চট্টগ্রামের পটিয়ায় চাকরিচ্যুত ব্যাংকার জয়নাল আবেদীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন। হুমকির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা ভাবছেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাকে যে ইতোমধ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে সেটা আপনারাও দেখতে পেয়েছেন। কারা কারা হুমকি দিচ্ছে সেটা আপনারা দেখেছেন। আমি যদি মৃত্যুকে ভয় করতাম, তাহলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতাম না। কারণ তাদের পূর্বপরিচয়, পূর্ব কর্মকাণ্ড সবগুলো সম্পর্কে অবহিত থেকে আমি তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি। আমার গায়ে সুন্নীয়তের রক্ত, আমরা হলাম ওলি আল্লাহর আশেক। আমরা সুন্নীয়তের লোক, ইমাম হোসনের প্রেমিক আমরা। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। মৃত্যু আজকে হলেও হবে, কালকে হলেও হবে। কিন্তু এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি বলেই যাব। আমার ওপর যদি কোনো হামলা হয়, কোনো হত্যাকাণ্ড হয় বা কোনো কিছু হয়–মনে করবেন আপনারা ধ্বংস হয়ে যাবেন। মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে। আমার ওপর যদি কোনো হামলা হয়, তাহলে কমেন্টকারী ব্যক্তি আবরার হোসেন মোফাস্সেল আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে। পাশাপাশি যার সঙ্গে গতকাল আমার তর্কাতর্কি হয়েছে সেই নাসিরুদ্দিন (পটিয়া পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড তালুকদার বাড়ি) দায়ী থাকবে। আমার ওপর যদি কোনো প্রকার হামলা হয়, তাহলে তার জন্য পটিয়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ফরিদুল আলম দায়ী থাকবেন।’
জানা যায়, গত শনিবার দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন জয়নাল আবেদীনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভোট চাইতে যান। তাদের জয়নাল বলেন, ‘৫ তারিখ শেখ হাসিনা পালানোর পর ৮ তারিখে আমাদের নিয়োগ বাতিল করেছে জামায়াত। দলটি ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে, আপনাদের লজ্জা-শরম নাই ভোট চাইতে আসেন! ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি চাকরি খেয়ে ফেলেছে। আমি ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে ছিলাম, আমার চাকরি খেয়েছে মন্নান। আপনারা এখান থেকে বেরিয়ে যান, পাড়ার মধ্যে ঢুকবেন না। চলে যান, অন্যথায় ঝাড়ু দিয়ে বাড়ি দেব।’
এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হলে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
পরে নিরাপত্তা চেয়ে জয়নাল আবেদীনের দেওয়া আরেকটি ভিডিওতে আবরার হোসেন মোফাস্সেল আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়– ‘তুই যেকোনো মুহূর্তে মারা পড়তে পারিস, তুই এখন ক্যামেরার চোখে। তোর পেছনে গোয়েন্দা শুরু, কলেমা পড়ে বাইরে বের হবি।’
বাহারুল আলম আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়– ‘তোরে অপুত খেলি দিবু মনে রাখিস।’