরোধে প্রস্তুত আছি। পুশইনের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

এ ব্যাপারে ৪৮ বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক খবরের কাগজকে বলেন, সীমান্তে ভারতের পুশইন ঠেকাতে আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ৪৮ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ির মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু সীমান্ত এলাকা অনেক বড় তাই পুশইন ঠেকাতে আমরা স্থানীয় জনসাধারণের সাহায্য নিচ্ছি। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি তথ্য দিয়ে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহবান জানাচ্ছি । অবৈধ পুশইনসহ মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি মাদক ও পণ্য চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

শাকিলা ববি/এসএন