ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। ব্যস্ত সময় পার করেছেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের প্রার্থীরা। শেষ দিনে ভোটারদের মন জয় করতে দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে দেশের সর্ব দক্ষিণের সীমান্তবর্তী কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া নিয়ে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে ভিন্ন মত দেখা গেছে।
জানা গেছে, প্রচার শেষ হওয়ায় এখন অপেক্ষা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের। নির্বাচনী আমেজে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পের বাইরে পাওয়া রোহিঙ্গাদের আটক করে ক্যাম্পে পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সারা দেশের মানুষ বিএনপির ওপর ভরসা রাখে। উখিয়া-টেকনাফের মানুষ নাফ নদী ও পাহাড়ে যেতে পারছে না। এসব সমস্যার সমাধান বিএনপি ছাড়া আর কেউ করতে পারবে বলে জনগণ মনে করে না। যোগ্যতার কারণে মানুষ বিএনপি ও ধানের শীষকে বেছে নিয়েছে। আমি দেখছি, ভোটাররা অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। উখিয়া-টেকনাফে বিএনপির বড় সংগঠন রয়েছে। আমার নেতাকর্মীরাই আমার জন্য ভোট করবে। ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। কেউ কারচুপির চেষ্টা করলে পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী হতে পারে।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন বিশ্ব দেখতে পায় বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমি ভোট ডাকাতি করে এমপি হইনি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র তেমন দেখছি না। তবে টাকার বিনিময়ে ভোট দেওয়া একটি অপরাধ, সেটিও বন্ধ হওয়া উচিত।
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের জন্য আমরা প্রার্থী ও কর্মীরা আমাদের মতো প্রস্তুতি নিয়েছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের মতো প্রস্তুত। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে কিনা এবং শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোট হবে কিনা, তা নিয়ে আমাদের পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু কেন্দ্রের তথ্য আমরা সরকারকে দিয়েছি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এমন তথ্য দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিক হলে সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায়। তবে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দূর করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, এখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ আছে। খুন, গুমসহ নানা অপরাধ ঘটছে। যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তাই সরকার ও প্রশাসন যেন উখিয়া- টেকনাফে বিশেষ নজর দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা নেয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মিলে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্র জানা যায়, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হককে কিছু কিছু এলাকায় প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদের তেমন কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমেদ আনোয়ারী এবং বিএনপির প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী নিয়মিত পথসভা ও জনসভা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ সংসদীয় আসনে অন্তর্ভুক্ত উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন।
এর মধ্যে টেকনাফ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৬৫৫ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার ৯৮ হাজার ৮৯৭ জন। টেকনাফ উপজেলায় রয়েছে ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা।
অপরদিকে উখিয়া উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৭০ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার ৮৩ হাজার ৬৫৪ জন। উখিয়া উপজেলায় রয়েছে ৫টি ইউনিয়ন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে টেকনাফ উপজেলায় মোট ভোটার ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২৩ জন ও উখিয়া উপজেলায় ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৭ জন।
সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে জয় প্রত্যাশা করছেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সব প্রার্থীরা।
শাহীন/মাহফুজ