কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ফজলুর রহমান বলেছেন, শত নির্যাতন ও নানা অসুবিধা সত্ত্বেও যারা তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, তাদের প্রতি তিনি সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ইটনা উপজেলার বড়হাটি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, “আমার এলাকার জনগণ যারা শত নির্যাতন সহ্য করে, শত অসুবিধার মধ্যেও আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন—তাদের প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নে যা কিছু করা প্রয়োজন, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি তা করার চেষ্টা করবেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার ভূমিকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যখন নিশ্চুপ ছিল ভয়ে, ভীতির কারণে কিংবা স্বার্থের কারণে—তখন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চকণ্ঠে কথা বলেছি।”
এ সময় তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধ, মানুষের মুক্তি, অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, মানুষের মৌলিক চাহিদা, চাকরি ও কর্মসংস্থানের পক্ষে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা থেকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও সরে দাঁড়াবেন না। বরং আরও সাহসিকতার সঙ্গে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরবেন এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।
ফজলুর রহমান তার দল বিএনপি, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতৃবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলের পক্ষে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তিনি ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, “আমি জানতে পেরেছি সরকারি ভাবে আমার নাম নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কারণে আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”
নির্বাচনি ফলাফল অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমান ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. রোকন রেজা শেখ (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮২৯ ভোট। এছাড়া নির্বাচনে বাকি ছয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
তাসলিমা/মাহফুজ