ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে জনজীবন সামাজিক অস্থিরতায় মানবতা হত্যা: প্রতিকার কোথায়? জার্মানির জয়ের নায়ক কে এই ডেনিজ উন্দাভ? অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ বাংলাদেশে সমৃদ্ধি ও বঞ্চনার পাহাড় গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা স্বাগতিকদের সিরিজ পরাজয়ে গ্যালারিতে দর্শক ফাঁকা কেন মন্টেরি স্টেডিয়াম পরিষ্কার করলেন জাপানি সমর্থকরা? মৌয়ের জন্মদিনে বাবার গানে আবেগঘন উপহার বিপ্লব সাহার প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার জাপানের কাছে হারের পর যা বললেন তিউনিসিয়া কোচ বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার ইস্টার্ন ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন নেওয়া শুরু উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ৩০ মিটার বিলীন কামাদাকে প্রশংসায় ভাসালেন জাপান কোচ মোরিয়াসু বগুড়ায় এসএমই উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্যেগ নিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক চান্দগাঁও বিসিকে দিনদুপুরে ফাঁকা গুলি, যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা নিভে গেল ক্রীড়াঙ্গনের বাতিঘর: এক কিংবদন্তির প্রস্থান সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কানসাসে আর্জেন্টিনার অনুশীলন, স্কালোনির একাদশে দুই সংশয় আখাউড়ায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ৩৭ লাখ টাকাসহ আটক

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ৩৭ লাখ টাকাসহ আটক
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলাম।

নাটোরে একটি প্রাইভেটকার থেকে প্রায় ৩৭ লাখ টাকাসহ আটক হয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলাম।

সোমবার (৫ জানবুয়ারি) সকালে দুদক রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রাজশাহীতে এ মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, 'আসামি মো. ছাবিউল ইসলাম (৪৩) বর্তমানে এলজিইডির সদর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি গাইবান্ধা জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বকালীন সময়ে, গত বছরের ১৪ মার্চ নাটোরে ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১২-৮৭৯৭ নম্বর গাড়িতে করে অন্যত্র নেওয়ার সময় তার কাছ থেকে ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা জব্দ করা হয়।'

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জব্দ করা টাকার প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন বা ছদ্মাবৃত করার অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন। এ কাজে সহযোগিতার অভিযোগে তার গাড়িচালক শ্রী বাপ্পি কুমার দাসকেও (৫০) মামলার আসামি করা হয়েছে।

রাজশাহী দুদকের পক্ষে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটির আইনজীবী বজলে তৌহিদ আল হাসান বাবলা বলেন, 'সোমবার সকালে দুদকের পক্ষ থেকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করা হয়েছে।'

রিফাত/

‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন
শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার প্রদান করছেন  মানবতার ফেরিওয়ালা ফারুক হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চৌপুকুরিয়া গ্রামে কমল রায়ের বাড়ীর একটি ছোট্ট উঠান। চারপাশে দারিদ্র্যের ছাপ, কিন্তু সেই উঠানজুড়ে প্রতিদিন জ্বলে ওঠে শিক্ষার আলো। এখানেই বসে ‘কমল দাদার পাঠশালা’—যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও আদিবাসী পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান করেন আনসার সদস্য কমল চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী লতা রানী রায়।

অভাব-অনটনের কারণে যেসব শিশু নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য এই পাঠশালাই হয়ে উঠেছে স্বপ্ন দেখার এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। মাটিতে চট বিছিয়ে চলে পাঠদান, আর সেই পাঠশালাকে ঘিরেই গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা।

শুক্রবার (১৯ জুন) দৈনিক খবরের কাগজে প্রকাশিত ‘কমল দাদার পাঠশালা’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ব্যাপক সাড়া ফেলে। সংবাদটি পড়ে অনুপ্রাণিত হন বিআরডিসির গাড়িচালক ফারুক হোসেন। তিনি নিজ উদ্যোগে পাঠশালায় এসে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।

শিক্ষার্থী প্রত্যেককে একটি বাংলা খাতা, একটি ইংরেজি খাতা, একটি গণিত খাতা, একটি কলম এবং একটি করে বিস্কুটের প্যাকেট উপহার দেওয়া হয়। সামান্য এই উপহার পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝলক। নতুন খাতা-কলম হাতে পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে। তাদের চোখেমুখে দেখা যায় নতুন উদ্যমে লেখাপড়া শেখার প্রত্যয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার অধিকাংশ আদিবাসী পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করে। সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয় না। আবার অনেক অভিভাবকের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। এমন বাস্তবতায় কমল চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী লতা রানী রায় দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে শিশুদের পাঠদান করে আসছেন। নিজেদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তারা শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন পিছিয়ে পড়া শিশুদের মাঝে।

