বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার এক ফিশিং ট্রলারের মহিউদ্দিন নামে এক মাঝিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে সাগরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জালাল কোম্পানির মালিকানাধীন ‘এফবি ইশফা’ নামক ফিশিং ট্রলারের প্রধান মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অন্য একটি ট্রলারের লোকজনের সঙ্গে মহিউদ্দিন মাঝির বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ ট্রলারের জনৈক আবদুন্নবী মাঝির নেতৃত্বে একদল লোক মহিউদ্দিনের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মহিউদ্দিনকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তাকে চলন্ত ট্রলার থেকে গভীর সাগরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ‘এফবি ইশফা’ বোটের মালিক জালাল কোম্পানি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সা'গরে অতি সামান্য বিষয় নিয়ে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। আবদুন্নবী মাঝি অন্যায়ভাবে আমার বোটের মাঝিকে কুপিয়ে সাগরে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে মহিউদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং নিজস্ব উদ্যোগে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছি।'
এদিকে মহিউদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ কুতুবজোম এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিখোঁজ মাঝির পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে মহিউদ্দিনকে উদ্ধার এবং এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিখোঁজ মাঝির সন্ধানে সাগরে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বোটের মালিক ও ভুক্তভোগীর পরিবার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত আবদুন্নবী মাঝির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ছৈয়দুল করিম/সুমন/