ভোলায় পবিত্র রমজানকে ঘিরে বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে বোতলজাত সয়াবিন প্রায় উধাও। অনেক দোকানে খোঁজ করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ব্র্যান্ডের তেল। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খোলা সয়াবিন তেল স্বাভাবিক দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছেন। ফলে বিপাকে সাধারণ ভোক্তারা।
শুধু তেল নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দামও লাগামহীন। বাজারে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। শসা, বেগুন, করলা ও কাঁচা মরিচের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মুরগির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। গত এক সপ্তাহে কোনো কোনো পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
তবে রমজানের প্রথম দিনের তুলনায় পেঁয়াজ, আলু ও টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে।
জেলা শহরের বাজারে কিছুটা সহনীয় দাম থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ের হাট-বাজারে অধিকাংশ পণ্যই বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে পণ্য কেনায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
রমজান সংযমের মাস হলেও নিত্যপণ্যের বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব নেই। উল্টো বাড়তি দামের কারণে সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন ক্রেতারা।
ভোলা কাঁচাবাজারে সয়াবিন তেল কিনতে আসা মোকাম্মেল মিশু বলেন, ‘রমজানে পরিবারের খরচ এমনিতেই বেড়ে যায়। তার ওপর তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় আমাদের কষ্ট হচ্ছে। রমজানের আগে খোলা সয়াবিন তেল কিনেছি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। রমজান শুরু হতে না হতে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। খোলা বিক্রি হচ্ছে ২১৫ থেকে ২২০ টাকায়। এভাবে চললে হবে?’
আরেক ক্রেতা তপু তালুকদার বলেন, ‘রোজায় লেবু, শশার পাশাপাশি সবজির চাহিদা বাড়ে। তাই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সবকিছু বাড়তি দামে বিক্রি করে। যেমন আজ করলা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, বেগুন ৮০ টাকায়। এই লাগামহীন বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে দ্রুত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন।’
এদিকে আবুল কাশেম নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘পাইকারি বাজারেই তেলের সরবরাহ কম। আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। ডিলারা বোতলজাত তেল দিচ্ছে না। খোলা তেলও চাহিদার তুলনায় কম দিচ্ছে।’
এদিকে রমজান উপলক্ষে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুদদার ও সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দ্য মন্ডল বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমতিয়াজুর রহমান/অমিয়/