দিনাজপুর বিআরডিসি গাড়ীচালক ফারুক হোসেন বলেন, “দৈনিক খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে আমি কমল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি এলাকার আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা পরিস্থিতি, তাদের পারিবারিক দারিদ্র্য এবং শিক্ষা উপকরণের সংকটের কথা জানান। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এরপর নিজের বেতনের অর্থ থেকে প্রায় ৩৫ জন শিশুর জন্য খাতা, কলম ও কিছু খাবার কিনে নিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন, “আমার সামর্থ্য সীমিত। তারপরও মনে হয়েছে এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমরা চাই তারা শিক্ষিত হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হোক। কমল দাদার মতো একজন মানুষ নিঃস্বার্থভাবে যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে এসব শিশুর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।

শিক্ষার্থী সুকন্যা মাড্ডি বলে, “আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। অভিভাবকেরাও শিক্ষা সম্পর্কে তেমন সচেতন নন। লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণেরও অভাব রয়েছে। ফারুক হোসেন স্যার আমাদের খাতা-কলম দিয়েছেন। এতে আমাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী দীপিকা মুর্মু বলে, “এই উপহার পেয়ে আমরা অনেক খুশি। এখন আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করছে। আমাদের পরিবারও পড়াশোনার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে।

পাঠশালার উদ্যোক্তা কমল চন্দ্র রায় বলেন, “আমাদের কার্যক্রম নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের সাড়া পাচ্ছি। একজন সংবাদকর্মী সরেজমিনে এসে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সেই প্রতিবেদনই ফারুক হোসেনের মতো একজন হৃদয়বান মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি শিশুদের জন্য শিক্ষা উপকরণ নিয়ে এসেছেন। এতে আমি যেমন আনন্দিত, শিশুরাও তেমনি নতুন করে উৎসাহ পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই শিশুদের অধিকাংশই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান। তাদের পাশে সমাজের আরও মানুষ এগিয়ে আসবেন বলে আশা করি। শিক্ষা পেলে এই শিশুরাই একদিন দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের স্বপ্ন পূরণে সামান্য সহযোগিতাও বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা হরেন সরকার বলেন, “কমল দাদার পাঠশালা শুধু একটি শিক্ষা কেন্দ্র নয়, এটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আশার আলো। আর ফারুক হোসেনের মতো মানুষের মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে, সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে শিক্ষার আলো পৌঁছে যেতে পারে সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছেও।

তিনি আরোও বলেন, একটি সংবাদ, একজন মানবিক মানুষ এবং কিছু শিক্ষা উপকরণ—এই তিনের সমন্বয়ে চৌপুকুরিয়ার ছোট্ট পাঠশালায় যেন নতুন করে জেগে উঠেছে স্বপ্নের আলো। আর সেই আলোই হয়তো একদিন বদলে দেবে পিছিয়ে পড়া এসব শিশুর জীবন।

সুলতান মাহমুদ/এসএন

বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা
তিনি এক বছর ছিল বাজারের আপনজন, শেষ বিদায়ে রইল না কোনো স্বজন। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া বাজার এলাকায় প্রায় এক বছর আগে আসেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।

ওইদিন তার সরব উপস্থিতি মুহুর্তেই জানাজানি হয়। কেউ কেউ পাগলী বলে বিরক্ত করেন। কয়েকজন হৃদয়বান মানুষের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। কিছু মানুষ দয়া করে তাকে খেতে দেন। সে খুশি হয়।

মানসিক ভারসাম্যহীন  হলেও মানুষের দয়া আর সহানুভূতি তাকে সন্তুষ্ট করে।

এরপর থেকে সেই বাজারেই অবস্থান করছিলেন সেই মধ্য বয়সি নারী। এভাবে দিনযাপন চলছে।

এক বছর পর হঠাৎ নীরবেই পরপারে চলে গেলেন তিনি। কেউ জানতেই পারলেন না তার পরিচয়।

কোথায় থেকে এলেন। নেই কোন ঠিকানা। পরিচয় অজানা থেকে গেলো। 

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কয়েকদিন থেকেই ওই নারী কিছুটা অসুস্থ ছিলেন।

রবিবার (২১ জুন) সকালে ওয়ালিয়া বাজারে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহতর পরিচয় জানতে পিবিআই অনেক চেষ্টা করলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ওসি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেন, গত এক বছরে বাজারের দোকানি থেকে শুরু করে আশপাশের প্রায় সবাই ওই নারীকে চিনতেন। ধীরে ধীরে তিনি যেন এই জনপদেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন। তাই তার আকস্মিক মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুসংবাদ নয়, নীরবে অনেকের মনেই শোকের রেখা এঁকে দিয়েছে।

জাহিদের ভাষ্য, তার কথাবার্তা, আচার-আচরণে কখনোই মনে হয়নি তিনি পথের মানুষ। বরং মনে হয়েছে, তিনি কোনো সম্মানিত পরিবারেরই সন্তান—যার জন্য কোথাও না কোথাও কেউ অপেক্ষা করে, কেউ দোয়া করে, কেউ হয়তো এখনও খোঁজ করে।

কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! হয়তো তারও আপনজন ছিল, ছিল তাকে ভালোবাসার মানুষ। অথচ তারা জানতেই পারলেন না—তাদের প্রিয় মানুষটি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। তারা তার জানাজায় দাঁড়াতে পারলেন না, শেষবারের মতো মুখটিও দেখতে পারলেন না, বিদায়ের অশ্রুটুকুও ঝরাতে পারলেন না। কিছু বিদায় এমনই নীরব হয়, যেখানে কান্নার শব্দও স্বজনদের কাছে পৌঁছায় না।

কামাল মৃধা/এসএন

ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে ৯ হাজার ৮২৫ পিস ইয়াবাসহ এক নারী যাত্রীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

রবিবার (২১ জুন) সকালে বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশির সময় এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক জেসমিন আক্তার (৩৭) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট এলাকার মৃত হারুন মিয়ার মেয়ে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গোলাম মুর্তুজা জানান, রবিবার সকালে নভোএয়ারের ঢাকাগামী প্রথম ফ্লাইট (ভিকিউ-৯২২) এর এক নারী যাত্রী বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পর তার হোল্ড লাগেজ স্ক্যানিং করা হয়। এ সময় দায়িত্বরত কর্মীরা ব্যাগে সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতির সংকেত পান। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে দেখা যায়, একটি ল্যাপটপ ব্যাগের দুই পাশের শকপ্রুফ ফোমের ভেতরে বিশেষ কৌশলে প্যাকেট সেলাই করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা প্যাকেটগুলো খুলে ৯ হাজার ৮২৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলেই ওই নারী যাত্রীকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবাসহ তাকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার- এর উপপরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, “ওই নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।”

তারেকুর রহমান/এসএন

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ৩০ মিটার বিলীন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ৩০ মিটার বিলীন
ছবি: খবরের কাগজ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে চলেছে। পানির তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বাঁধের অবশিষ্ট অংশ। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা শুরু করেছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে হঠাৎ করে নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। হুমকির মুখে আরও অনেক ফসলি জমি ও বসতভিটা। এ ছাড়া গত কয়েক দিন ধরে জেলার চৌহালী উপজেলায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অনেককে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশে নিচে বসবাস করছেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ৮ জুন থেকে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে নদীর পানি কখনও কমছে আবার কখনও বাড়ছে। এখন বর্ষা মৌসুম। পানি বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় মাত্র ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাহুকা গ্রামের স্থানীয় যুবক মোশারফ হোসেন বলেন, ’হঠাৎ করেই নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে আমরা যারা নদীর কিনারে বসবাস করি তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা আছমত আলী বলেন, নদীর ডান তীরের ব্লক ধসে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে খবর দিলে তারা এসে বালুর বস্তা ফেলে মেরামতের কাজ শুরু করেছে। এর আগে আমাদের অনেক জমিজমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আবারও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে চরম ভয় কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ফলে পানির তীব্র স্রোতে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

সিরাজুল শিশির/খাদিজা রুমি/

চান্দগাঁও বিসিকে দিনদুপুরে ফাঁকা গুলি, যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
চান্দগাঁও বিসিকে দিনদুপুরে ফাঁকা গুলি, যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি
একটি সশস্ত্র দল ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করছে। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকায় আবারও দিনদুপুরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মহড়া দেওয়া ঘটনা ঘটেছে। পরে মোবাইলফোনে যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। ​

শনিবার (২০ জুন) পাঁচ যুবক ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে।

এ ঘটনায়ও দুবাই পালিয়ে থাকা বড় সাজ্জাদ গ্রুপের ক্যাডারদের জড়িত থাকার সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগেও চট্টগ্রামের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গুলি চালিয়ে কয়েকজনকে হত্যা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে শিবির ক্যাডার বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।  

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকার ইয়ুনুস্কো (এসটিএস) গ্রুপের সামনের সড়কে অবস্থান নেয় পাঁচ যুবকের একটি দল। তারা সেখানে আকস্মিকভাবে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে, যুবকরা চাঁদার দাবিতে ইয়ুনুস্কো প্রতিষ্ঠানে ঢোকার আগে হাতে থাকা পিস্তল থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ছে। ​ ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলার প্রার্থী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, ফোনে ওই নেতাকে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘তোকে প্রথমে পায়ে গুলি করব, তোর কোন বাপ তোকে বাঁচায় দেখব।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চান্দগাঁও শিল্প এলাকায় বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনা ঘটে, যা এই অঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ​ 

এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার পাঁচজন সন্ত্রাসী চাঁদার দাবিতে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট যুবদল নেতাসহ ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে তারা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ না পেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।'

আজহার/অমিয়/