আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের মধ্যে ৭২ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে একজন পিএইচডি, তিনজন এমফিল ডিগ্রিধারী রয়েছেন। এমবিবিএস ৫ জন, ৪৮ জন স্নাতকোত্তর, এলএলবি ১৬ জন, স্নাতক ডিগ্রিধারী আছেন ২১ জন প্রার্থী। রয়েছে উল্টো চিত্রও। স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞান প্রার্থীরা আইনপ্রণেতা হতে চান।
১৩০ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রার্থীদের মধ্যে একজন পিএইচডি ও তিনজন এমফিল ডিগ্রিধারী রয়েছেন। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী রয়েছেন পাঁচজন। ৪৮ জন প্রার্থী স্নাতকোত্তর। এলএলবি ১৬ জন (এর মধ্যে বার-অ্যাট ল ৩ জন)। স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে ২১ জনের। ১৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৪ জন উচ্চশিক্ষিত, যা শতকরা হিসাবে ৭২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া এইচএসসি পাস করেছেন ১২ জন। এসএসসি পাস আছেন সাতজন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে একজন লিখেছেন মুফতি, আরেকজন হাফেজে কোরআন, একজন ডিএইচএমএস। উচ্চশিক্ষিত ও শিক্ষিত প্রার্থীর বিপরীতে স্বশিক্ষিত প্রার্থী আছেন ১১ জন।
পিইচডি ডিগ্রিধারী এস এম বেলাল নূর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনে। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মোখতার আহমদ ও চট্টগ্রাম-৭ আসনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ ইকবাল হাছান।
এমবিবিএস ডিগ্রিধারী আছেন পাঁচজন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৭ আসনে এ টি এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে ডা. আবু নাছের, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. এ কে এম ফজলুল হক ও চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা পেশায় চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী। চারজনই জামায়াতদলীয় প্রার্থী। আরেকজন হলেন পটিয়া আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এমদাদুল হাসান।
স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী আছেন ৪৮ জন, যা ১৩০ জন প্রার্থীর ৩৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। স্নাতক ডিগ্রিধারী আছেন ২১ জন, যা ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। এলএলবিবি ডিগ্রিধারী আছেন ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন ডিএইচএমএস ডিগ্রিধারী। পেশায় হোমিও চিকিৎসক। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এইচ এম ইলিয়াছ শিক্ষাগত যোগ্যতা হাফেজে কোরআন। তিনি ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী। চট্টগ্রাম-১৩ আসনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মো. ইমরানের শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন মাওলানা বা মুফতি। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। একজন লিখেছেন দশম শ্রেণি পাস।
বার-অ্যাট ল ডিগ্রিধারী আছেন তিনজন। তিনজনই চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী। তারা হলেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিএনপিদলীয় প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেত্রী সাকিলা ফারজানা।
স্বশিক্ষিত ১১ জন
১১ জন প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞান। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জাপা প্রার্থী মেহেদী হাসান রাশেদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনের জাপা প্রার্থী আবু তাহের, চট্টগ্রাম-১২ আসনের এলডিপি প্রার্থী এম এয়াকুব আলী, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মোহাম্মদ এমরান, আবদুর রব, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ ও মো. নুরুল আনোয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞান।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্যের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। এই যুক্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল, শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া। আশা করছি, ভোটাররা সৎ, শিক্ষিত ও দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ–এমন প্রার্থীদের বিবেচনা করবেন।