চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের রহস্য উদঘাটনসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ।
তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে অগ্নিসংযোগ করে নাশকতার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করেছে। আগেরদিন সোমবার রাতে পুলিশ এ অভিযান চলায়।
জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় গভীর রাতে কিছু দুর্বৃত্ত কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এতে কিছু বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং কিছু বসতঘর একেবারে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারগুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক বক্তব্য, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর লেখা পাওয়া যায়। রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে ব্যানার টানিয়ে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে প্রাথমিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে জানতে পারে পুলিশ।
এ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত মনির হোসেন, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান এবং মো. পারভেজকে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ওই স্থান থেকে ৪টি ব্যানার, কেরোসিন তেলের কন্টিনার-২টি, কেরোসিন তেলের বোতল-১টি, সিএনজি, কেরোসিন তেলমাখা লুঙ্গি-১টি ও তেলমাখা পুরাতন কালো শার্ট-১টি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার মনিরের বাসা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা-১টি ও মোটরসাইকেল-১টি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন গ্রেপ্তার আসামিরা।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশেল বলেন, নাশতার জন্য দায়ি আসামিদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রথমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে। ধারাবাহিক অভিযানে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। চক্রটির সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে।
সাত্তার/মাহফুজ